তৃতীয় ওয়ানডেতে শেষ পর্যন্ত লড়াই করেও হারলো বাংলাদেশ

তৃতীয় ওয়ানডেতে শেষ পর্যন্ত লড়াই করেও হারলো বাংলাদেশ

তৃতীয় ওয়ানডেতে শেষ পর্যন্ত লড়াই করেও হারলো বাংলাদেশ । অস্ট্রেলিয়াকে হোয়াইটওয়াশ করার স্বপ্ন এক সময় বেশ জোরালোভাবেই দেখছিল বাংলাদেশ। শেষদিকে শরিফুল ইসলামের দুর্দান্ত বোলিং সেই সম্ভাবনা আরও উসকে দিয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত ২২ বছর বয়সী কুপার কনোলির ব্যাটে ভর করে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে জয় তুলে নিয়েছে সফরকারীরা। ফলে দারুণ লড়াইয়ের পরও হার নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে টাইগারদের।

মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে ৫ উইকেটে ২৭৪ রানের প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ সংগ্রহ গড়ে বাংলাদেশ। লিটন দাস, তাওহীদ হৃদয় এবং মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের ফিফটিতে শক্ত অবস্থান তৈরি করে স্বাগতিকরা। কিন্তু সেই রানও শেষ পর্যন্ত নিরাপদ হয়নি অস্ট্রেলিয়ার দৃঢ় ব্যাটিংয়ের সামনে। ৩ বল ও ১ উইকেট হাতে রেখেই লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলে অজিরা।

ব্যাট হাতে বাংলাদেশের শুরুটা ভালো হয়নি। ইনিংসের প্রথম ওভারেই ফেরেন সৌম্য সরকার। এরপর তানজিদ হাসান তামিম ও নাজমুল হোসেন শান্ত কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও ৬১ রানেই ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় দল।

সেখান থেকে ইনিংস মেরামতের দায়িত্ব নেন লিটন ও তাওহীদ হৃদয়। চতুর্থ উইকেটে ৯২ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে বাংলাদেশকে ম্যাচে ফেরান এই দুই ব্যাটার। ইনিংসের মাঝপথে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়লেও পরে ফিরে এসে মিরপুরে নিজের প্রথম ওয়ানডে ফিফটি পূর্ণ করেন লিটন। শেষ পর্যন্ত ৫৮ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। অন্যদিকে হৃদয় খেলেন ৮৩ রানের কার্যকর ইনিংস।

শেষ দিকে মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতও দেখান আগ্রাসী ব্যাটিং। তার অপরাজিত ৫৬ রানের ইনিংসে ভর করে ২৭৪ রানের লড়াকু পুঁজি পায় বাংলাদেশ।

তবে রান তাড়ায় শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল অস্ট্রেলিয়া। তাসকিন আহমেদ ও মোস্তাফিজুর রহমানকে চড়াও হয়ে প্রথম চার ওভারেই ৩৮ রান তুলে নেয় সফরকারীরা।

এরপর আক্রমণে এসে ম্যাচের গতি বদলে দেন শরিফুল ইসলাম। নিজের প্রথম ওভারেই জশ ইংলিস ও ম্যাট রেনশোকে ফিরিয়ে দেন বাঁহাতি এই পেসার। পরে তাসকিন আহমেদ অ্যালেক্স ক্যারিকে আউট করলে ম্যাচে ফেরার আশা দেখে বাংলাদেশ।

কিন্তু সেই আশা ধীরে ধীরে শেষ করে দেন কুপার কনোলি। মার্নাস লাবুশেনকে সঙ্গে নিয়ে ৬৪ রানের জুটি গড়ে চাপ সামাল দেন তিনি। লাবুশেন ধীরস্থির থাকলেও কনোলি খেলেন আগ্রাসী ভঙ্গিতে। চার-ছক্কায় ৫১ বলে তুলে নেন নিজের ফিফটি।

অর্ধশতকের পর আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠেন এই তরুণ ওপেনার। লাবুশেন আউট হলেও থামেননি। ক্যামেরন গ্রিনকে নিয়ে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে ম্যাচ পুরোপুরি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে যান। একপর্যায়ে মাত্র ৮৭ বলে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি তুলে নেন কনোলি।

গ্রিন ২৭ রান করে ফিরলেও তখন ম্যাচ প্রায় অস্ট্রেলিয়ার দখলে। এরপর পাকিস্তানের বিপক্ষে অভিষেক হওয়া ১৯ বছর বয়সী অলিভার পিকও খেলেন কার্যকর ২৭ রানের ইনিংস।

শেষদিকে অবশ্য হাল ছাড়েননি শরিফুল। টানা দুই বলে অলিভার পিক ও জাভিয়ার বার্টলেটকে ফিরিয়ে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম ফাইফারের দেখা পান তিনি। পরে আরও একটি উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচে মোট ৬ উইকেট শিকার করেন এই পেসার।

তবে অন্য প্রান্ত থেকে প্রয়োজনীয় সমর্থন না পাওয়ায় শরিফুলের ক্যারিয়ারসেরা বোলিংও শেষ পর্যন্ত হার এড়াতে পারেনি বাংলাদেশকে। ৪৯.৩ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে জয় নিশ্চিত করে অস্ট্রেলিয়া।

বাংলাদেশের হয়ে শরিফুল ইসলাম একাই নেন ৬ উইকেট। এছাড়া তাসকিন আহমেদ, মোস্তাফিজুর রহমান ও শেখ মেহেদী হাসান নেন একটি করে উইকেট।

Exit mobile version