প্রায় দেড় যুগ পর বাংলাদেশের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ খেলতে ঢাকায় অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দল। দীর্ঘ দিন পর বাংলাদেশ সিরিজ নিয়ে রোমাঞ্চিত অস্ট্রেলিয়া । বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজ শুরুর আগে সোমবার মিরপুরে সংবাদ সম্মেলনে এমনটাই জানিয়েছেন অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক জশ ইংলিস।
দীর্ঘ সময় পর বাংলাদেশে ওয়ানডে সিরিজ খেলতে এসেছে অস্ট্রেলিয়া। বিষয়টি আপনাদের জন্য কতটা রোমাঞ্চকর ? এমন প্রশ্নে তিনি বলেন,
অবশ্যই খুবই রোমাঞ্চকর। আমরা বাংলাদেশে খুব বেশি খেলি না। আমার জন্য এটি প্রথম বাংলাদেশ সফর, দলের আরও অনেকের ক্ষেত্রেও তাই। আমরা এই সিরিজ নিয়ে দারুণ উচ্ছ্বসিত। এখনও একাদশ চূড়ান্ত করিনি। উইকেট দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
আইপিএলে আপনি লখনউ সুপার জায়ান্টসের হয়ে খেলেছেন। সেখানকার উইকেটের সঙ্গে এখানকার কিছু মিল আছে বলে মনে করেন? জানতে চাইলে জশ ইংলিস,‘ প্রথমে উইকেটটা ভালোভাবে দেখতে হবে। আইপিএল ছিল টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট, আর এটি ওয়ানডে। আমরা সাম্প্রতিক ম্যাচ গুলো বিশ্লেষণ করব এবং এরপর উইকেট সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেব।
নাহিদের প্রতিভায় মুগ্ধ ইংলিস
অস্ট্রেলিয়া সবসময় বিশ্বমানের পেসার তৈরি করে। বাংলাদেশি পেসার নাহিদ রানাকে কীভাবে দেখছেন এমন প্রশ্নে,‘ আমি ওকে খুব বেশি দেখিনি। তবে যতটুকু দেখেছি, সে দারুণ প্রতিভাবান একজন বোলার। সে লম্বা এবং খুব দ্রুত গতিতে বল করে এটা দুর্দান্ত একটি সমন্বয়। আমাদের জন্য সে বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে।
ট্রাভিস হেড ও মিচেল মার্শ দলে না থাকার বিষয়ে অজি অধিনায়ক বলেন,
তারা দুজনই অসাধারণ ক্রিকেটার। তবে তাদের অনুপস্থিতিতে তরুণ ক্রিকেটারদের সুযোগ দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। সামনে বিশ্বকাপ রয়েছে, তাই নতুন কিছু সমন্বয় ও খেলোয়াড় পরীক্ষা করার সুযোগও এটি।
অস্ট্রেলিয়ার সাদা বলের পেস আক্রমণ বর্তমানে কিছুটা পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই সিরিজে কি বাংলাদেশের পেসাররা বাড়তি সুবিধা পাবে? ‘সেটা সিরিজ শেষে বোঝা যাবে। তবে আমাদের নাথান এলিস, জেভিয়ার বার্টলেট ও বেন ডোয়ার শুইসের মতো বোলাররা এখন বেশ অভিজ্ঞ। তারা খুবই প্রতিভাবান এবং তাদের পারফরম্যান্স দেখার অপেক্ষায় আছি।
পাকিস্তান সফরের ব্যর্থতার বিষয়ে তিনি বলেন,
মূল শিক্ষা হলো পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া। বাংলাদেশে ভিন্ন কন্ডিশন পাব। নিজেদের পরিকল্পনা পরিষ্কার রাখতে হবে এবং সেটি দীর্ঘ সময় ধরে বাস্তবায়ন করতে হবে। তাহলে বড় ইনিংস খেলতে পারব।
মিরপুরে কেমন উইকেট উইকেট আশা করছেন? ‘আমরা এখানে নিউজিল্যান্ডের সিরিজ দেখেছি। সেখানে উইকেটে কিছুটা ঘাস ছিল এবং নতুন বলে সিম মুভমেন্ট পাওয়া গিয়েছিল। স্পিনের চেয়ে পেসাররা কিছুটা সাহায্য পেয়েছে। তবে আমরা যেকোনো ধরনের উইকেটের জন্য প্রস্তুত।
নাথান এলিস কি এই সিরিজে আপনার দলের এক্স-ফ্যাক্টর হতে পারেন? জশ ইংলিস: অবশ্যই। গত কয়েক বছরে সে দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হয়ে উঠেছে। তার বৈচিত্র্যময় বোলিং রয়েছে এবং ম্যাচের তিনটি ধাপেই কার্যকর ভাবে বল করতে পারে। আমি আশা করছি সে বড় ভূমিকা রাখবে।
ফুটবল বিশ্বকাপ নিয়ে এখন সারা বিশ্বের ক্রীড়াপ্রেমীদের আগ্রহ। এমন সময়ে এই সিরিজ দর্শকদের কী দিতে পারে? জশ ইংলিস: এটি একটি দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ সিরিজ হতে যাচ্ছে। বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়া খুব বেশি মুখোমুখি হয় না। আমাদের দল এই চ্যালেঞ্জ নিয়ে ভীষণ উৎসাহী।
অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়কত্ব করা আপনার জন্য কতটা বিশেষ? জশ ইংলিস: এটি আমার জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়। ভবিষ্যৎ নিয়ে খুব বেশি ভাবছি না। যখন সুযোগ আসে, আমি দায়িত্ব পালন করি। তুলনামূলক অনভিজ্ঞ একটি দল নিয়ে কাজ করাটা উপভোগ করছি এবং নিজেও প্রতিদিন শিখছি।
মিরপুরে বাংলাদেশকে হারানো সহজ হবে না
বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে মাত্র একটি ম্যাচ জিতেছে। এবার কি অস্ট্রেলিয়ার জন্য চ্যালেঞ্জ আরও বেশি হবে? জশ ইংলিস: বাংলাদেশকে হারানো সবসময়ই কঠিন। তারা ভারসাম্যপূর্ণ একটি দল এবং নিজেদের মাঠে খেলছে। আমাদের অনেকেরই এখানে খেলার অভিজ্ঞতা নেই। তবুও আমাদের নিজেদের ওপর আস্থা আছে। আমি মনে করি এটি খুব ভালো একটি সিরিজ হবে।
বিগ ব্যাশে রিশাদ হোসেন দারুণ খেলেছেন। তিনি কি আপনাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারেন? জশ ইংলিস: অবশ্যই। তিনি খুব ভালো বোলার। বিগ ব্যাশে খেলার কারণে আমাদের অনেকেই তাকে দেখেছে। আমাদের কোচিং স্টাফ ও খেলোয়াড়দের মধ্যে যারা সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তারা তাকে ভালোভাবেই চেনে। তাকে নিয়ে আমরা অবশ্যই আলোচনা করব।
