ইমাম আশুরের গোলে ম্যাচের ১৩ মিনিটে এগিয়ে যায় মিশর কিন্তু ৫৫তম মিনিটে দলটার ডিফেন্ডার মোহাম্মদ হানি আত্নঘাতি গোল করলে সমতায় ফেরে অস্ট্রেলিয়া। পরে নির্ধারিত সময় আর কোন গোল না হওয়ায় খেলা গড়ায় অতিরিক্ত সময়েও। সেখানেও কোন দল আর গোল পায়নি। ফলাফল নির্ধারণী টাইব্রেকারে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে শেষ ষোলতে মিশর অর্থাৎ রাউন্ড অফ সিক্সটিনে যায়গা করে নিলো মোহাম্মদ সালাহ এর মিশর।
এর আগে দীর্ঘ ৯২ বছরের আক্ষেপ ঘুচিয়ে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে মিশরের প্রত্যাবর্তনটা যে এতটা নাটকীয় হবে, তা হয়তো চরম ফুটবল রোমান্টিকরাও ভাবেননি। ডালাসের ঐতিহ্যবাহী স্টেডিয়ামে ফিফা বিশ্বকাপের ‘রাউন্ড অব ৩২’-এর ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল অস্ট্রেলিয়া ও মিশর। নির্ধারিত ৯০ মিনিটের দমবন্ধ করা ফুটবল যুদ্ধ শেষে ম্যাচটি ১-১ গোলে সমতায় শেষ হয়েছে। ফলে শেষ ষোলর টিকিট নিশ্চিতের লক্ষ্যে ম্যাচ গড়ায় ৩০ মিনিটের অতিরিক্ত সময়ে।
প্রথমার্ধে আশুরের গোল, উল্লাসে মাতে মিশর
ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দল আক্রমণ-প্রতিআক্রমণে মেতে ওঠে। তবে প্রথম সাফল্য পায় ফারাওরা। খেলার ১৩ মিনিটে বক্সের ঠিক বাইরে ফ্রি-কিক পায় মিশর। দলের প্রাণভোমরা মোহামেদ সালাহর চতুর ছোট পাস খুঁজে নেয় ইমাম আশুরকে। অস্ট্রেলিয়ার ডিফেন্ডারদের গায়ে লেগে বলটি রিবাউন্ড হলে, সেখান থেকে আসা ক্রসে দূরবর্তী পোস্টে (ফার-পোস্ট) নিখুঁত হেডে বল জালে জড়ান আশুর। এই ১-০ ব্যবধানের লিড ধরে রেখেই প্রথমার্ধ শেষ করে মিশর।
হানির ট্র্যাজেডিতে সমতায় ফেরে সকারুজরা
দ্বিতীয়ার্ধে চেনা আক্রমণাত্মক রূপে ফেরে ক্যাঙ্গারুর দেশ অস্ট্রেলিয়া। সমতায় ফিরতে মরিয়া সকারুজরা ম্যাচের ৫৫ মিনিটে একটি বিপজ্জনক ফ্রি-কিক পায়। এইডেন ও’নিলের নেওয়া সেই ফ্রি-কিকটি ক্লিয়ার করতে গিয়ে নিজেদের ডি-বক্সে মারাত্মক ভুল করে বসেন মিশরের অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার মোহাম্মদ হানি। তার হেডে বল চলে যায় নিজেদের জালে। এই আত্মঘাতী গোলের সুবাদেই ম্যাচে ১-১ সমতায় ফেরে অস্ট্রেলিয়া।
ম্যাচের শেষ মুহূর্তে সুটারের ‘অলৌকিক’ সেভ
ম্যাচ বাঁচানো ব্লক: নির্ধারিত ৯০ মিনিটের একেবারে শেষ মুহূর্তে নিশ্চিত জয়ের হাতছানি ছিল মিশরের সামনে। ফারাও উইঙ্গার হাইসেম হাসান অস্ট্রেলিয়ার রক্ষণভাগ গুঁড়িয়ে দিয়ে বক্সের কোণা থেকে একটি বুলেট গতির শট নেন। বলটি যখন জালের নিচের কোণা দিয়ে ভেতরে ঢুকছিল, ঠিক তখনই প্রাচীর হয়ে দাঁড়ান অস্ট্রেলিয়ার দীর্ঘদেহী ডিফেন্ডার হ্যারি সুটার। চিতার মতো ক্ষিপ্রতায় লাফিয়ে নিজের হাঁটু দিয়ে বলটি ব্লক করেন তিনি। সুটারের এই অবিশ্বাস্য আত্মত্যাগের কারণেই হার এড়ায় অস্ট্রেলিয়া।
অতিরিক্ত সময়ে গোল পায়নি কোন দল
৩০ মিনিটের অতিরিক্ত সময়ে কোন দলই পরিপূর্ণ আক্রমণে যাওয়ার চেষ্টা করেনি। অপেক্ষায় ছিলো টাইব্রেকারের। দুই একবার যে আক্রমণ হয়েছে সেটিও ছিলো ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী। টাইব্রেকারের জন্য অস্ট্রেলিয়ার প্রস্তুতিটাই যেন বেশি ছিলো। তারা বদলি গোলরক্ষকও মাঠে ণামায়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পরাজয় নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় তাদের।
স্কোর কার্ড
বিশ্বকাপ ২০২৩














