আটালান্টাকে থামিয়ে শীর্ষ চারে এসি মিলান

জয়টা প্রায় নিশ্চিতই মনে হচ্ছিল। ৩-০ গোলে এগিয়ে থাকা এসি মিলান তখন স্বস্তিতে। কিন্তু শেষ দিকে দুই গোল করে ম্যাচে রোমাঞ্চ ফিরিয়ে আনে আটালান্টা। ব্যবধান কমিয়ে স্বাগতিকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেললেও শেষ পর্যন্ত সমতায় ফেরার সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি সফরকারীরা। সান সিরোয় ৩-২ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে এসি মিলান।

তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার পর পাওয়া এই জয়ে ইতালিয়ান সেরি আ-র পয়েন্ট তালিকায় চতুর্থ স্থানে উঠে এসেছে দলটি। কোচ রুবেন আমোরিমের অধীনে লিগে নিজেদের প্রথম সাত ম্যাচেই অপরাজিত থাকার কৃতিত্বও ধরে রেখেছে তারা।

বৃহস্পতিবার ইউরোপা লিগে আরবি সালজবুর্গকে তাদের মাঠে ৪-০ গোলে হারিয়েছিল মিলান। সেই আত্মবিশ্বাস নিয়েই আটালান্টার বিপক্ষে মাঠে নামে তারা। ম্যাচের শুরুতেই ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিচের কাছ থেকে গোল পেয়েছিল স্বাগতিকেরা। তবে ভিডিও সহকারী রেফারির (ভিএআর) পর্যালোচনায় অফসাইডের কারণে বাতিল হয়ে যায় গোলটি।

পেনাল্টি থেকে এগিয়ে মিলান

এরপর ২৪ মিনিটে পেনাল্টি থেকে এগিয়ে যায় মিলান। সতীর্থ ইউনুস মুসাহর শট ঠেকাতে গিয়ে হাত দিয়ে বল আটকে দেন আটালান্টার বদলি খেলোয়াড় রেলজা ওব্রিচ। কিছুক্ষণ আগেই চোট পাওয়া সেয়াদ কোলাশিনাচের বদলি হিসেবে মাঠে নেমেছিলেন তিনি। লিগে অভিষেকের ম্যাচেই এমন ঘটনায় পেনাল্টি উপহার দেয় আটালান্টা। পেনাল্টি থেকে গোল করতে ভুল করেননি গনসালো রামোস। আটালান্টার গোলরক্ষক মার্কো কারনেসেক্কিকে ভুল দিকে পাঠিয়ে বল জালে জড়ান তিনি।

আটালান্টাকে থামিয়ে শীর্ষ চারে এসি মিলান
ব্যবধান কমিয়ে উত্তেজনা বাড়ালেও শেষ পর্যন্ত তৃতীয় গোল আর পাওয়া হয়নি আটালান্টার

প্রথমার্ধের শেষ দিকে ব্যবধান দ্বিগুণ করে মিলান। দিয়েগো মোরেইরার কাছ থেকে বল পেয়ে বক্সের প্রান্তে জায়গা তৈরি করেন আদ্রিয়েন রাবিও। এরপর নিচু শটে বল পাঠিয়ে দেন জালের কোণে। বিরতির ঠিক আগে পাওয়া এই গোল স্বাগতিকদের এগিয়ে দেয় আরও স্বস্তিদায়ক অবস্থানে।

সুযোগ পেয়ে ব্যর্থ এসি মিলান

দ্বিতীয়ার্ধে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ আসে আবারও। ৫৬ মিনিটে রাবিওর ভলিতে থমাস ক্রিস্টেনসেনের হাতে বল লাগলে ভিএআরের সাহায্যে পেনাল্টি দেন রেফারি। কিন্তু এবার রামোসের শট ঠেকিয়ে দেন কারনেসেক্কি। দ্বিতীয় পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন মিলানের এই ফরোয়ার্ড। তবে সেই হতাশা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। কর্নার থেকে রাবিওর বাড়ানো বলের ফ্লিকে পেছনের পোস্টে হেড করে গোল করেন মারিও গিলা। ৬০ মিনিটের কাছাকাছি সময়ে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়ে জয়ের পথ অনেকটাই পরিষ্কার করে ফেলে মিলান।

তবে ৬৬ মিনিটে বদলি হিসেবে নামা জিয়ানলুকা গায়েতানো বক্সের মধ্যে দারুণ নিয়ন্ত্রণে বল সামলে ব্যবধান কমান। ম্যাচের শেষ দিকে, ৮১ মিনিটের কাছাকাছি সময়ে দ্রুত পাল্টা আক্রমণ থেকে নিকোলা ক্রস্তোভিচের গোল ব্যবধান নামিয়ে আনে ৩-২-এ।

হঠাৎ করেই জমে ওঠে ম্যাচ। তিন গোলে পিছিয়ে থাকা আটালান্টা তখন সমতার আশায় মরিয়া। শেষ দিকে মিলানের রক্ষণে চাপও তৈরি করে তারা। কিন্তু আমোরিমের দল শেষ পর্যন্ত নিজেদের স্নায়ু ধরে রাখে। শেষ বাঁশি বাজার আগপর্যন্ত ব্যবধান অক্ষুণ্ন রেখে গুরুত্বপূর্ণ তিন পয়েন্ট নিশ্চিত করে স্বাগতিকেরা।

spot_imgspot_img
spot_img

Related Articles