নারী সাফে হ্যাটট্রিক শিরোপা জয়ের মিশনে ভারতের গ্রুপে বাংলাদেশ

৩০ অক্টোবর, ২০২৪ তারিখে কাঠমান্ডুর দশরথ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সাফ মহিলা চ্যাম্পিয়নশিপের ট্রফি হাতে বাংলাদেশ দলের উল্লাস।

৩০ অক্টোবর, ২০২৪ তারিখে কাঠমান্ডুর দশরথ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সাফ মহিলা চ্যাম্পিয়নশিপের ট্রফি হাতে বাংলাদেশ দলের উল্লাস।

টানা দুইবার শিরোপা জয়ের গৌরব অর্জন করা বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল এবার দক্ষিণ এশিয়ার সেরা হওয়ার মিশনে নামছে আরও বড় লক্ষ্য নিয়ে। এবার তাদের সামনে হ্যাটট্রিক শিরোপা জয়ের হাতছানি। আগামী ২৫ মে ভারতের গোয়ায় শুরু হতে যাচ্ছে সাফ ওমেন্স চ্যাম্পিয়নশিপ। যেখানে অংশ নেবে অঞ্চলের ছয়টি দল। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন হিসেবে বাংলাদেশের ওপর থাকছে বাড়তি প্রত্যাশা, আর সেই প্রত্যাশা পূরণের লক্ষ্যেই এগিয়ে যাচ্ছে ঋতুপর্ণা চাকমারা।

বুধবার ঢাকায় সাউথ এশিয়ান ফুটবল ফেডারেশন এর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয় টুর্নামেন্টের ড্র। এতে বাংলাদেশ ‘বি’ গ্রুপে জায়গা পেয়েছে। সাম্প্রতিক ফিফা নারী র‌্যাংকিং অনুযায়ী অংশগ্রহণকারী ছয় দলের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান তৃতীয়। সেই র‌্যাংকিং বিবেচনায় দলগুলোকে তিনটি পটে ভাগ করা হয়, যেখানে বাংলাদেশ ছিল দ্বিতীয় পটে শ্রীলঙ্কার সঙ্গে।

ড্র অনুষ্ঠানে সাফের সাধারণ সম্পাদক পুরুষোত্তম ক্যাটেল দ্বিতীয় পট থেকে প্রথম দল হিসেবে বাংলাদেশের নাম ঘোষণা করেন। এরপর গ্রুপ নির্ধারণের সময় বাংলাদেশের নাম ওঠে ‘বি’ গ্রুপে। এই গ্রুপে স্বাগতিক ভারত এর সঙ্গে পড়েছে বাংলাদেশ। তৃতীয় পট থেকে একই গ্রুপে যুক্ত হয়েছে মালদ্বীপ। ফলে গ্রুপ পর্বেই বাংলাদেশের সামনে অপেক্ষা করছে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা।

অন্যদিকে ‘এ’ গ্রুপে রয়েছে নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও ভুটান। শক্তিমত্তার বিচারে এই গ্রুপে নেপালকে এগিয়ে রাখা হচ্ছে এবং তারা গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার অন্যতম দাবিদার। টুর্নামেন্টের নিয়ম অনুযায়ী, দুই গ্রুপের প্রতিটি দল দু’টি করে ম্যাচ খেলবে এবং পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষ দুটি দল সেমিফাইনালে উঠবে।

বাংলাদেশের সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ

বাংলাদেশের জন্য গ্রুপ পর্বে ভালো ফল করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে, ‘বি’ গ্রুপে চ্যাম্পিয়ন হতে পারলে সেমিফাইনালে সম্ভাব্য শক্তিশালী প্রতিপক্ষ নেপালকে এড়ানো সম্ভব হবে। তাই শুরু থেকেই জয়ের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার দিকে মনোযোগ দিচ্ছে দলটি।

এদিকে, সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ইভেন্টে অংশগ্রহণ নিয়ে কিছুটা সতর্ক অবস্থান দেখা গেলেও পরিস্থিতি ধীরে ধীরে উন্নতির দিকে যাচ্ছে। নিরাপত্তাজনিত কারণে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নেয়নি।

অবশ্য, পরবর্তীতে শুটিং দলের ভারতে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়, যা ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। জাতীয় নির্বাচনের পর দুই দেশের সম্পর্ক কিছুটা উন্নত হওয়ায় নারী ফুটবল দলকে ভারতে পাঠানোর বিষয়ে ক্রীড়া মন্ত্রণালয় ইতিবাচক মনোভাব দেখাচ্ছে।

হ্যাটট্রিক শিরোপার লক্ষ্য সামনে রেখে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল আগামী পরশু চট্টগ্রামে নিবিড় অনুশীলন শুরু করবে। শুধু দেশেই নয়, বিদেশেও প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার পরিকল্পনা রয়েছে। সব মিলিয়ে কঠোর প্রস্তুতি ও আত্মবিশ্বাস নিয়ে নতুন ইতিহাস গড়ার লক্ষ্যেই এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশের মেয়েরা।

Exit mobile version