বিশ্বকাপে ব্যর্থতায় এমবাপ্পের আত্মসমালোচনা

বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে কৌশলগত ব্যর্থতার দায় স্বীকার করলেন ফ্রান্স অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে। বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল থেকে বিদায়ের পর অকপটে জানালেন, টেকনিক্যাল ও ট্যাকটিক্যাল-দুই দিকেই স্পেনের চেয়ে পিছিয়ে ছিল ফ্রান্স।

বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে স্পেনের কাছে ২-০ গোলে হেরে শিরোপার স্বপ্ন শেষ হয়েছে ফ্রান্সের। তবে স্কোরলাইন যতটা বলছে, মাঠের বাস্তবতা ছিল তার চেয়েও কঠিন। পুরো ম্যাচজুড়ে বলের নিয়ন্ত্রণ, ছন্দ এবং কৌশলগত শ্রেষ্ঠত্বে ফরাসিদের ছাপিয়ে যায় স্পেন। ম্যাচ শেষে সেই বাস্তবতাই স্বীকার করেছেন ফ্রান্স অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে।

এমবাপ্পে বলেন, শুরু থেকেই ফ্রান্সের প্রেসিং পরিকল্পনা কার্যকর হয়নি। দুই খেলোয়াড়কে ঠেকাতে তিনজন নিয়ে চাপ তৈরির কৌশলে স্পেনের মাঝমাঠ সহজেই ফাঁকা জায়গা খুঁজে নেয়। বিশেষ করে ফাবিয়ান রুইস ও রদ্রি পর্যাপ্ত সময় পেয়ে খেলার নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখেন। তার মতে, ম্যান-টু-ম্যান প্রেসিং করলে প্রতিপক্ষকে আরও বেশি চাপে রাখা সম্ভব হতো।

ম্যাচে বলের দখলে দুই দলের ব্যবধান খুব বেশি ছিল না। স্পেনের দখলে ছিল ৫১ শতাংশ এবং ফ্রান্সের ৪৯ শতাংশ। তবে পরিসংখ্যানের বাইরে মাঠে স্পেনের সংগঠিত ফুটবল এবং কৌশলগত শৃঙ্খলার সামনে কার্যত অসহায় দেখিয়েছে ফ্রান্সকে।

এমবাপ্পে স্বীকার করেন, ফ্রান্স নিজেদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেনি। তার ভাষায়, বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের মতো বড় ম্যাচে কোনো দল যদি বুঝতেই না পারে কীভাবে খেলতে হবে, তাহলে জয় পাওয়ার সুযোগ থাকে না। অন্যদিকে স্পেন নিজেদের পরিকল্পনায় অটল থেকে বলের গতি ও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে।

ফরাসি অধিনায়ক আরও বলেন, প্রতিপক্ষের ওপর উচ্চ প্রেসিং করে তাদের স্বাভাবিক ছন্দ নষ্ট করার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু মাঠে সেই পরিকল্পনার বাস্তবায়ন হয়নি। উল্টো কৌশলগত সমন্বয়ের অভাবে সুযোগ তৈরি হলেও তা কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়েছে ফ্রান্স।

শুধু কৌশল নয়, নিজেদের পারফরম্যান্স নিয়েও হতাশ এমবাপ্পে। তিনি বলেন, বল পুনরুদ্ধারের পর প্রথম স্পর্শগুলোও মানসম্মত ছিল না। ছোট ছোট ভুলের কারণেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ বারবার হাতছাড়া হয়েছে। তার মতে, ফাইনালে ওঠার জন্য যে মান ও ধারাবাহিকতা প্রয়োজন, তা এই ম্যাচে দেখাতে পারেনি ফ্রান্স।

এই আসরে আট গোল নিয়ে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে শীর্ষে থাকা এমবাপ্পেও স্পেনের বিপক্ষে গোল করতে পারেননি। ম্যাচের শেষ দিকে গোলরক্ষক উনাই সিমনের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে হলুদ কার্ডও দেখেন তিনি। তবে ম্যাচ শেষে আবেগ নয়, আত্মসমালোচনাকেই গুরুত্ব দিয়েছেন এই ফরোয়ার্ড।

অধিনায়ক হিসেবে দলের ব্যর্থতার দায় নিজের কাঁধে তুলে নিয়ে এমবাপ্পে বলেন, ফাইনালে ওঠাই ছিল তাদের লক্ষ্য। সেই লক্ষ্য পূরণ হয়নি এবং এর দায়িত্ব এড়ানোর সুযোগ নেই। তার মতে, কঠিন এই পরাজয় থেকেই শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতের জন্য আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরতে হবে ফ্রান্সকে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

spot_imgspot_img
spot_img

Hot Topics

Related Articles