২০২৬ সালের বাজেট নিয়ে বাফুফের সভা আবার বসবে কাল। একের পর এক সভা করেও বাজেট চূড়ান্ত করতে পারছে না বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। রবিবার নির্বাহী কমিটির সভায় বাজেট অনুমোদন হয়নি। পরের দিন ফিন্যান্স কমিটির সভায় বসতে হয়েছে। বুধবার নির্বাহী কমিটির অনলাইনে হওয়া বিশেষ সভা থেকেও পুরোপুরি সুরাহা হয়নি। তাই আগামীকাল ফের অনুষ্ঠিত হবে সভা।
২০২৬ সালের জন্য ১৩৮ কোটি টাকার বাজেট নিয়ে বাফুফের সভাগুলো হচ্ছে। বাফুফের বাৎসরিক বাজেট সাধারণত ৬০-৭০ কোটি টাকার মধ্যে থাকে। এবারই প্রথম সেটা শতকের অঙ্ক পেরিয়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। ১৩৮ কোটি টাকার মধ্যে ৬৮ কোটি টাকা ধরা হয়েছে কক্সবাজারে ফিফা টেকনিক্যাল সেন্টারের জন্য।
একটি বিশেষ প্রকল্প হিসেবে হাতে নেওয়া হয়েছে ফিফা টেনিক্যাল সেন্টারকে। সরকার থেকে জমির বিষয়টি নিষ্পত্তি হলে বাফুফে কক্সবাজারে টেকনিক্যাল সেন্টার নির্মাণের জন্য ফিফা থেকে অনুদানও পাবে। তবে জমির বিষয়টি এখনও নিশ্চিত না হওয়ায় ফান্ড পাওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। তাই ৬৮ কোটি বাদ দিলে মূলত ৭০ কোটি টাকাই বাফুফের ২০২৬ সালের বাজেট।
বাজেট নিয়ে বাফুফের সভা কেন শেষ হচ্ছে না?
ফিন্যান্স কমিটির অনুমোদন কিংবা সুপারিশ ছাড়াই বাফুফের নির্বাহী সভার প্রথম দিন বাজেট উথাপিত হয়েছিল। অন্য সদস্যগণ বাজেট পর্যালোচনার সুযোগ পাননি। বাফুফের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা জেরার মুখে পড়েছিলেন এই জন্য যে, তিনি কেন প্রক্রিয়া অনুসরণ করেননি । পরের দিন ফিন্যান্স কমিটির সভার পর বুধবার নির্বাহী কমিটির বিশেষ সভা ছিল বাজেট অনুমোদন নিয়েই।
এদিনের অনলাইন সভায় গুরুত্বপূর্ণ দুই জন সহ-সভাপতি অনুপস্থিত ছিলেন। তাদের অনুপস্থিতিতে বাকিরা বাজেট নিয়ে তেমন আপত্তি বা মতামত দেননি। গতানুগতিক ধারায় পাশ পাশ বলেছেন দুই-তিন জন সদস্য।
অনলাইন সভায় যোগদানের জন্য বাফুফে স্টাফরা নির্বাহী কমিটির ব্যক্তিবর্গের লিঙ্ক দেন। সেই লিঙ্ক পাওয়া নিয়ে সমস্যা তৈরি হয়েছে। বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল মিটিং চলাকালে সহ-সভাপতিদের যোগদানের অপেক্ষায় ছিলেন। এরপরও তারা সংযুক্ত হতে পারেননি।
সংখ্যাগরিষ্ঠের উপস্থিতিতে তাদের মতামতের প্রেক্ষিতে বাজেট পাশ হওয়ার আইন রয়েছে। তবে সভায় না থাকতে পারায় এক সহ-সভাপতির নোট অফ ডিসেন্ট থাকতে পারে। এমন দৃঢ়চেতা অবস্থানের প্রেক্ষিতে সভাপতি তাবিথ আউয়াল আজকের সভা স্থগিত করে আবার আগামীকাল বিকেল তিনটায় অনলাইনে নির্বাহী সভার সময় ঠিক করেছেন।
২০২৬ সালের বাজেট আলোচনার পাশাপাশি ২০২৫ সালের বাজেট পর্যালোচনা এজেন্ডা নিয়েও ব্যাপক প্রশ্ন উঠেছিল। বাজেট পর্যালোচনার আগে প্রয়োজন অডিট। সেই অডিট অসম্পূর্ণ এবং ইন্টারনাল অডিট কমিটির অনুমোদনের আগে নির্বাহী সভায় কেন? নির্বাহী কমিটির কর্মকর্তারা এমন প্রশ্নের কোনো সদুত্তর পাননি।
আজকের সভায় বাজেটের পাশাপাশি ২২ মে এজিএমে কাউন্সিলরদের টিএ/ডিএ প্রদান নিয়েও কিছুটা আলোচনা হয়েছে। কাউন্সিলরদের প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে দেয়ার প্রাথমিক আলাপও হয়। এর সাথে কোনো গিফট থাকবে কি না- এটা নিয়ে আলাপ হলেও অবশ্য চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
