এশিয়ার ফুটবল পরাশক্তি জাপানের বিশ্বকাপ দলে তিনটি চমক দেখা গেছে। শুক্রবার ২৬ জনের চূড়ান্ত স্কোয়াডে ইনজুরির কারণে জায়গা হয়নি মিডফিল্ডার কাওরু মিতোমার। অথচ সাম্প্রতিক ইনজুরি নিয়েও দলে আছেন অধিনায়ক ওয়াতারু এন্দো। আবার একটানা ইনজুরির কারণে গত দুই বছরে জাপানের হয়ে কোনো ম্যাচ না খেলেও বিশ্বকাপে জায়গা পেয়েছেন ডিফেন্ডার তাকেহিরো তোমিয়াসু।
কোচ হাজিমে মোরিয়াসু জাপানের বিশ্বকাপ দল ঘোষণার সময় কথা বলেছেন বিশেষ করে যে চমকগুলো রয়েছে তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর। তিনি ব্রাইটন অ্যান্ড হোভের তারকা মিতোমার বাদ পড়া নিয়ে বলেছেন,‘মিতোমার ইনজুরির পর আমরা মেডিকেল রিপোর্ট পেয়েছি, সেখানে বলা হয়েছে যে টুর্নামেন্ট চলাকালীন তার মাঠে ফেরা কঠিন হবে। তার ওপর ভিত্তি করেই আমরা তাকে দলে নেওয়ার চিন্তা বাদ দিয়েছি। এটা আমাদের জন্য বিশাল ধাক্কা।’
চলতি মৌসুমে বারবার ইনজুরির সঙ্গে লড়াই করেছেন লিভারপুলের মিডফিল্ডার ওয়াতারু এন্দো। তাকে নেওয়ার প্রসঙ্গে মোরিয়াসু বলেন,‘সে আবার বল নিয়ে অনুশীলন শুরু করেছে এবং ক্রমেই ম্যাচ খেলার মতো ফিটনেস অর্জন করছে। সে এই দলের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।‘

টানা বেশ কিছু ইনজুরির কারণে প্রায় দুই বছর ‘সামুরাই ব্লু’-দের হয়ে খেলেননি সাবেক আর্সেনাল ডিফেন্ডার তাকেহিরো তোমিয়াসু। কিন্তু তাকে ঠিকই বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে খেলতে ডেকেছেন মোরিয়াসু,‘ট্যাকটিক্যাল বা কৌশলগত কারণে সম্প্রতি তিনি অফিসিয়াল ম্যাচগুলোতে অংশ নেননি। তবে আমাদের মেডিকেল স্টাফ নিশ্চিত করেছেন যে তার শারীরিক কন্ডিশন বা ফিটনেস নিয়ে কোনো সমস্যা নেই।’
জাপানের বিশ্বকাপ দলে ঠাঁই পাওয়াদের নিয়ে মোরিয়াসুর বক্তব্য
অন্যদিকে, ৩৯ বছর বয়সী ফুলব্যাক ইয়ুতো নাগাতোমো তার পঞ্চম বিশ্বকাপে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। জাপান কোচের আশা যাদের ইনজুরিসহ অন্যান্য সমস্যা আছে, তারা আসন্ন প্রীতি ম্যাচ খেলে বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তুত হয়ে যাবেন।
মোরিয়াসু এই দলটিকে নিয়ে আরও বলেন,‘আইসল্যান্ডের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচটিও রয়েছে, যা সবাইকে উচ্চমানের ম্যাচে খেলার মতো প্রস্তুতি নেওয়ার এবং বিশ্বকাপের আগে নিজেদের শারীরিক অবস্থা ও ফর্ম আরও উন্নত করার সুযোগ দেবে।’

কোচ হিসেবে নিজের দ্বিতীয় বিশ্বকাপে দল নিয়ে যাওয়া মোরিয়াসু জানান, স্কোয়াড নির্বাচন করা বেশ কঠিন ছিল। তিনি বলেন,‘এখনও এমন অনেক খেলোয়াড় আছেন যাদের জাপানের হয়ে বিশ্বমঞ্চে লড়াই করার এবং জেতার সামর্থ্য রয়েছে। তাই তাদের দলে নিতে না পারার জন্য আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত—আসলে শুধুই দুঃখিত নই, গভীরভাবে দুঃখিত।’
গত দুটি বিশ্বকাপে জাপান শেষ ষোলোয় পৌঁছেও এগোতে পারেনি জাপান। ২০১৮ সালে তারা বেলজিয়ামের কাছে এবং এর চার বছর পর কাতারে ক্রোয়েশিয়ার কাছে পেনাল্টিতে হেরে বিদায় নেয়।
আগামী ১৪ জুন ডালাসে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপে নিজেদের অষ্টম আসর শুরু করবে জাপান। ‘এফ’ গ্রুপের বাকি ম্যাচগুলোতে তারা ২০ জুন তিউনিসিয়া এবং ২৫ জুন সুইডেনের মুখোমুখি হবে।
জাপানের চূড়ান্ত বিশ্বকাপ স্কোয়াড
গোলরক্ষক : জায়ন সুজুকি, কেইসুকি ওসাকো, তোমোকি হায়াকাওয়া।
ডিফেন্ডার : ইয়ুতো নাগাতোমো, শোগো তানিগুচি, কো ইতাকুরা, সুয়োশি ওয়াতানাবে, তাকেহিরো তোমিয়াসু, হিরোকি ইতো, আয়ুমু সেকো, ইউকিনারি সুগাওয়ারা, জুন্নোসুকি সুজুকি।
মিডফিল্ডার : ওয়াতারু এন্দো, জুনিয়া ইতো, দাইচি কামাদা, কোকি ওগাওয়া, দাইজেন মায়েদা, রিতসু দোয়ান, আয়াসে উয়েদা, আও তানাকা।
মিডফিল্ডার : ওয়াতারু এন্দো, জুনিয়া ইতো, দাইচি কামাদা, রিতসু দোয়ান, আও তানাকা, কাইশু সানো, তাকেফুসা কুবো, ইয়ুইতো সুজুকি।
ফরোয়ার্ড : দাইজেন মায়েদা, কোকি ওগাওয়া, আয়াসে উয়েদা, কেইতো নাকামুরা, কেন্তো শিওগাই, কেইসুকে গোতো।
স্কোর কার্ড
বিশ্বকাপ ২০২৩

















