পাকিস্তানের বিপক্ষে ৩০০ রানের লিড চায় বাংলাদেশ । পাকিস্তানের বিপক্ষে মিরপুর টেস্টের তৃতীয় দিন শেষে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৩৪ রানে লিড পেয়েছে বাংলাদেশ। চতুর্থ দিনে বাংলাদেশের লক্ষ্য পাকিস্তানের বিপক্ষে বড় লিড দাঁড় করানো। গতকাল টেস্টের তৃতীয় দিন শেষে এমন কথাই জানিয়েছেন অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজ। চতুর্থ ইনিংসে পাকিস্তানের বিপক্ষে কত রান নিরাপদ হতে পারে-এমন প্রশ্নে মিরাজ বলেন,‘মিরপুরে কত রান সেফ সেটা বলা কঠিন।
তবে ২৯০ থেকে ৩০০ রানের মতো লক্ষ্য এই উইকেটে ভালো স্কোর হতে পারে।’তার মতে, চতুর্থ ও পঞ্চম দিনে ব্যাটিং কঠিন হবে এবং তখন স্পিনাররা বাড়তি সুবিধা পাবে।’ নিজের বোলিং উন্নতি নিয়েও কথা বলেন এই অলরাউন্ডার। তিনি জানান, গত কিছু সিরিজে খুব বেশি উইকেট না পেলেও দলের প্রয়োজনে কার্যকর ছিলেন। কোচ মোস্তাক আহমেদের এর সঙ্গে কাজ করার ফলে তার আত্মবিশ্বাস আরও বেড়েছে।
তৃতীয় দিনে দুর্দান্ত বোলিং পারফরম্যান্সের পর আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠেই সংবাদ সম্মেলনে মিরাজ বলেন,
পাকিস্তান শুরুতে বেশ ভালো ব্যাটিং করেছে এবং বড় একটি জুটি গড়েছিল। তবে বাংলাদেশি বোলারদের লক্ষ্য ছিল একটাই-রান আটকানো এবং সঠিক জায়গায় ধারাবাহিক বল করা। তার ভাষায়, ‘আমরা জানতাম, যদি ভালো জায়গায় বল করতে পারি তাহলে সুযোগ আসবেই।
উইকেট নিয়ে এই অফস্পিনার বলেন,
উইকেট থেকে খুব বেশি টার্ন পাওয়া যাচ্ছিল না। তবে কিছু বল আচমকা স্পিন করায় ব্যাটারদের মনে সন্দেহ তৈরি হয়েছে, যা উইকেট আদায়ে সাহায্য করেছে। তিনি জানান, পরিকল্পনায় খুব বেশি পরিবর্তন আনা হয়নি। পুরো বোলিং ইউনিট একই পরিকল্পনা নিয়েই মাঠে নেমেছিল-এক জায়গায় টানা বল করা এবং ব্যাটারদের ভুল করতে বাধ্য করা।
বিশেষ করে তাসকিনের সঙ্গে তার বোলিং জুটির প্রশংসা করেন মিরাজ। তিনি বলেন,
আমি একপ্রান্ত থেকে টাইট বোলিং করেছি, তাসকিন উইকেট পেয়েছে। আবার তাসকিন চাপ তৈরি করেছে, আমি উইকেট পেয়েছি। আমাদের পার্টনারশিপটাই আসলে গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
বোলারদের কৃতিত্বে ঘুরে দাঁড়ায় টাইগাররা
তাসকিনের একটি ব্রেকথ্রুকে ইনিংসের টার্নিং পয়েন্ট বলেও মনে করেন তিনি। কারণ পাকিস্তান তখন দ্রুত রান তুলছিল এবং ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পথে ছিল। তবে সেই মুহূর্তে উইকেট পাওয়ায় বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হয়। মাঝে পাকিস্তানের একটি গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে ওঠা নিয়েও কথা বলেন মিরাজ। তিনি জানান, একটি সুযোগ হাতছাড়া হওয়া এবং নো বলের কারণে দৃশ্যপট বদলে যায়। তবে এরপরও বাংলাদেশ যেভাবে ম্যাচে ফিরে এসেছে, সেটিকে বোলারদের বড় কৃতিত্ব হিসেবে দেখছেন তিনি।’
মিরাজ আরও বলেন, ‘উইকেটে স্পিনারদের প্রথম তিন দিনে খুব বেশি সাহায্য পাওয়া যায় না। তাই তার লক্ষ্য থাকে রান আটকে রাখা এবং ব্যাটারদের ভুলের অপেক্ষা করা। তিনি মনে করেন, টেস্ট ক্রিকেটে ধৈর্য এবং নিয়ন্ত্রিত বোলিংই সাফল্যের আসল চাবিকাঠি। দিন শেষে বাংলাদেশের বোলিং ইউনিট নিয়ে সন্তুষ্ট , মিরাজের বিশ্বাস, দল এখনো ম্যাচে ভালো অবস্থানে আছে। তার মতে, ‘আমরা ওদের লিড নিতে দেইনি, এটিই সবচেয়ে ইতিবাচক দিক।’
স্কোর কার্ড
বিশ্বকাপ ২০২৩


















