ক্রিকেটে জোড়ায় জোড়ায় উইকেট পড়ার মূল কারণ হলো একটি উইকেট পড়ার পর ব্যাটিং দলের ওপর চাপ তৈরি হওয়া, আর বোলিং দল সেই চাপ কাজে লাগিয়ে উইকেট তুলে নেয় বা রিদম কাজে লাগায়। অপরদিকে ব্যাটিং দল সেই চাপ সামাল দিতে ব্যর্থ হয় নতুন করে উইকেটে সেট হওয়া বা আগের ব্যাটারের সাথে কথা বলে উইকেট বা বোলার সম্পর্কে জেনে সে অনুযায়ী উইকেটে থিতু হতে না পারায়। বাংলাদেশ-আফগানিস্তান টেস্ট এর প্রথম দিনেও ঠিক এমনটাই হয়েছে যার কারণে দাপুটে শুরুর পরও লক্ষ্যচ্যুত হয়েছে বাংলাদেশের ব্যাটিং।
নতুন ব্যাটার এসে চাপে পড়বে এটাই স্বাভাবিক। ১২৪ রানে তানজিদ আউট সেটা মেনে নিলাম এরপর ১৮৪ রানে ২য় উইকেট এরপর ২২১ রানে ৩য় উইকেট সেট ব্যাটার মুমিনুল আউট সেটাও মানলাম এরপর কি হল? মুশফিক আউট হলেন ২২৩ রানে আবার সেট ব্যাটার শান্ত তিনি আউট হলেন ২২৫ রানে এই মড়ক বাংলাদেশকে পিছিয়ে দিল ৪০০ রান থেকে। একজন সেট ব্যাটার আউট হলে নতুন ব্যাটারকে উইকেটে এসে স্ট্রাইক রোটেড করে খেলতে হয়। আফগানিস্তান র্যাঙ্কিং এর বাইরের দলের সাথেও যদি এই ভুলগুলো হয় তাহলে কার সাথে শিখবে! পিচ, বোলারের গতি ও বলের বাউন্স বুঝে উঠতে পারেনি আমাদের ব্যাটাররা অথবা অতি আত্মবিশ্বাসীর কারেণেই এমন হয়েছে।
বোলার ব্যাটারের দুর্বল জায়গায় আঘাত করবে এটাই নিয়ম একজন ব্যাটার শর্ট বল বা বাউন্সারে সমস্যায় পড়লে বোলার সেই ধরনের বল বারবার করেন। পরের ব্যাটারও একই সমস্যায় পড়তে পারেন। শর্ট বলেও সমস্যা মনে হয়েছে আমাদের ব্যাটারদের। তানজিদ তামিম ৮৩ রানে সেঞ্চুরির সামনে দাঁড়িয়ে তখন তো বোলাররা তাকে ফাঁদে ফেলতে চাইবে এটাই স্বাভাবিক। তামিম কেন এমন ফাঁদে পা দিবেন তার সতীর্থ ব্যাটারকে তো সতর্ক করতে হবে। সাদমান ও শর্ট বলে উইকেট দিলেন জিয়াউর রহমানকে। লিটন দাস বাউন্সারে আউট! এতগুলো সেট ব্যাটার কেন এই নবীন দেশের সাথে এভাবে আউট হবেন! উইকেট পড়ার পর বোলার স্লিপ, শর্ট লেগ বা উইকেট কিপারের কাছে ক্যাচ ধরার ফিল্ডার রাখতে পারেন। ব্যাটার তখন ভুল শট খেললে ক্যাচ হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।
মানসিক চাপ ও ভুল সিদ্ধান্তে পরপর উইকেট পড়লে ব্যাটাররা ভাবতে পারেন, রান তুলতে হবে অথবা উইকেট বাঁচাতে হবে। এই দ্বিধা থেকে ভুল শট, অপ্রয়োজনীয় আক্রমণ কিংবা অতিরিক্ত রক্ষণাত্মক ব্যাটিং করতে গিয়ে খোলসে ঢুকে গেলে ব্যাটিং ধস নামতে পারে তবে আমার মনে হয় সেই ধরনের অবস্থার সৃষ্টি হয়নি যে আমাদের সেট ব্যাটাররা অতি রক্ষনাত্মত খেলতে হবে।
তহলে কি আমাদের ব্যাটাররা মনে করেন যে, অনেক রান হয়েছে চাপ কাটিয়ে উঠেছি এখন আরামে খেলি! তা না হলে কেন আমরা প্রথম দিনে ৪০০ রানের সম্ভাবনাটাকে জলাঞ্জলি দিলাম? তবে দিন শেষে আফগানিস্তান কি স্বস্তিতে? যে আমরা ৪০০ রান থেকে বাংলাদেশকে ছিটকে দিয়েছি অথবা তাদের ৮ উইকেট নিয়েছি? সেটা তাদের জন্য হতে পারে কিন্তু আমরা যদি আফগানিস্তানের সাথে বারবার ভুল করি তাহলে বড় দলের সাথে সেই ভুলের মাত্রা বেড়ে যাবে তা বলাই যায়।
আজ ২য় দিন যদি বাংলাদেশ দিনের প্রথম সেশন কাটাতে পারে বা আরো ৫০ বা ৬০ রান করতে পারে তাহলে শেষের ব্যাটারদের কৃতিত্ব দিতে হবে এবং বাংলাদেশ এগিয়ে থাকবে এই টেস্টে যদিও এখন যে রান হয়েছে সেই রানও যে খারাপ তা বলবনা কারণ এই উইকেটে ৪র্থ ইনিংসের গড় রান ১৩৬ তার মানে আফগানিস্তানকে রান তাড়ায় জিততে হবে ৪র্থ ইনিংসেই। তাই বাংলাদেশের আপসোস থাকলেও এই রান নিয়েই এগিয়ে তা বলাই যায়।
সারকথা: উইকেট পড়া সমস্যা নয়; এক উইকেট পড়ার পর দ্রুত আরেকটি উইকেট দিয়ে ফেলাই বড় সমস্যা। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে প্রথম উইকেটের পরও ৬০ রানের জুটি হয়েছিল, কিন্তু এরপর দ্রুত ৪ রানে ৩ উইকেট পড়ে যাওয়ায় ইনিংসের নিয়ন্ত্রণ আফগানিস্তানের হাতে চলে যায়। আর এই জোড়ায় জোড়ায় উইকেট পতন রোধ করতে পারলেই বাংলাদেশ আরো ভাল রানের দিকে যেতে পারতো। অবশ্য জোড়ায় জোড়ায় উইকেট পতন বাংলাদেশের পুরনো সমস্যা যা অন্তত এই ছোড় দলগুলোর বিপক্ষে কাটিয়ে উঠতে হত।




