প্রথমবারের মতো ১০ দলের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আইসিসি নারী ইমার্জিং নেশনস ট্রফি। দ্বিতীয় আসরে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ নেদারল্যান্ডস, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড ও জিম্বাবুয়ে। আগামী ১২ থেকে ২৫ নভেম্বর সংযুক্ত আরব আমিরাতের আজমানে বসবে এই প্রতিযোগিতার আসর।
নারী ক্রিকেটের উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদীয়মান দলগুলোর প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ বাড়াতে টুর্নামেন্টের পরিধি বাড়িয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। আট দলের পরিবর্তে এবার অংশ নেবে ১০টি দল। এর মধ্যে পাঁচটি আইসিসির পূর্ণ সদস্য দেশ এবং বাকি পাঁচটি সহযোগী সদস্য দেশ।
আইসিসির ঘোষিত তথ্য অনুযায়ী, পূর্ণ সদস্য দেশ হিসেবে টুর্নামেন্টে অংশ নেবে বাংলাদেশ, আয়ারল্যান্ড, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও জিম্বাবুয়ে। সহযোগী সদস্য দেশগুলোর তালিকায় রয়েছে নেদারল্যান্ডস, পাপুয়া নিউগিনি (পিএনজি), স্কটল্যান্ড, থাইল্যান্ড ও সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)।
বাংলাদেশের গ্রুপে চার প্রতিপক্ষ
১০ দলকে দুটি গ্রুপে ভাগ করা হয়েছে। ‘বি’ গ্রুপে বাংলাদেশের সঙ্গে রয়েছে নেদারল্যান্ডস, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড ও জিম্বাবুয়ে। ফলে গ্রুপ পর্বে চারটি ভিন্ন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেলতে হবে বাংলাদেশকে।
অন্যদিকে ‘এ’ গ্রুপে রয়েছে আয়ারল্যান্ড, পাপুয়া নিউগিনি, স্কটল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা ও সংযুক্ত আরব আমিরাত।
গ্রুপ ‘এ’
- আয়ারল্যান্ড
- পাপুয়া নিউগিনি
- স্কটল্যান্ড
- শ্রীলঙ্কা
- সংযুক্ত আরব আমিরাত
গ্রুপ ‘বি’
- বাংলাদেশ
- নেদারল্যান্ডস
- পাকিস্তান
- থাইল্যান্ড
- জিম্বাবুয়ে
যেভাবে হবে টুর্নামেন্ট
প্রথমে দুটি গ্রুপে গ্রুপ পর্বের ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। এরপর দলগুলো অংশ নেবে সুপার সিক্স পর্বে। সবশেষে হবে ফাইনাল। টুর্নামেন্টের ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আজমানের কারওয়ান স্পোর্টস ও সেভেন ডিস্ট্রিক্টস মাঠে।
নারী ক্রিকেটের আন্তর্জাতিক কাঠামোয় উদীয়মান দলগুলোর জন্য আরও বেশি প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ নিশ্চিত করাই এবারের আসর সম্প্রসারণের অন্যতম উদ্দেশ্য। পূর্ণ সদস্য ও সহযোগী সদস্য দেশগুলোর মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ খেলোয়াড়দের দক্ষতা যাচাই এবং আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা অর্জনে সহায়তা করবে বলে মনে করছে আইসিসি।
আইসিসির ইভেন্টস ও ক্রিকেট অপারেশন্স বিভাগের মহাব্যবস্থাপক গৌরব সাক্সেনা জানিয়েছেন, ১০ দলের এই প্রতিযোগিতা উদীয়মান দলগুলোর জন্য অর্থবহ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সুযোগ বাড়াবে। পাঁচটি পূর্ণ সদস্য ও পাঁচটি সহযোগী সদস্য দেশের অংশগ্রহণ খেলোয়াড়দের আরও বিস্তৃত পরিসরের প্রতিপক্ষের বিপক্ষে নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণের সুযোগ করে দেবে।
প্রথম আসরে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল থাইল্যান্ড
২০২৫ সালে অনুষ্ঠিত হয়েছিল নারী ইমার্জিং নেশনস ট্রফির প্রথম আসর। নিজেদের মাঠে সেই প্রতিযোগিতায় শিরোপা জিতেছিল থাইল্যান্ড। পয়েন্ট তালিকায় থাইল্যান্ডের পাশাপাশি স্কটল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস ও সংযুক্ত আরব আমিরাত সমান পয়েন্টে শেষ করেছিল। শেষ পর্যন্ত নেট রান রেটের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয় চূড়ান্ত অবস্থান।
প্রথম আসরে বেশ কয়েকজন খেলোয়াড়ের পারফরম্যান্স আইসিসি নারী টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক র্যাঙ্কিংয়েও উন্নতি এনে দিয়েছিল। নিয়মিত উচ্চমানের আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার সুযোগ যে উদীয়মান দলগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ, সেটিও উঠে এসেছিল ওই প্রতিযোগিতায়।
এবার ১০ দলের অংশগ্রহণে প্রতিযোগিতাটি আরও বিস্তৃত হচ্ছে। বাংলাদেশের জন্য গ্রুপ পর্বে পাকিস্তান ও জিম্বাবুয়ের মতো পূর্ণ সদস্য দেশের পাশাপাশি নেদারল্যান্ডস ও থাইল্যান্ডের বিপক্ষেও নিজেদের সামর্থ্য দেখানোর সুযোগ থাকবে।
আগামী ১২ নভেম্বর শুরু হয়ে ২৫ নভেম্বর ফাইনালের মধ্য দিয়ে পর্দা নামবে আইসিসি নারী ইমার্জিং নেশনস ট্রফির দ্বিতীয় আসরের।




