চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভারতের চেন্নাাইয়ে মারা গেলেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেত্রী কারিনা কায়সার (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিলো ৩১ বছর। জাতীয় দলের সাবেক তারকা ফুটবলার কায়সার হামিদের কন্যা কারিনা শুক্রবার (১৫ মে) মধ্যরাতে ভেলোরের সিএমসি (খ্রিষ্টান মেডিক্যাল কলেজ) হাসপাতালে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন।
কারিনার মৃত্যুর বিষয়টি ফেসবুক পোস্টে নিশ্চিত করেছেন একসময়ের দেশসেরা ফুটবলার কায়সার হামিদ। কায়সার হামিদ জানান, ফুসফুসে অ্যান্টিবায়োটিক দেয়ার সময় হঠাৎ করেই কারিনার রক্তচাপ অনেক কমে যায়। চিকিৎসকরা অনেক চেষ্টা করলেও কারিনাকে আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
প্রতিভাবান এই তরুণীর আকস্মিক মৃত্যুতে দেশের শোবিজ অঙ্গনের পাশাপাশি খেলাধুলার জগতেও শোকের ছায়া নেমে এসেছেন। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের শোক প্রকাশ করছেন।
নিজের কনটেন্ট ও অভিনয়ের মাধ্যমে নিজের আলাদা পরিচিত ও বলয় তৈরি করা কারিনা কায়সার যে কায়সার হামিদের কন্য এই তথ্য অনেকেরই জানা ছিলো না। কায়সার হামিদের পরিবার বাংলাদেশের খেলাধুলার জগতেও অন্যতম পরিচিত একটি পরিবার।
কারিনার দাদা এম এ হামিদ জনপ্রিয় সংগঠক। দীর্ঘদিন ছিলেন বাংলাদেশ হ্যান্ডবল ফেডারেশনের দায়ীত্বে। দাদী রাণী হামিদ বাংলাদেশের প্রথম নারী আন্তর্জাতিক মাস্টার। ৮১ বছর বয়সেও খেলা চালিয়ে যাচ্ছেন। চাচা সোহেল হামীদ-ও সংগঠক হিসেবে ক্রীড়ার সাথে।
কারিনার অসুস্থতার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর তার পারিবারিক ঐতিহ্যের বিষয়টি সবার সামনে আসে। বিশেষকরে কায়সার হামিদ যখন ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে কারিনার অসুস্থতার বিষয়টি তুলে ধরেন।
অসুস্থতার বিষয়টি যেভাবে সামনে আসলো!
পারিবারিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, কারিনা কায়সার প্রথমে সাধারণ জ্বরে আক্রান্ত হয়েছিলেন। পরবর্তীতে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় তার শরীরে মারাত্মক সংক্রমণ (ইনফেকশন) ধরা পড়ে। একই সঙ্গে তিনি হেপাটাইটিস ‘এ’ এবং ‘ই’ ভাইরাসে আক্রান্ত হন, যার ফলে তীব্র শারীরিক জটিলতা তৈরি হয়ে তার লিভার ফেইলিউর (কার্যকারিতা হারানো) দেখা দেয়।
অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্য গত সোমবার রাতে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সযোগে তাকে ভারতের চেন্নাইয়ে নেওয়া হয়। চেন্নাইয়ের চিকিৎসকেরা প্রাথমিকভাবে তার ফুসফুসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের চিকিৎসা শুরু করেছিলেন এবং একই সাথে লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট বা প্রতিস্থাপনের জরুরি প্রস্তুতিও নিচ্ছিলেন।
কনটেন্ট ক্রিয়েশন ও অভিনয়
ডিজিটাল মাধ্যমে নিজের প্রতিভার অনন্য স্বাক্ষর রেখেছিলেন কারিনা কায়সার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অত্যন্ত প্রাণবন্ত উপস্থাপনা ও জীবনঘনিষ্ঠ কনটেন্ট তৈরির মাধ্যমে খুব দ্রুতই তিনি তরুণ দর্শকদের মাঝে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেন। তবে শুধু কনটেন্ট ক্রিয়েশনের মাঝেই নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখেননি কারিনা; সাম্প্রতিক সময়ে তিনি একজন দক্ষ অভিনেত্রী ও চিত্রনাট্যকার হিসেবেও শোবিজ অঙ্গনে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করছিলেন।
বিশেষ করে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম এবং ছোটপর্দায় তার অভিনয় ও লেখনী দর্শকদের দারুণভাবে মুগ্ধ করে। তার অভিনীত ও রচিত কাজের মধ্যে ব্যাপক আলোচিত ওয়েব সিরিজ ‘ইন্টার্নশিপ’ এবং ‘৩৬-২৪-৩৬’ অন্যতম, যা তাকে বিনোদন ইন্ডাস্ট্রিতে আলাদা পরিচিতি এনে দেয়।
কায়সার হামিদের আবেগঘন বার্তা
মেয়ের মৃত্যুতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক আবেগঘন বার্তা দেন সাবেক ফুটবলার কায়সার হামিদ। তিনি লেখেন, “মৃত্যু অনিবার্য, আমাদের সবাইকে এই পৃথিবী ছেড়ে চলে যেতে হবে।। জন্ম মৃত্যু আল্লার হাতে।। আমরা সবাই দিন রাত মহান আল্লাহর দরবারে কারিনার জন্য দোয়া করেছি। অত্যন্ত ব্যথিত হৃদয়ে শুধু এটুকুই বলি, হয়তো মহান আল্লাহ আর তাকে কষ্ট দিতে চাননি। তাই নিজ রহমতের ছায়ায় নিজের কাছে নিয়ে গিয়েছেন। অত্যন্ত সরল সোজা, খোলা মনের, হাসি খুসি সুন্দর মনের মেয়েটিকে আল্লাহ পাক যেন জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করেন। নূরে পরিপূর্ণ করে দেন এবং সেই সাথে আমার পরিবারের সকল সদস্য সহ তার অসংখ্য ভক্ত, শুভাকাঙ্ক্ষী সবাইকে এই অসহনীয় শোক তার অকাল মৃত্যুতে ধৈর্যের সাথে বহন করার তৌফিক দান করেন।। আমিন।”
স্কোর কার্ড
বিশ্বকাপ ২০২৩
















