টেলরের সেঞ্চুরিতে জিম্বাবুয়ের দাপট

সাড়ে সাত বছর পর টেস্ট ক্রিকেটে শতকের দেখা পেলেন ব্রেন্ডন টেলর। তাঁর দুর্দান্ত সেঞ্চুরি এবং ব্রায়ান বেনেটের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে আফগানিস্তানের বিপক্ষে প্রথম টেস্টের উদ্বোধনী দিনটি নিজেদের করে নিয়েছে জিম্বাবুয়ে।

শারজায় বৃহস্পতিবার প্রথম দিন শেষে ৮৭ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ৩২৬ রান সংগ্রহ করেছে সফরকারীরা। টেলর ও বেনেটের ব্যাটে বড় সংগ্রহের ভিত গড়লেও শেষ সেশনে ঘুরে দাঁড়িয়ে কিছুটা স্বস্তি পেয়েছে আফগানিস্তান।

দিনের শুরু থেকেই নিয়ন্ত্রিত ব্যাটিং করেছে জিম্বাবুয়ে। দুই ওপেনার ইনোসেন্ট কাইয়া ও বেন কারেন প্রথম উইকেটে যোগ করেন ৬০ রান। আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে কাইয়া ৫১ বলে পাঁচটি চারের সাহায্যে করেন ৩৪ রান। তবে শুরু থেকেই ভাগ্যের সহায়তা পেয়েছেন তিনি। মোহাম্মদ সালিমের বলে এলবিডব্লিউয়ের আবেদন থেকে বেঁচে যান। পরে তাঁর একটি হুক শট ডিপ ফাইন লেগে ক্যাচ হওয়ার সুযোগ তৈরি করলেও তা ফেলে দেন ফিল্ডার। শেষ পর্যন্ত কাইয়ার বিদায়ও ছিল অদ্ভুত। কাইস আহমেদের বলে সুইপ করতে গিয়ে ব্যাটের পেছনের অংশে লেগে স্লিপে ক্যাচ দেন তিনি।

অন্য প্রান্তে ধৈর্যের পরিচয় দেন কারেন। দ্বিতীয় উইকেটে টেলরের সঙ্গে ৬৫ রানের জুটি গড়েন তিনি। ১১৩ বলে ৪২ রান করে সালিমের দুর্দান্ত ইয়র্কারে বোল্ড হন এই ওপেনার। তখন জিম্বাবুয়ের সংগ্রহ ১২৫ রান।

ব্রায়ান বেনেট ব্যাট করছেন

এরপর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেন টেলর ও বেনেট। তৃতীয় উইকেটে দুজনের ১৩৭ রানের জুটি আফগানিস্তানের বোলারদের বেশ চাপে ফেলে দেয়। দুজনের মধ্যে টেলর ছিলেন বেশি আক্রমণাত্মক। ১২৩ বল মোকাবিলা করে ৮৮ রান করেন তিনি। অন্যদিকে বেনেট ৭৭ বলে করেন ৪৯ রান। তাঁদের ব্যাটিংয়ে দ্বিতীয় সেশন শেষে ২ উইকেটে ২১৩ রান তুলে নেয় জিম্বাবুয়ে। তখন টেলর ৯৫ এবং বেনেট ৩৬ রানে অপরাজিত ছিলেন।

বিরতির পর দিনের প্রথম ওভারেই সালিমকে চার মেরে টেস্ট ক্যারিয়ারের সপ্তম শতক পূর্ণ করেন টেলর। ২০১৮ সালের নভেম্বরের পর টেস্টে এটিই তাঁর প্রথম সেঞ্চুরি। দীর্ঘ সময় টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত সুযোগ না পাওয়া এবং আইসিসির দুর্নীতিবিরোধী নীতিমালা ভঙ্গের দায়ে সাড়ে তিন বছরের নিষেধাজ্ঞা কাটানোর পর এমন প্রত্যাবর্তন নিঃসন্দেহে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।

তবে টেলরের শতকের পরই ঘুরে দাঁড়ায় আফগানিস্তান। হাশমতউল্লাহ শহিদির অফস্পিনে লং-অফে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন টেলর। তাঁর বিদায়ের পর দ্রুত আরও দুটি উইকেট হারায় জিম্বাবুয়ে। অভিজ্ঞ ক্রেইগ আরভিনকে ফিরিয়ে দেন জিয়া-উর-রহমান। পরে অভিষিক্ত অ্যান্টাম নাকভিও তাঁর শিকার হন। ফলে ২৬২ রানে ২ উইকেট থেকে ২৮৭ রানে ৫ উইকেটে পরিণত হয় জিম্বাবুয়ে।

spot_imgspot_img
spot_img

Related Articles