চীন সফরে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক , যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক বর্তমানে চার দিনের সরকারি সফরে চীনের সানিয়া শহরে অবস্থান করছেন। ২০ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে শুরু হওয়া এই সফরের প্রধান উদ্দেশ্য হলো ‘৬ষ্ঠ এশিয়ান বিচ গেমস’-এর জাঁকজমকপূর্ণ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করা এবং এর পাশাপাশি ক্রীড়া খাতে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও জোরদার করা।
সফরের প্রথম দিনেই প্রতিমন্ত্রী হাইনান প্রদেশের ভাইস গভর্নর এইচ. ই. মিস ঝি জিং, পর্যটন ও ক্রীড়া দপ্তরের মহাপরিচালক চেন তিয়েজুন এবং সানিয়া সিটির ভাইস মেয়র ফ্যান ওয়েইঝেং-এর সাথে এক উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন। বৈঠকটি অত্যন্ত আন্তরিক, সৌহার্দ্যপূর্ণ এবং ফলপ্রসূ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে ক্রীড়া কূটনীতি আরও শক্তিশালী করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
আলোচনায় সার্ফিং, শুটিং, ভলিবল এবং টেবিল টেনিসের মতো আন্তর্জাতিক মানের খেলাগুলোতে পারস্পরিক কারিগরি সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় হয়। উভয় দেশই সম্মত হয় যে, উন্নত প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করতে দক্ষ কোচ, আধুনিক প্রশিক্ষণ পদ্ধতি এবং প্রযুক্তির বিনিময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এ ছাড়া বাংলাদেশের ক্রীড়া প্রতিভা বিকাশে বিকেএসপি-সহ বিভিন্ন ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের জন্য চীনে উচ্চতর প্রশিক্ষণ ও বৃত্তির সুযোগ সম্প্রসারণের বিষয়েও ইতিবাচক আলোচনা হয়।
বাংলাদেশি ক্রিকেট কোচ নিতে আগ্রহী চীন
বৈঠকে ভবিষ্যতে ক্রীড়া উন্নয়নের একটি সুস্পষ্ট রূপরেখা প্রণয়নের লক্ষ্যে সমঝোতা স্মারক (MOU) এবং দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। উল্লেখযোগ্যভাবে, চীনের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশের ক্রিকেটের সাম্প্রতিক সাফল্যের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং বাংলাদেশ থেকে দক্ষ ও অভিজ্ঞ ক্রিকেট কোচ নিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেন। যা দুই দেশের ক্রীড়া বিনিময়ের একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে।
এছাড়াও, তৃণমূল পর্যায়ে নারী খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং প্যারা স্পোর্টস বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ক্রীড়াবিদদের জন্য প্রশিক্ষণ ও সুযোগ-সুবিধা সম্প্রসারণের বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। এসব উদ্যোগ ক্রীড়া ক্ষেত্রে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত চলমান এই সফর বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ক্রীড়া সহযোগিতা ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করবে এবং ভবিষ্যতে যৌথ উদ্যোগ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে।
স্কোর কার্ড
বিশ্বকাপ ২০২৩




















