নাটকীয় গোলে জাপানকে হারিয়ে বিশ্বকাপ ফুটবলের প্রি কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছেছে ব্রাজিল। পাঁচবারের বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়নরা এশিয়ার প্রতিনিধিকে পিছিয়ে পড়েও ২-১ গোলে হারিয়েছে। তবে জাপানের বিপক্ষে ব্রাজিলের দূর্বলতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে ম্যাচে।
দূর্ভাগ্য জাপানের। প্রথমে গোল করেও তারা জয়ের দেখা পায়নি। শেষ ষোলোতে পৌঁছানোয় ব্রাজিলের সাধারণ সমর্থকরা খুশি। তবে ফুটবল বোদ্ধারা মোটেও স্বস্তিতে নেই। ম্যাচটি ব্রাজিল জিতেছে ঠিকই, পৌঁছেছে শেষ ষোলোতে। তবে কঠিন দলের সামনে পড়লে ব্রাজিলের যে সমস্যা হতে পারে তা জাপানের ম্যাচে স্পষ্ট হয়েছে।
আবার শেষ সময়ে গোল হজম
সূর্যোদয়ের দেশ আরও একবার শেষ মুহুর্তে গোল হজম করে বিদায় নিল। ২০১৮ বিশ্বকাপে বেলজিয়ামের কাছে এমনই শেষ সময়ে গোল হজম করে বিদায় নিয়েছিল এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী দলটি। এবারের বিশ্বকাপে এশিয়ার দলগুলোর অবস্থা নাজুক। অস্ট্রেলিয়া আছে, তবে এশিয়ার মূল প্রতিনিধি হিসেবে শুধুমাত্র জাপান নক আউট পর্বে পৌঁছেছিল। কিন্তু তারাও বিদায় নিল। তবে বিশ্ব ফুটবলে তারা যে অবিশ্বাস্য উন্নতি করেছে তা বুঝিয়ে দিয়েছে।
শেষ ষোলোর লড়াইয়ে জাপান ব্রাজিলকে যথেষ্ঠ ভুগিয়েছে। প্রথমার্ধের শুরুতে ব্রাজিলের সামনে একটু চাপে ছিল। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে তারা ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ায়। একের পর এক আক্রমণ রচনা করে। জাপানের প্রধান অস্ত্র তাদের গতি। আর তা দিয়েই ব্রাজিলকে দিশেহারা করে তুলেছিল। কোনো খেলোয়াড়ই সেই গতির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে পারছিলেন না।
মাঝমাঠ নিয়ন্ত্রণহীন
ব্রাজিলকে গোল করে খেলায় ফিরিয়েছিলেন কাসেমিরো। ৩৪ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডারের মাঝে যে আগের সেই তেজ নেই তা ছিল স্পষ্ট। ম্যাচে ভাগ্যক্রমে গোল পেয়েছেন তিনি। তার গোলে ব্রাজিল খেলায় ফিরিছে, কিন্তু এই ছাড়া মাঠে তার উপস্থিতি খুঁজে পাওয়া কঠিন ছিল। সাধারণত মাঝ মাঠ থেকে কােসেমিরো খেলা নিয়ন্ত্রণ করে থাকেন। এদিন সেটা হয়নি। ফলে মাঝ মাঠে ব্রাজিলের তেমন কোন নিয়ন্ত্রণ ছিল না।
প্রথমার্ধের খেলা শেষে তো মনেই হয়েছিল ব্রাজিল হেরে যাচ্ছে। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে জাপান হঠাৎ করেই নিজেদের গুটিয়ে নেয়। ব্রাজিলের আক্রমণের মুখে সারাক্ষণ নিজেদের রক্ষণভাগে আটকে থাক। সেই সময় গতি বজায় রেখে তারা আরও একটা গোল পেলে ফল ভিন্নরকম হতে পারতো। শেষ পর্যন্ত দারুণ এক পরিকল্পনার ফসল ঘরে তোলে ব্রাজিল। ম্যাচের একেবারে অন্তিম মুহুর্তে গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির গোলে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে তারা। পৌঁছে যায় শেষ ষোলোতে।
