ইতালিয়ান লিগে নগর প্রতিদ্বন্দ্বী ইন্টার মিলানকে হারিয়ে আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার আশা করেছিল এসি মিলান। কিন্তু ঘরোয়া ফুটবলের সেই সাফল্য ইউরোপের মঞ্চে ধরে রাখতে পারল না দলটি। উয়েফা ইউরোপা লিগে নিজেদের মাঠে হাঙ্গেরির ক্লাব ফেরেঙ্কভারোশের কাছে ২-০ গোলে হেরেছে এসি মিলান। সফরকারীদের জয়ের নায়ক লেনি জোসেফ। দ্বিতীয়ার্ধে তাঁর করা জোড়া গোলেই পূর্ণ পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছেড়েছে হাঙ্গেরিয়ান ক্লাবটি।
চার ম্যাচে এসি মিলানের পয়েন্ট ৩
এই হারে ইউরোপা লিগের লিগ পর্বে চার ম্যাচ শেষে এসি মিলানের সংগ্রহ মাত্র ৩ পয়েন্ট। অন্যদিকে টানা চতুর্থ জয়ে নিজেদের শতভাগ সাফল্য ধরে রেখেছে ফেরেঙ্কভারোশ। লিগ পর্বের পয়েন্ট তালিকায় শীর্ষ ২৪ দলের বাইরে চলে গেছে ইতালিয়ান ক্লাবটি। ফলে পরবর্তী ম্যাচগুলোতে ঘুরে দাঁড়ানোর চাপ আরও বাড়ল তাদের ওপর।
একাদশের বাইরে পুলিসিচ
ইন্টারের বিপক্ষে জয়ের ম্যাচে গোল করা যুক্তরাষ্ট্রের তারকা ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিচকে এদিন শুরু থেকে মাঠে নামাননি কোচ। তাঁকে রাখা হয়েছিল বদলি খেলোয়াড়দের তালিকায়। প্রথমার্ধ শেষে আলফাদজো সিসের পরিবর্তে মাঠে নামেন পুলিসিচ। তবে তাঁর উপস্থিতিও দলের আক্রমণে প্রত্যাশিত গতি আনতে পারেনি। প্রথমার্ধের শেষ দিকে হাইতির ফরোয়ার্ড জোসেফের দুটি প্রচেষ্টা দক্ষতার সঙ্গে ঠেকিয়ে দেন মিলানের গোলরক্ষক তোরিয়ানি। তবে বিরতির পর আর তাঁকে আটকে রাখতে পারেনি স্বাগতিকেরা।

৫২ মিনিটে এগিয়ে যায় ফেরেঙ্কভারোশ। নিজেদের পেনাল্টি বক্সে সতীর্থের কাছ থেকে আসা একটি বাউন্স করা ব্যাকপাস ক্লিয়ার করতে গিয়ে বিপাকে পড়েন তোরিয়ানি। তাঁর ক্লিয়ার করার চেষ্টা প্রতিহত করেন জাকারিয়াসেন। বল পেয়ে ফাঁকা জালে পাঠাতে কোনো ভুল করেননি জোসেফ। তাতেই এগিয়ে যায় সফরকারীরা। গোল হজমের পর দ্রুত সমতায় ফেরার চেষ্টা করে এসি মিলান। ওমারি হাচিনসন বক্সের বাঁ প্রান্ত দিয়ে ঢুকে নিচু শট নিলেও তা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। গোলের সুযোগ কাজে লাগাতে না পারার খেসারত দিতে হয় তাদের আরও একবার।
পাল্টা আক্রমণে দ্বিগুন
৬৬ মিনিটে দ্রুতগতির পাল্টা আক্রমণ থেকে ব্যবধান দ্বিগুণ করে ফেরেঙ্কভারোশ। বাঁ প্রান্ত দিয়ে বল নিয়ে মিলানের রক্ষণভাগ ভেদ করে পেনাল্টি বক্সে ঢুকে পড়েন জাকারিয়াসেন। এরপর নিখুঁতভাবে বল বাড়িয়ে দেন জোসেফের উদ্দেশে। ১২ গজ দূর থেকে সহজেই বল জালে পাঠিয়ে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন হাইতির এই ফরোয়ার্ড। শেষ দিকে হাচিনসনের একটি কোনাকুনি শটও ঠেকিয়ে দেন ফেরেঙ্কভারোশের গোলরক্ষক ডেনেশ দিবুস। একজন খেলোয়াড় কম নিয়েও নিজেদের দুই গোলের ব্যবধান ধরে রাখতে কোনো সমস্যা হয়নি সফরকারীদের।


