চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালে অ্যাটলেটিকোকে ঠেকিয়ে আর্সেনালের স্বস্তি পাওয়ার যথেষ্ট কারণ আছে। প্রথম লেগের এই ম্যাচটি আজ রাতে অনুষ্ঠিত হয়েছে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের মাঠ রিয়াদ এয়ার মেট্রোপলিটানো স্টেডিয়ামে। সেটি ১-১ গোলে ড্র করেছে আর্সেনাল। দ্বিতীয় লেগ তারা খেলার সুযোগ পাবে নিজেদের মাঠে।
১-১ সমতায় দুর্বার অ্যাটলেটিকোকে ঠেকিয়ে আর্সেনালের স্বস্তি বড় চ্যালেঞ্জেই ফেলে দেবে ডিয়েগো সিমিওনের দলকে। গানারদের মাঠে হার ঠেকাতে হবে ফাইনালে ওঠার জন্য। জয়ের কোনো বিকল্প নেই।
আগের দিন প্রথম সেমির লড়াইয়ে গোলবন্যা হয়েছে। দুই দলের আক্রমণভাগের দাপটে কোণঠাসা ছিলেন রক্ষণভাগের খেলোয়াড় ও গোলরক্ষকেরা। কিন্তু এদিন অ্যাটলেটিকো-আর্সেনাল ম্যাচ যেন উদ্দেশ্যহীন ও সাদামাটাই মনে হয়েছে।
শুরু থেকেই সমানে-সমান লড়াই হয়েছে। বল দখলেও কেউ একক আধিপত্য দেখাতে পারেনি। বরং স্বাগতিক রোজি ব্লাংকোদেরই কিছুটা চাপে রেখেছিল আর্সেনাল। তবে অগোছালো আক্রমণ থেকে গোল আসেনি।
শেষ পর্যন্ত পেনাল্টিতেই এগিয়ে যায় সফরকারী আর্সেনাল। মিকেল আরতেতার দল প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগ মুহূর্তে ভিক্টর গিওকেরেসের পেনাল্টিতে এগিয়ে যায় (১-০)। এই পিছিয়ে পড়াতে মাদ্রিদের দর্শকরা হতবিহ্বল হয়ে যায়।
অবশ্য দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই সেই বিহ্বলতা কাটিয়ে উঠে সিমিওনের শিষ্যদের উৎসাহ দিতে থাকেন দর্শকরা। এতেই যেন চাঙা হয়ে ওঠে অ্যাটলেটিকো। ৫৩ মিনিটে তাদের একটি জোরালো আক্রমণ দেখা যায়। বক্সের ভেতর লরেন্তের শট হাতে লাগে আর্সেনালের বেন হোয়াইটের হাতে।
অ্যাটলেটিকোর দাবিতে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্টের সহায়তা নিয়ে রিভিউ থেকে পেনাল্টি দেওয়া হয় তাদের। ৫৬ মিনিটে হুলিয়ান আলভারেজ গোল করে ১-১ সমতা আনেন। এরপর অ্যাটলেটিকোর আক্রমণের ধার বেড়েছে।
অ্যাটলেটিকোকে ঠেকিয়ে আর্সেনালের স্বস্তি যে কারণে
অনেকগুলো সুযোগও তারা তৈরি করে। ৬৩ মিনিটে আন্তোইন গ্রিজম্যানের শট বারে লেগে প্রতিহত হলে গোলবঞ্চিত হয়েছে অ্যাটলেটিকো। ৭০ মিনিটের পর থেকে মুহুর্মুহু আক্রমণে আর্সেনালকে দিশেহারা করে দেয় স্বাগতিকরা।
আদেমোলা লুকম্যান ৭৪ মিনিটে আরেকটি সুযোগ মিস করেন। কোণঠাসা গানাররা দীর্ঘক্ষণ পর ৭৮ মিনিটে একটি আক্রমণ চালায়। তবে আর্সেনালের পেনাল্টির দাবি ভিএআর দেখে বাতিল হয়ে যায়। পুরোপুরি রক্ষণাত্মক অবস্থানে চলে যায় এরপর তারা।
বেশকিছু আক্রমণ থেকে আর সাফল্য আসেনি অ্যাটলেটিকোর জন্য। বাড়তি সাত মিনিট যোগ করা হলেও সেই সমতা নিয়েই দুই দল মাঠ ছেড়েছে। স্বাগতিকরা তেমন স্বস্তি না পেলেও আর্সেনাল বেশ আনন্দচিত্তেই ঘরে ফিরেছে।
প্রতিপক্ষের মাঠে ড্র করতে পেরেই মূলত গানাররা খুশি। যদিও চ্যাম্পিয়নস লিগের ইতিহাস পক্ষেই আছে অ্যাটলেটিকোর। এর আগে এই আসরের নকআউট ম্যাচগুলোয় আটবার প্রথম লেগে ড্র করার পর পাঁচবারই তারা দ্বিতীয় লেগে জিতেছে। দেখা যাক আবারও সেটি করতে পারে কিনা তারা?
