মিরপুর টেস্টে নিজেদের প্রথম ইনিংসে ৪১৩ রানে থামল বাংলাদেশ । প্রথম দিন শেষে ৬ উইকেট হাতে রেখে ৩০১ রান নিয়ে ব্যাটিংয়ে নেমে শনিবার দ্বিতীয় দিন লাঞ্চের পর গুটিয়ে যায় স্বাগতিকরা। এ দিন বল হাতে ঝলক দেখিয়েছেন পাকিস্তানের আব্বাস। তিনি তুলের নেন ৫ উইকেট।
ফিফটির খোঁজে মুশফিক ৪৮ ও লিটন ৮ রানে অপরাজিত থেকে সকালে ব্যাটিং শুরু করে। ব্যাটিংয়ে নেমে শাহিন শাহ আফ্রিদির ওভারে সিঙ্গেল নিলেন মুশফিকুর রহিম, ১১৪ বলে স্পর্শ করলেন পঞ্চাশ। টেস্টে এটি মুশফিকের ২৯তম পঞ্চাশ, এই সংস্করণে তার সেঞ্চুরি ১৩টি। পাকিস্তানের বিপক্ষে তৃতীয় পঞ্চাশ তার, সেঞ্চুরি আছে একটি।
লিটনকে ফিরিয়ে আব্বাসের বড় আঘাত
তবে দ্বিতীয় দিনে জীবন পেয়েও সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি লিটন দাস। মোহাম্মদ আব্বাসের বলেই ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন তিনি। অফ স্টাম্পের বাইরের আপাত সাদামাটা শর্ট বলে পুল করেন লিটন। দ্বিধা নিয়ে একটু দেরিতে খেলায় টাইমিং করতে পারেননি। মিড অনে থাকা বদলি ফিল্ডার আমাদ বাট সহজেই জমান মুঠোয়। ভাঙে ১৪০ বল স্থায়ী ৬২ রানের জুটি।
৬৭ বলে ছয় চারে ৩৩ রান করেন লিটন। ৯৭ ওভারে বাংলাদেশের রান তখন ৫ উইকেটে ৩৩৮। ক্রিজে মুশফিকুর রহিমের সঙ্গী হন মেহেদী হাসান মিরাজ। ব্যাটিংয়ে নেমে সুবিধা করতে পারেনি।
আব্বাসের শর্ট বল অনায়াসে সীমানার বাইরে পাঠান মিরাজ। পরের বল ছিল অফ স্টাম্পের বাইরে। শট নিচে রাখতে পারেননি তিনি। প্রতিক্রিয়া দেখানোর জন্য বেশি সময় ছিল না, তবুও চমৎকার রিফ্লেক্সে ক্যাচ নেন ইমাম-উল-হাক। ১২ বলে একটি করে ছক্কা ও চারে ১০ রান করেন মিরাজ।
১০১ ওভারে বাংলাদেশের রান ৬ উইকেটে ৩৫৪। ক্রিজে মুশফিকুর রহিমের সঙ্গী তাইজুল ইসলাম।হাসান আলির আগের ওভারে টানা দুটি চার মারার পর তিন রান নেন তাইজুল। পরের ওভারে আব্বাসের চারটি বল ডট খেলেন তিনি।
পঞ্চম বল ছিল বাউন্সার। শরীরের খুব কাছের পর ছেড়ে না দিয়ে শট খেলার চেষ্টা করেন তাইজুল। ঠিকঠাক পারেননি তিনি। ব্যাটের কানা ছুঁয়ে জমা পড়ে মোহাম্মদ রিজওয়ানের গ্লাভসে। ভাঙে ৩৭ বল স্থায়ী ২৪ রানের জুটি। দুই চারে ২৩ বলে ১৭ রান করেন তাইজুল।
এরপর লাঞ্চের পর প্রথম ওভারেই বিদায় নেন মুশফিক। তার অফ স্টাম্প উপড়ে ফেললেন শাহিন শাহ আফ্রিদি। বাঁহাতি এই পেসারের অফ স্টাম্পের বাইরের বল পা বাড়িয়ে খেলতে চেয়েছিলেন মুশফিক। প্রত্যাশার চেয়ে বেশি ভেতরে ঢোকা ডেলিভারির লাইনে যেতে পারেননি তিনি। বল আঘাত হানে অফ স্টাম্পে। ১৭৯ বলে আট চারে ৭১ রান করেন মুশফিক।
ঝোড়ো ইনিংস খেলে বিদায় নিলেন তাসকিন
১১০ ওভারে বাংলাদেশের রান ৮ উইকেটে ৩৮৪। ইবাদত হোসেনকে ফিরিয়ে নিজের পঞ্চম উইকেট নিলেন মোহাম্মদ আব্বাস। অভিজ্ঞ পেসারের শর্ট বল ঠিকঠাক সামলাতে পারেননি ইবাদত। পেতে দেওয়া ব্যাটে লেগে বল উঠে যায় উপরে। বাকিটা অনায়াসে সারেন মোহাম্মদ রিজওয়ান। ১০ বল খেলেও রানের দেখা পাননি ইবাদত। শেষ দিকে তাসকিন আহমেদ ১৯ বলে ২৮ রানের ঝড়ো ইনিংসে খেলে বিদায় নেন। এনিয়ে ক্যারিয়ারে ষষ্ঠবার পাঁচ উইকেট পেলেন আব্বাস।
আগের দিন শেষে ৮৫ ওভারে ৪ উইকেটে ৩০১ রানে প্রথম দিনের খেলা শেষ করে বাংলাদেশ। প্রথম দিনে অধিনায়ক নাজমুল হোসেনের ১০১ ও মুমিনুল হক ৯১ রান করেন।
স্কোর কার্ড
বিশ্বকাপ ২০২৩



















