১৮ বছর বয়সী মিডফিল্ডার আইয়ুব বুয়াদ্দি এখন থেকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মরক্কোর প্রতিনিধিত্ব করবেন। শুক্রবার এক বিবৃতিতে রয়্যাল মরক্কান ফুটবল ফেডারেশন (এফআরএমএফ) এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। ফলে ইসা দিওপ এর পর আন্তর্জাতিক ফুটবলে আরও একজন ফরাসি বংশোদ্ভূত উদীয়মান তারকাকে নিজেদের শিবিরে ভেড়াতে সক্ষম হলো মরক্কো।
মাঝমাঠে খেলা আইয়ুব বুয়াদ্দিকে তার অসাধারণ ফুটবল নৈপূল্যের জন্য ফ্রান্সের অনূর্ধ্ব-২১ দলে জায়গা করে দেয়া হয়েছিলো। কিন্তু এখন থেকে তিনি হয়ে গেলেন মরক্কোর ফুটবলার।
এফআরএমএফ জানায়, বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার স্ট্যাটাস চেম্বার বুয়াদ্দির ক্রীড়া জাতীয়তাবাদ (ন্যাশনালিটি) পরিবর্তনের আবেদন মঞ্জুর করেছে। এর ফলে অবিলম্বে সব ধরনের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় মরক্কোর হয়ে মাঠে নামার আইনি বৈধতা পেলেন এই তরুণ তুর্কি।
ফেডারেশন তাদের বিবৃতিতে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেছে,
“এই সিদ্ধান্তের অর্থ হলো আইয়ুব বুয়াদ্দি আনুষ্ঠানিকভাবে এবং অবিলম্বে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় মরক্কান জাতীয় দলকে প্রতিনিধিত্ব করার যোগ্যতা অর্জন করেছেন।”
লিলের সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার থেকে ‘অ্যাটলাস লায়ন্স’
আইয়ুব বুয়াদ্দির জন্ম প্যারিসের উত্তরের শহর সেনলিসে, এক মরক্কান অভিবাসী পরিবারে। বর্তমানে তিনি ফরাসি লিগ ওয়ানের শীর্ষ সারির ক্লাব লিলের হয়ে খেলছেন। সেন্ট্রাল মিডফিল্ডে তার চমৎকার ড্রিবলিং ও নিখুঁত পাসিং নজর কেড়েছে বড় বড় ক্লাবগুলোর। ফ্রান্সের বয়সভিত্তিক দলে নিয়মিত খেললেও, শেষ পর্যন্ত নিজের পৈতৃক শিকড় মরক্কোকেই বেছে নিলেন এই তরুণ।
ফুটবল কূটনীতিতে মরক্কোর আরেকটি জয়
২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে প্রথম আফ্রিকান ও আরব দেশ হিসেবে সেমিফাইনালে খেলে ইতিহাস গড়েছিল মরক্কো। কাকতালীয়ভাবে, সেবার শেষ চারে ফ্রান্সের কাছে হেরেই তাদের ফাইনালের স্বপ্নভঙ্গ হয়েছিল। এবার সেই ফ্রান্সের মাটিতে জন্ম নেওয়া ও বেড়ে ওঠা এক প্রতিভাকে দলে ভেড়ানোর আন্তর্জাতিক লড়াইয়ে ফরাসিল্যান্ডকে টেক্কা দিল ‘অ্যাটলাস লায়ন্স’রা। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইউরোপে জন্ম নেওয়া মরক্কান বংশোদ্ভূত ফুটবলারদের দলে টানার যে সফল নীতি মরক্কো নিয়েছে, বুয়াদ্দির অন্তর্ভুক্তি তারই ধারাবাহিকতা।
সামনে মরক্কোর বড় পরীক্ষা। আগামী ১৩ জুন ব্রাজিলের বিপক্ষে হাইভোল্টেজ ম্যাচ দিয়ে তারা শুরু করতে যাচ্ছে তাদের পরবর্তী বিশ্বকাপ মিশন। গ্রুপ পর্বে তাদের অন্য দুই প্রতিপক্ষ হাইতি ও স্কটল্যান্ড। বুয়াদ্দির মতো তরুণ ও প্রতিভাবান মিডফিল্ডারের অন্তর্ভুক্তি আসন্ন টুর্নামেন্টগুলোতে মরক্কোর স্কোয়াডকে আরও শক্তিশালী ও বৈচিত্র্যময় করবে বলে ফুটবল বিশ্লেষকদের ধারণা।
