সাকিবের কাছে এক কোটি টাকা চেয়েছে বাদীপক্ষ! ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে পতন হয় স্বৈরাচার শেখ হাসিনা সরকারের। তার পর থেকেই দেশের বাইরে আছেন আওয়ামী লীগের এমপি ও ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান। তবে বেশ কিছুদিন ধরেই গুঞ্জন উঠেছে দেশে ফিরছেন সাকিব আল হাসানা। ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপকে ঘিরে পরিকল্পনার অন্ত নেই বাংলাদেশ দলের।
সেই পরিকল্পনার একটা অংশ জুড়ে থাকতে চান সাকিব আল হাসান। জাতীয় দলে ফেরা নিয়ে যদি-কিন্তু থাকলেও জাতীয় দলের সাবেক এই অধিনায়কের আশা, ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপ পর্যন্ত খেলবেন বাংলাদেশের হয়ে। কবে ফিরতে পারেন বাংলাদেশ দলে, এমন প্রশ্নের জবাবে দেশের একটি সংবাদ মধ্যামকে সাকিব বলেন,
এটা তো বিসিবির সিদ্ধান্ত। টিম ম্যানেজমেন্ট বা নির্বাচকদের সিদ্ধান্ত। আমি খেলার মতো আছি কিনা, তারা আমাকে বিবেচনা করছে কিনা বা দলে অবদান রাখার মতো অবস্থায় আছি কি না।
তবে কোনো একটি মহল থেকে নাকি টাকাপয়সার বিনিময়ে আপনাকে মামলা থেকে রেহাই দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। এমন প্রশ্নে সাকিব জানান,‘ হ্যাঁ, এ রকম একটা প্রস্তাব আমার কাছে এসেছে যে এই টাকা দিলে মামলা ইয়ে করে দেবে…
কত টাকা চেয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন,
এই তো, বলেছে যে এক কোটি টাকা দিলে আমার নাম কেস থেকে উঠিয়ে দেবে। তবে যে বা যারা টাকাটা দাবি করছে, তাদের ধারণা নেই যে কেসটা যেহেতু করে ফেলেছে, এখন চাইলেও তারা নাম ওঠাতে পারবে না। বা তারা ওঠালেও পুলিশ যে ওঠাবে বিষয়টা তা না। আলটিমেটলি পুলিশের থেকেই এটার ক্লিয়ারেন্স আসতে হবে যে আমার কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না।
এই প্রস্তাবটা কারা দিল? তারা কি বাদীপক্ষ? সেই প্রশ্নে সাকিব: হ্যাঁ, এফআইআরে বাদীপক্ষে যাঁর নাম আছে যোগাযোগ করার জন্য, তিনি দু-একজনের মাধ্যমে যোগাযোগটা করেছেন। কাদের মাধ্যমে, আমি তাঁদের নাম বলতে চাচ্ছি না।
হয়তো ভেবেছে আমার কাছে অনেক টাকা আছে
তবে প্রস্তাব পাওয়ার পর আপনি তাঁদের কী বলেছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন,‘ আচ্ছা, এসব টাকা দিয়ে কেন করতে হবে ভাই? টাকা দেওয়া মানে তো হচ্ছে আমার সমস্যা আছে, আমি চাচ্ছি যে আমাকে এখান থেকে বাঁচিয়ে দেওয়া হোক। হতে পারে তারা ভেবেছে আমার কাছে অনেক বেশি টাকা, চাইলেই হলো। আমিও এই আশাই করি, যেন অনেক বেশি টাকা থাকে আমার কোনো সময় (হাসি)।
এরপরই তিনি জানান, বাকি দুই ফরম্যাট থেকে অবসর নিয়ে ওয়ানডে চালিয়ে যেতে চান। সাকিব বলেন,
টি-টোয়েন্টি ও টেস্ট এত চিন্তা নাই। একটা সিরিজ খেলে শেষ করতে পারলে ভালো লাগবে। যেহেতু সামনের বছর ওয়ানডে বিশ্বকাপ আছে, বিসিবির যদি পরিকল্পনা থাকে এবং সব এই বছর ঠিক হয়ে যায়, ওয়ানডে বিশ্বকাপ একটা সম্ভাবনা হতে পারে।
তার আগে এ বছরের মধ্যে দেশে ফিরে বিপিএলটাও খেলতে চান সাকিব, প্রমাণ করতে চান নিজেকে। জানালেন, এগুলো সব যদি-কিন্তুর ওপর নির্ভর করছে। গ্যারান্টি দিয়ে বলা যাবে না। এ বছরে ফিরতে পারলে, বিপিএল খেললে ভালো করলে, ভালো কারণ থাকবে আমাকে জাতীয় দলের জন্য চিন্তা করার।
সম্প্রতি আরেক সাক্ষাৎকারে সাকিব জানিয়েছিলেন, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরতে ফিটনেস নিয়ে এক মাস কাজ করাই যথেষ্ট তার জন্য। এই আত্মবিশ্বাস কোথায় পান জানতে চাইলে সাবেক অধিনায়ক বলেন,
আত্মবিশ্বাস আসতো না যদি পারফরম্যান্স খারাপ হতো। সর্বশেষ আইএলটি-২০ তেও ভালো খেলেছি আলহামদুলিল্লাহ। এমন যদি হতো ভালো খেলছি না বা লিগ গুলোতে দলগুলো আমাকে চাচ্ছে না। তখন আত্মবিশ্বাস থাকত না।
ফিটনেস ফিরে পেতে ঘাম ঝরাচ্ছেন সাকিব
তবে সম্প্রতি সাকিবের ওজন একটু বেড়ে গেছে। সেই ওজন ঝরাতে শুরু করেছেন ঘাম ঝরানো। তিনি বলেন, ‘কাজ শুরু করেছি সম্প্রতি। ওজন একটু বেড়ে গিয়েছে। আইএলটি-টোয়েন্টির পর ওরকম যেহেতু খেলা হয়নি, বড় গ্যাপ ছিল। পরের মাস থেকে বেশ কিছু টুর্নামেন্ট আছে যে গুলোতে খেলার কথা। তাই প্রস্তুতি শুরু করেছি, চেষ্টা করছি কীভাবে শেইপে ফিরে আসা যায় যাতে পারফরম্যান্স করা সম্ভব হয়।
দেশের ক্রিকেটের রাজপুত্র এখন দেশের ক্রিকেট থেকে যোজন যোজন দূরে। দেশেও আসতে পারছেন না। সাকিবের মনে হচ্ছে, তার জীবনে বড় পরীক্ষা চলছে।
তিনি জানান, ‘অবশ্যই পরীক্ষা। এ কারণে, আমি আমার জন্মস্থানে যেতে পারছি না। যে জায়গায় সবচেয়ে বেশি যেতে চাই সেখানেই যেতে পারছি না। এটা বড় আফসোসের বিষয়। এটা নতুন চ্যালেঞ্জ আমার মানসিক শক্তির। আল্লাহ সর্বোচ্চ পরীক্ষা নেওয়ার চেষ্টা করছেন বলে আমি মনে করছি।
স্কোর কার্ড
বিশ্বকাপ ২০২৩














