আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের অধ্যায় শেষ করলেন অস্ট্রেলিয়ার তারকা অলরাউন্ডার গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। ৩৮ বছর বয়সে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। শুধু আন্তর্জাতিক ক্রিকেটই নয়, প্রথম শ্রেণি ও লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেট থেকেও সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এই অজি ক্রিকেটার। তবে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের জনপ্রিয় আসর বিগ ব্যাশ লিগে খেলা চালিয়ে যাবেন তিনি।
এর আগে গত বছরের জুনে ওয়ানডে ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছিলেন ম্যাক্সওয়েল। সর্বশেষ ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার জার্সিতে মাঠে নেমেছিলেন তিনি। আসরটিতে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয় অস্ট্রেলিয়া। ওমানের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচটিই হয়ে থাকল আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ম্যাক্সওয়েলের শেষ ম্যাচ। সেই ম্যাচে বল হাতে দুটি উইকেট নিলেও ব্যাটিংয়ের সুযোগ পাননি তিনি।
‘দ্য ফাইনাল ওয়ার্ড’ পডকাস্টে অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়ে ম্যাক্সওয়েল জানান, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে ও পরে বিষয়টি নিয়ে দলের সঙ্গে একাধিকবার আলোচনা হয়েছে। তবে অস্ট্রেলিয়া দলের ম্যানেজমেন্টের পক্ষ থেকে তার ওপর কোনো ধরনের চাপ ছিল না।
ম্যাক্সওয়েলের ভাষায়, ‘টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে ও পরে আমাদের মধ্যে বেশ কয়েকবার আলোচনা হয়েছে। আলোচনাগুলো ছিল অনেকটাই উন্মুক্ত। অস্ট্রেলিয়া দলের ম্যানেজমেন্ট থেকে কোনো চাপ ছিল না। তাই আমরা দরজাটা খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। সামনে কয়েকটি সিরিজ ছিল, যেখানে তারা ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে দল সাজাতে চেয়েছিল। বাংলাদেশ সফরেও আমরা ব্যাপারটি দেখেছি। সেখানে কয়েকজন খেলোয়াড় সুযোগ পেয়েছে এবং দারুণ পারফর্ম করেছে।
নিজের ঘরের মাঠ মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে (এমসিজি) বিদায়ী ম্যাচ খেলার সম্ভাবনা নিয়েও কথা বলেছেন এই অলরাউন্ডার। তবে জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাকে গুরুত্ব দিয়ে নিজের প্রত্যাশা থেকে সরে এসেছেন তিনি।
এ প্রসঙ্গে ম্যাক্সওয়েল বলেন, ‘আমার মনে হয়, মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে (এমসিজি) বিদায়ী একটি ম্যাচ খেলার ক্ষীণ আশা বা আলোচনা ছিল। তবে এই দল নিয়ে তারা যে পথে এগোচ্ছে, সেটি আমি পুরোপুরি বুঝতে পারছি। আগামী ১২ থেকে ২৪ মাসে দলে অনেক পরিবর্তন আসবে বলে মনে হচ্ছে। ২০২৮ সালে অলিম্পিকও রয়েছে। তাই তাদের নিশ্চিত করতে হবে, উঠে আসা কয়েকজন তরুণ খেলোয়াড়কে ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের চাপ সামলানোর অভিজ্ঞতা দেওয়া হচ্ছে। বিগ ব্যাশ লিগের কোনো ম্যাচ থেকে সব সময় এমন অভিজ্ঞতা পাওয়া যায় না।
ভিক্টোরিয়ার হয়ে শেষ ওয়ানডে খেলার অভিজ্ঞতাও আবেগাপ্লুত করেছে ম্যাক্সওয়েলকে। রাজ্য দলের সতীর্থদের সামনে নিজের সিদ্ধান্ত জানানোর মুহূর্তটি প্রত্যাশার চেয়েও কঠিন ছিল বলে জানিয়েছেন তিনি।
ম্যাক্সওয়েল বলেন, ‘ভিক্টোরিয়ার হয়ে শেষ ওয়ানডে ম্যাচ খেলার পর সতীর্থদের সঙ্গে কথা বলে রাজ্য দলের হয়ে সেই ম্যাচই আমার শেষ ম্যাচ ছিল, তা জানানোটা যতটা কঠিন হবে ভেবেছিলাম, তার চেয়েও বেশি কঠিন ছিল। আমার পুরো ক্যারিয়ারে তাদের অবদান অনেক বেশি। যখনই দলে ফিরেছি, দারুণ সব সতীর্থ এবং রাজ্য ক্রিকেটের কাছ থেকে প্রচুর সমর্থন পেয়েছি। দলের সবার সামনে কথা বলতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছিলাম। তবে এখন সম্ভবত ক্যারিয়ারের বাকি কয়েকটি টুর্নামেন্টে খেলার জন্য শরীরের পেছনে আরও বেশি সময় ও মনোযোগ দেওয়ার প্রয়োজন।
বিদায়ী ম্যাচ খেলার সুযোগ থাকলেও শেষ পর্যন্ত শরীরের যত্ন নেওয়াকেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন ম্যাক্সওয়েল। বিশেষ করে আসন্ন বিগ ব্যাশ লিগের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করতে পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় মনোযোগ দিয়েছেন তিনি।
এ প্রসঙ্গে তার বক্তব্য, ‘(বিদায় ম্যাচ খেলার) সুযোগটা ছিল। তবে বিগ ব্যাশের জন্য প্রস্তুত হতে হাঁটুতে ইনজেকশন নেওয়ার সিদ্ধান্ত প্রায় নিয়েই ফেলেছিলাম। তাই দুই দিক থেকেই ইতিবাচক কিছু ছিল। আর সেই সুযোগের দরজা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর শরীরের যত্ন নেওয়ার জন্য সময় দিতে পেরেছি। আবারও টানা আট সপ্তাহ পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে গেছি, যাতে শক্তিশালী হয়ে আসন্ন বিবিএলের জন্য প্রস্তুত থাকতে পারি।
বিদায়ী ম্যাচ নিয়ে নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে ম্যাক্সওয়েল আরও বলেন, ‘সম্ভবত এটা সেই ছোট্ট রূপকথার মতো, যেটা আমরা নিজেদের নায়ক ও আদর্শ খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রে দেখতে পাই। একটা সময় নিজের মনেও তেমন স্বপ্ন উঁকি দেয়। আমার মনে হয়, অন্য কোনো ফরম্যাটে আমি এমন বিদায়ী ম্যাচ চাইতাম না। কারণ গত ১৫ বছরে এই ফরম্যাটটিই (টি-টোয়েন্টি) আমার কাছে প্রায় ঘরের মতো মনে হয়েছে।




