শ্রীলঙ্কাকে ৪৫ রানে হারিয়ে চলমান অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপের এবারের আসরে প্রথম জয়ের দেখা পেয়েছে টাইগার যুবারা। ব্যাট হাতে আহসান আল মুমিনের দুর্দান্ত ৮২ রান এবং বোলারদের সম্মিলিত পারফরম্যান্সে গুরুত্বপূর্ণ এই জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ। আফগানিস্তানের বিপক্ষে টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে হারের হতাশা কাটিয়ে জয়ের ধারায় ফিরেছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট দল।
শনিবার (৭ নভেম্বর) ওমানের আল আমেরাতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। তবে নির্ধারিত ৫০ ওভার শেষ হওয়ার আগেই ২৪৫ রানে অলআউট হয়ে যায় টাইগার যুবারা। ইনিংসের শেষ দুই বল বাকি থাকতে সব উইকেট হারায় বাংলাদেশ। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ রান করেন আহসান আল মুমিন। তাঁর ৮২ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস বাংলাদেশের সংগ্রহকে লড়াই করার মতো অবস্থানে নিয়ে যায়।
শুরু থেকেই বাংলাদেশের ব্যাটাররা বড় সংগ্রহ গড়ার চেষ্টা করেন। তবে শ্রীলঙ্কার বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে দলটি। একপর্যায়ে ইনিংস কিছুটা চাপে পড়লেও আহসান আল মুমিনের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পায় বাংলাদেশ।
মুমিনের পাশাপাশি ব্যাট হাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন এসকে জারিফ সিয়াম। ৮৩ বল মোকাবিলা করে ৫৯ রান করেন তিনি। তাঁর ইনিংসটি বাংলাদেশের স্কোরবোর্ডে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। এ ছাড়া আব্দুল্লাহ আল মুহি করেন ৩০ রান। তাঁদের এই অবদানে শেষ পর্যন্ত ২৪৫ রানের পুঁজি পায় বাংলাদেশ।
শ্রীলঙ্কার বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল ছিলেন সেথমিকা সেনেরিরত্নে। তিনি একাই তুলে নেন চারটি উইকেট। গিমহান মেন্ডিস শিকার করেন তিন উইকেট এবং কউশিকা কুমারাসিংহে পান দুটি উইকেট। তাঁদের বোলিং তোপেই বড় সংগ্রহের পথে এগোতে পারেনি বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপ।
২৪৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে শ্রীলঙ্কা। দলীয় ১৬ রানেই প্রথম উইকেট হারায় লঙ্কান যুবারা। এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে তারা। তবে এক প্রান্ত আগলে রেখে বাংলাদেশের বোলারদের বিপক্ষে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন সেনুজা ওয়েকুনাগদারা।
তাঁর ব্যাটিংয়েই ম্যাচে ফিরে আসার স্বপ্ন দেখতে শুরু করে শ্রীলঙ্কা। একের পর এক সতীর্থ সাজঘরে ফিরলেও ওয়েকুনাগদারা একপ্রান্তে দৃঢ়তার সঙ্গে ব্যাটিং চালিয়ে যান। তাঁর ৮৫ রানের ইনিংস লঙ্কানদের জয়ের সম্ভাবনা জিইয়ে রেখেছিল। তবে শেষ পর্যন্ত তাঁর বিদায়ের পর ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় শ্রীলঙ্কা।
ওয়েকুনাগদারা আউট হওয়ার পর আর কোনো ব্যাটার বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। বাংলাদেশের বোলাররা তখন আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট তুলে নিয়ে শ্রীলঙ্কার ব্যাটিং লাইনআপ গুঁড়িয়ে দেন তাঁরা। শেষ পর্যন্ত ৪৬.১ ওভারে ২০০ রানেই অলআউট হয়ে যায় শ্রীলঙ্কা। ফলে ৪৫ রানের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশের বোলিং বিভাগে ছিলেন বেশ কয়েকজন সফল বোলার। রাফিউল আলম তামিম, শেখ আতিকুর রহমান, রুবাই ইসলাম রিজন ও রবিউল হাসান অনিক প্রত্যেকেই দুটি করে উইকেট শিকার করেন। সম্মিলিতভাবে তাঁদের কার্যকর বোলিংই শ্রীলঙ্কাকে লক্ষ্য থেকে ৪৫ রান দূরে আটকে দেয়।
এই জয়ের ফলে টুর্নামেন্টে নিজেদের প্রথম জয় তুলে নেওয়ার পাশাপাশি আগের ম্যাচের পরাজয়ের হতাশাও কাটিয়ে উঠল বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল। আফগানিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে হারের পর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এমন জয় নিঃসন্দেহে তরুণ ক্রিকেটারদের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে।
বিশেষ করে ব্যাট হাতে আহসান আল মুমিন ও জারিফ সিয়ামের দায়িত্বশীল পারফরম্যান্স এবং বোলিংয়ে চারজনের দুটি করে উইকেট নেওয়া বাংলাদেশের দলীয় শক্তির পরিচয় দিয়েছে। একদিকে ব্যাটাররা লড়াই করার মতো সংগ্রহ এনে দিয়েছেন, অন্যদিকে বোলাররা পরিকল্পিত আক্রমণে প্রতিপক্ষকে আটকে রেখেছেন।
সব মিলিয়ে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৪৫ রানের এই জয় অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপে বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এক প্রত্যাবর্তন। প্রথম ম্যাচের ব্যর্থতা পেছনে ফেলে জয়ের পথে ফিরেছে টাইগার যুবারা। এখন এই ধারাবাহিকতা ধরে রেখে পরবর্তী ম্যাচগুলোতেও ভালো পারফরম্যান্স করার লক্ষ্য থাকবে বাংলাদেশের।
অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপ
বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ — ২৪৫/১০ (৪৯.৪ ওভার)
- আহসান আল মুমিন — ৮২
- এসকে জারিফ সিয়াম — ৫৯
- আব্দুল্লাহ আল মুহি — ৩০
শ্রীলঙ্কার বোলিং
- সেথমিকা সেনেরিরত্নে — ৪ উইকেট
- গিমহান মেন্ডিস — ৩ উইকেট
- কউশিকা কুমারাসিংহে — ২ উইকেট
শ্রীলঙ্কা অনূর্ধ্ব-১৯ — ২০০/১০ (৪৬.১ ওভার)
– সেনুজা ওয়েকুনাগদারা — ৮৫
বাংলাদেশের বোলিং
- রাফিউল আলম তামিম — ২ উইকেট
- শেখ আতিকুর রহমান — ২ উইকেট
- রুবাই ইসলাম রিজন — ২ উইকেট
- রবিউল হাসান অনিক — ২ উইকেট
ফলাফল: বাংলাদেশ ৪৫ রানে জয়ী।
ম্যাচের সেরা পারফরম্যান্স: আহসান আল মুমিন (৮২ রান)




