জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হারারে একমাত্র টেস্টে ব্যাটিং ধরে মাত্র ১৪০ রানে গুটিয়ে গেছে বাংলাদেশ। দলের বিপদে একসময় মনে হচ্ছিল টেস্টের প্রথম দিনে সম্মানজনক সংগ্রহের পথেই এগোচ্ছে বাংলাদেশ। মুমিনুল হক ও অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর দৃঢ় জুটিতে শুরুতে সামলে ওঠার ইঙ্গিতও মিলেছিল।
কিন্তু সেই আশা মুহূর্তেই গুঁড়িয়ে দেয় ভয়াবহ ব্যাটিং ধস। দ্বিতীয় সেশনে মাত্র ২৭ রানের ব্যবধানে শেষ আট উইকেট হারিয়ে ১৪০ রানেই প্রথম ইনিংস গুটিয়ে ফেলে বাংলাদেশ। রোববার টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই স্বাগতিক পেসারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের চাপে ছিল সফরকারীরা। ১০ রানে প্রথম উইকেট হারায় বাংলাদেশ।
নিউম্যান নিয়ামুরির বলে কট বিহাইন্ড হন ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয়। ডিআরএস না থাকায় আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত মেনে হতাশ হয়েই মাঠ ছাড়তে হয় তাকে। এরপর ২০ রান করা সাদমান ইসলামও ব্র্যাড ইভান্সের বলে দ্বিতীয় স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ফিরলে চাপে পড়ে বাংলাদেশ।
দলকে সেই চাপ থেকে টেনে তোলেন মুমিনুল ও শান্ত। দুজন মিলে তৃতীয় উইকেটে ৭৭ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে ইনিংসের ভিত গড়ে দেন। সাবলীল ব্যাটিংয়ে মুমিনুল মাত্র ৬৪ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন। শেষ পর্যন্ত ৮১ বলে ১২টি চার হাঁকিয়ে ৬০ রান করে নিয়ামুরির শিকার হন তিনি। অন্য প্রান্তে শান্ত ধৈর্য ধরে খেললেও বড় ইনিংস গড়তে পারেননি। ৭৩ বলে ১৯ রান করে ব্র্যাড ইভান্সের বলে উইকেটরক্ষকের হাতে ক্যাচ দেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।
এরপরই শুরু হয় বাংলাদেশের ব্যাটিং বিপর্যয়। ১১৪ রানে তৃতীয় উইকেট হারানোর পর মাত্র ২৬ রান যোগ করতেই বাকি সাত ব্যাটার সাজঘরে ফেরেন। অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম করেন ৯ রান। অভিষিক্ত তাওহিদ হৃদয় ও উইকেটরক্ষক-ব্যাটার অমিত হাসান যথাক্রমে ৩ ও ৪ রান করে আউট হন। নিচের সারির ব্যাটারদের কেউই প্রতিরোধ গড়তে পারেননি। তাইজুল ইসলাম ৯ রান করলেও হাসান মাহমুদ শূন্য রানে ফেরেন। শেষ ব্যাটার সৈয়দ খালেদ আহমেদকে বোল্ড করে বাংলাদেশের ইনিংসের ইতি টানেন নিয়ামুরি।
জিম্বাবুয়ের বোলারদের মধ্যে নিউম্যান নিয়ামুরি ছিলেন সবচেয়ে সফল। বাঁহাতি এই পেসার ৪ উইকেট শিকার করে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপে বড় ধস নামান। ব্লেসিং মুজারাবানি, রিচার্ড এনগারাভা ও ব্র্যাড ইভান্স নেন দুটি করে উইকেট।
প্রথম সেশনের শেষে ২ উইকেটে ৭৬ রান তুলে ভালো অবস্থানে থাকা বাংলাদেশ দ্বিতীয় সেশনে সম্পূর্ণ ছন্দ হারিয়ে ফেলে। শেষ সাত ব্যাটারের কেউ দুই অঙ্ক ছুঁতে পারেননি, আর শেষ তিন উইকেটের পতন ঘটে কোনো রান যোগ না করেই। মুমিনুলের দায়িত্বশীল অর্ধশতক ছাড়া ব্যাট হাতে আর কেউ প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারায় প্রথম দিনেই চাপে পড়ে যায় বাংলাদেশ।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
৪৭.২ ওভারে বাংলাদেশ ১৪০/১০
