কেপ ভার্দের বীরত্বে নির্ধারিত সময়ে ১-১ গোলের সমতায় আর্জেন্টিনা

কেপ ভার্দের বীরত্বে নির্ধারিত সময়ে ১-১ গোলের সমতায় আর্জেন্টিনা

কেপ ভার্দের বীরত্বে নির্ধারিত সময়ে ১-১ গোলের সমতায় আর্জেন্টিনা

চলতি ফুটবল বিশ্বকাপের ‘রাউন্ড অব ৩২’এর মঞ্চ যেন রূপ নিয়েছে এক চরম রোমাঞ্চ আর নাটকের মহাকাব্যে। ডালাসে মিশর-অস্ট্রেলিয়ার হাইভোল্টেজ ম্যাচের পর এবার মায়ামির মাঠেও একই নাটকের পুনরাবৃত্তি। ফেবারিটের তকমা নিয়ে মাঠে নামা বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে নির্ধারিত ৯০ মিনিটে ১-১ গোলে রুখে দিয়েছে পুচকে কেপ ভার্দে। লিওনেল মেসির রেকর্ড গড়া গোলের পরও ব্লু শার্কসদের ইস্পাতকঠিন মনোবলের কাছে নির্ধারিত সময়ে জয় অধরাই রয়ে গেল আলবিসেলেস্তেদের। যেহেতু , কেপ ভার্দের বীরত্বে নির্ধারিত সময়ে ১-১ গোলের সমতায় আর্জেন্টিনা রাউন্ড অফ সিক্সটিনের টিকিট নিশ্চিতের লড়াই এখন গড়াচ্ছে ৩০ মিনিটের অতিরিক্ত সময়ে।

প্রথমার্ধে মেসির জাদুকরী রেকর্ড ও আর্জেন্টিনার লিড

ম্যাচের শুরু থেকেই মায়ামি স্টেডিয়ামের গ্যালারি ছিল আর্জেন্টাইন সমর্থকদের দখলে। তবে মাঠের লড়াইয়ে আর্জেন্টিনাকে শুরু থেকেই কঠিন পরীক্ষা নিচ্ছিল কেপ ভার্দে। সুসংহত রক্ষণভাগ দিয়ে তারা লিওনেল মেসি ও লাউতারো মার্তিনেসদের একের পর এক আক্রমণ নস্যাৎ করে দিচ্ছিল।

ম্যাচের ২৫ মিনিটে অফিশিয়াল হাইড্রেশন ব্রেকের আগ পর্যন্ত আলবিসেলেস্তেরা ফরোয়ার্ডদের পুরোপুরি বোতলবন্দী করে রেখেছিল তারা।

তবে বিরতি থেকে ফিরেই খেই হারায় কেপ ভার্দের রক্ষণভাগ। আর সেই সুযোগেই জ্বলে ওঠেন ফুটবল জাদুকর লিওনেল মেসি। ২৯ মিনিটে মার্তিনেসের বাড়ানো পাস দারুণ টেকনিকে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে, ডিফেন্ডারদের বোকা বানিয়ে বিশ্বমানের এক ফিনিশিংয়ে বল জালে জড়ান আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।

এটি ছিল চলতি বিশ্বকাপে মেসির সপ্তম গোল। একই সাথে বিশ্বকাপের ইতিহাসে ১৪টি ভিন্ন দেশের বিরুদ্ধে গোল করার অনন্য এক বিশ্বরেকর্ড গড়েন তিনি। মেসির এই নান্দনিক গোলের ওপর ভর করেই ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে প্রথমার্ধ শেষ করে আর্জেন্টিনা।

দ্বিতীয়ার্থের শুরুতেই দুয়ার্তের গোল: স্তব্ধ বিশ্ব ফুটবল

১ গোল খেয়ে পিছিয়ে পড়লেও দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসে কেপ ভার্দে। সমতায় ফিরতে মরিয়া ‘ব্লু শার্কস’রা একের পর এক আক্রমণ চালাতে থাকে আর্জেন্টিনার বক্সে। ম্যাচের ঠিক পরেই আসে সেই অবিস্মরণীয় মুহূর্ত, যা পুরো ফুটবল বিশ্বকে স্তব্ধ করে দেয়।

৫৯ মিনিটে কেপ ভার্দের মিডফিল্ডার দেরয় দুয়ার্তে বক্সের বাইরে থেকে এক বুলেট গতির কোণাকুণি শটে পরাস্ত করেন আর্জেন্টিনার বিশ্বস্ত গোলরক্ষক ‘দিবু’ মার্তিনেসকে। বল পোস্টের নিচের কোণা দিয়ে জালে জড়াতেই মায়ামি স্টেডিয়ামের এক কোণায় মেতে ওঠে কেপ ভার্দের সমর্থকদের বন্য উল্লাস। এই গোলের সুবাদে ১-১ সমতায় ফেরে ম্যাচ।

আলবিসেলেস্তেদের আক্রমণের ঝড় ও কেপ ভার্দের প্রতিরোধ

ম্যাচ বাঁচানোর মরিয়া চেষ্টা: সমতা ফেরার পর ম্যাচটিকে অতিরিক্ত সময়ে নিয়ে যাওয়া এড়াতে মরিয়া হয়ে ওঠে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ম্যাচের শেষ ২৫ মিনিটে কেপ ভার্দের ওপর আক্রমণের জোয়ার বইয়ে দেয় আর্জেন্টিনা। একের পর এক আক্রমণ সামলাতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে কেপ ভার্দের ডিফেন্ডাররা। কিন্তু গোললাইনের সামনে প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়ে আর্জেন্টিনার সমস্ত প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দেয় ব্লু শার্কসরা।

রোমাঞ্চ এখন অতিরিক্ত সময়ে

নির্ধারিত ৯০ মিনিটের তীব্র লড়াই শেষে ১-১ সমতা থাকায় ম্যাচটি এখন অতিরিক্ত সময়ে গড়াচ্ছে। নকআউটের এই মঞ্চে এখন দুই দলের সামনেই সমীকরণ স্পষ্ট, এক মুহূর্তের অসতর্কতা মানেই বিশ্বকাপ থেকে বিদায়। অতিরিক্ত ৩০ মিনিটেও যদি কোনো দল গোল করতে না পারে, তবে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হবে পেনাল্টি শুট-আউটের স্নায়ুযুদ্ধে। এই ম্যাচের জয়ী দলই ‘রাউন্ড অব ১৬’-এর মঞ্চে মুখোমুখি হবে আফ্রিকার পরাশক্তি মিশরের।

Exit mobile version