জাপানের আইচি-নাগোয়ায় আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর পর্দা উঠবে এশিয়ান গেমসের। তবে ফুটবল ইভেন্টের খেলা শুরু হচ্ছে আজ থেকেই। প্রথম দিনেই মাঠে নামছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। শুরুতেই তাদের প্রতিপক্ষ এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী দল উত্তর কোরিয়া। ওসাকার নাগাই স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় দুপুর ১টায়।
ম্যাচের আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধান কোচ পিটার বাটলার অবশ্য বাস্তবতার কথাই বলেছেন। শক্তিশালী উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে জয় নিয়ে অতিরিক্ত প্রত্যাশা না রেখে খেলাটা উপভোগ করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। বাটলার বলেন, ‘এই ম্যাচের জন্য আমাদের আলাদা কোনো বিশেষ পরিকল্পনা নেই। মূল লক্ষ্য হলো নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দেওয়া। নিজেদের প্রতি সৎ থেকে বলতে গেলে, এই ম্যাচে আমাদের জয়ের বিন্দুমাত্র সম্ভাবনাও কেউ দেখছে না।’
উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের কঠিন লড়াইয়ের অভিজ্ঞতা খুব পুরোনো নয়। এ বছরের মার্চে এএফসি উইমেন্স এশিয়ান কাপের গ্রুপ পর্বে দলটির কাছে ৫-০ গোলে হেরেছিল বাংলাদেশ। ছয় মাসের ব্যবধানে আবারও সেই প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হচ্ছে ঋতুপর্ণা, মারিয়া, মনিকারা।
সেই হারের প্রসঙ্গ টেনে বাটলার বলেন, ‘গত এশিয়ান কাপে আমরা তাদের কাছে ৫-০ গোলে হেরেছিলাম। সেবার আমরা মোটেও ভালো খেলতে পারিনি। তবে সেই হার আমাদের তরুণ মেয়েদের জন্য বড় একটি শেখার অভিজ্ঞতা ছিল।’
এশিয়ান গেমসের এফ গ্রুপে বাংলাদেশের অন্য দুই প্রতিপক্ষ মিয়ানমার ও দক্ষিণ কোরিয়া। গ্রুপের তিন দলই ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের ওপরে। তবে মিয়ানমারের বিপক্ষে বাংলাদেশের সুখস্মৃতিও আছে। গত বছর এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে তাদেরই মাঠে ২-১ গোলে জিতেছিল বাংলার মেয়েরা।
বাংলাদেশ এশিয়ান গেমসের নারী ফুটবলে দ্বিতীয়বার অংশ নিচ্ছে। ২০২৩ সালের আসরে গ্রুপ পর্বের সব ম্যাচেই হেরেছিল তারা। এবার অবশ্য লক্ষ্যটা একটু বড়—মিয়ানমারকে হারিয়ে গ্রুপের তৃতীয় দল হিসেবে শেষ আটে জায়গা করে নেওয়া।
এশিয়ান গেমসের প্রস্তুতিতে গত ৩১ আগস্ট চীনে গিয়েছিল বাংলাদেশ দল। সেখানে ক্যাম্পের পাশাপাশি দুটি প্রস্তুতি ম্যাচও খেলেছে তারা। ২৩ সদস্যের দলে অভিজ্ঞ মারিয়া, মনিকা ও ঋতুপর্ণাদের সঙ্গে আছেন একঝাঁক তরুণ ফুটবলার। উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষেও তাঁদের সুযোগ দিতে চান বাটলার।
‘ফলাফল যা-ই হোক না কেন, আমি বেশ কিছু তরুণ মেয়েকে সুযোগ দেব। আমাদের মূল উদ্দেশ্য হলো এই বড় মঞ্চ থেকে অভিজ্ঞতা অর্জন, শেখা এবং নিজেদের ফুটবলের উন্নয়ন ঘটানো।’
কঠিন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রত্যাশা তাই বাস্তবতার মাটিতেই। তবে বাটলারের চাওয়া, ফল যা-ই হোক, মাঠে যেন নিজেদের সেরাটা দিয়ে খেলেন ঋতুপর্ণারা এবং বড় মঞ্চের অভিজ্ঞতাটা উপভোগ করেন।


