বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে স্পেনের কাছে ২-০ গোলে হেরে তৃতীয় টানা ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন শেষ হয়েছে ফ্রান্সের। ম্যাচ শেষে নিজের দলের পারফরম্যান্স নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন প্রধান কোচ দিদিয়ের দেশম। তাঁর মতে, গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে ফ্রান্স নিজেদের স্বাভাবিক মানের ধারেকাছেও যেতে পারেনি।
দেশম বলেন, ‘জয়ের আশা করতে হলে আমাদের সেরাটা খেলতে হতো। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমরা তা পারিনি।’
ম্যাচের শুরুতেই মিকেল ওইয়ারসাবালের পেনাল্টি গোলে এগিয়ে যায় স্পেন। দ্বিতীয়ার্ধে দানি ওলমোর বাড়ানো বল থেকে পেদ্রো পোরো ব্যবধান দ্বিগুণ করলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নরা।
পরিসংখ্যান স্পেনের দিকে
পরিসংখ্যানও স্পেনের আধিপত্যের কথাই বলছে। পোরোর গোলের সময় পর্যন্ত স্পেন ৮টি শট নিলেও ফ্রান্স নিতে পেরেছিল মাত্র ২টি। পুরো ম্যাচে ফ্রান্সের ১০টি শটের মধ্যে লক্ষ্যে ছিল মাত্র তিনটি, আর প্রতিপক্ষের গোলমুখে কার্যকর আক্রমণ গড়ে তুলতে তারা বারবার ব্যর্থ হয়েছে। দেশমের মতে, স্পেনের শক্তিশালী রক্ষণ এবং নিজেদের কারিগরি ভুলই ফ্রান্সের সর্বনাশ ডেকে এনেছে।
তিনি বলেন, ‘স্পেন অসাধারণভাবে রক্ষণ সামলেছে। তারা আমাদের খুব কম জায়গা দিয়েছে। তার ওপর আমরা পাসিং ও বল নিয়ন্ত্রণে অনেক ভুল করেছি। ফলে তাদের বিপদে ফেলার মতো পরিস্থিতি তৈরি করতে পারিনি। আগের ম্যাচগুলোর তুলনায় আমাদের খেলার মান অনেক নিচে নেমে গিয়েছিল।

বিশ্বকাপে এর আগে কিলিয়ান এমবাপ্পে, উসমান দেম্বেলে ও মাইকেল অলিসে মিলে ১৩ গোল ও ১০টি অ্যাসিস্ট করেছিলেন। কিন্তু স্পেনের বিপক্ষে এই ত্রয়ী পুরো ম্যাচে মাত্র পাঁচটি শট নিতে পেরেছে, যার প্রত্যাশিত গোল ছিল মাত্র ০.১৫।
স্পেনের প্রশংসা
স্পেনের প্রশংসা করে দেশম বলেন, ‘তাদের পাসিং, সমন্বয় এবং খেলা পড়ার ক্ষমতা অসাধারণ। তারা আমাদের প্রতিটি আক্রমণ আগেভাগেই থামিয়ে দিয়েছে। অবশ্যই আমাদেরও দোষ ছিল, তবে প্রতিপক্ষের কৃতিত্বও স্বীকার করতে হবে।’
তবে ম্যাচের রেফারি ইভান আরসিদেস বার্তন সিসনের পারফরম্যান্স নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ফরাসি কোচ। প্রথমার্ধে লামিন ইয়ামালের ওপর লুকা দিনিয়ের ফাউলের ঘটনায় স্পেন যে পেনাল্টি পায়, সেটি নিয়ে অসন্তুষ্ট ছিলেন তিনি।
দেশম বলেন, ‘এখন কিছু বললে মনে হবে হেরে গিয়ে অজুহাত দিচ্ছি। কিন্তু আপনারাই বলুন, একজন সেমিফাইনালের রেফারির কি এই মানের হওয়া উচিত? শুধু পেনাল্টির সিদ্ধান্ত নয়, আরও কিছু বিষয় ছিল।’
এই পরাজয়ে টানা তিনটি বিশ্বকাপ ফাইনালে ওঠার বিরল সুযোগ হাতছাড়া হয়েছে ফ্রান্সের। এর আগে এই কীর্তি গড়তে পেরেছে শুধু পশ্চিম জার্মানি ও ব্রাজিল। তবে দেশম মনে করিয়ে দিয়েছেন, গত তিনটি বিশ্বকাপেই ফ্রান্স সেমিফাইনাল খেলেছে এবং ধারাবাহিকভাবে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা দল হিসেবেই নিজেদের প্রমাণ করেছে।
তিনি বলেন, ‘এই একটি ম্যাচ আমাদের আগের সব অর্জনকে মুছে দিতে পারে না। স্পেন আমাদের ভুল করতে বাধ্য করেছে। বিশ্বকাপ সেমিফাইনালের মতো বড় মঞ্চে সর্বোচ্চ পর্যায়ে না খেললে এমন শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে জেতা সম্ভব নয়।’
এদিকে শনিবার তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচের পরই শেষ হবে দেশমের ১৪ বছরের কোচিং অধ্যায়। এরপর ফ্রান্সের দায়িত্ব নেওয়ার কথা কিংবদন্তি জিনেদিন জিদানের।


