ভারতের কাছে হারল পাকিস্তান! ঢাকার মাঠে ভারত-পাকিস্তান লড়াই মানেই বাড়তি উত্তেজনা। তবে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের এবারের আসরে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের সেই উত্তেজনা খুব একটা উপভোগ করতে দেয়নি ভারত। ম্যাচের প্রথমার্ধেই তিন গোল করে জয়ের পথ অনেকটাই সহজ করে নেয় তারা। শেষ দিকে তিন মিনিটের ব্যবধানে দুই গোল করে লড়াইয়ে ফেরার আভাস দিয়েছিল পাকিস্তান। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ব্যবধান কমানো ছাড়া আর কিছুই করতে পারেনি দলটি।
বৃহস্পতিবার ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানকে ৩-২ গোলে হারিয়েছে ভারত। স্বাগতিক দর্শকদের সামনে ভারতের হয়ে জোড়া গোল করেছেন মুহাম্মদ সুহাইল। অন্য গোলটি মাংলেনথাং কিপগেনের। পাকিস্তানের হয়ে শেষ মুহূর্তে গোল দুটি করেন নাজিব উল্লাহ ও আলমগীর গাজী।
সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ইতিহাসে এ নিয়ে ১৪ বার মুখোমুখি হলো ভারত ও পাকিস্তান। এর মধ্যে ৯ ম্যাচে জয় পেয়েছে ভারত। চারটি ম্যাচ হয়েছে ড্র। পাকিস্তানের জয় মাত্র একটিতে।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে ভারত। প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে চাপে রেখে একের পর এক আক্রমণ চালায় তারা। এর ফলও আসে দ্রুত। ১৩ মিনিটে বাঁ প্রান্ত দিয়ে দ্রুতগতিতে পাকিস্তানের বক্সে ঢুকে সতীর্থের উদ্দেশে বল বাড়ান মুহাম্মদ সুহাইল। কাছ থেকে সহজেই বল জালে পাঠিয়ে ভারতকে এগিয়ে দেন সুহেল ভাট।
এর ছয় মিনিট পর ব্যবধান দ্বিগুণ করেন সুহাইল। মাঝমাঠ থেকে সূর্যবংশীর বাড়ানো নিখুঁত থ্রু পাস ধরে পাকিস্তানের রক্ষণ ভেঙে বক্সে ঢুকে পড়েন মোহনবাগানের এই ফরোয়ার্ড। এরপর ডান পায়ের শটে বল পাঠান জালের ডান কোণে। তাতে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ভারত।
৩২ মিনিটে তৃতীয় গোল পায় ভারত। পাকিস্তানের রক্ষণভাগের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে বল নিয়ে বক্সে ঢুকে পড়েন উইঙ্গার নওফাল। তাঁর বাড়ানো বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে জোরালো শটে গোল করেন মাংলেনথাং কিপগেন। গোলরক্ষক ইউসুফ বাট চেষ্টা করেও ভারতকে থামাতে পারেননি।
দুই মিনিট পর পেনাল্টি থেকে ব্যবধান কমানোর সুযোগ পেয়েছিল পাকিস্তান। ভারতের বক্সে বিজয়ের ভুল ক্লিয়ারেন্সের সুযোগ নিতে গিয়ে খাট্টাককে ফাউল করেন সূর্যবংশী। সঙ্গে সঙ্গে পেনাল্টির নির্দেশ দেন রেফারি। কিন্তু স্পট-কিক থেকে শায়াক দোস্তের নেওয়া শট ক্রসবারের অনেক ওপর দিয়ে চলে যায়।
৩-০ গোলে ভারতের কাছে হারল পাকিস্তান
প্রথমার্ধের শেষ দিকে চতুর্থ গোলের সুযোগও তৈরি করেছিল ভারত। ৪০ মিনিটে নওফালকে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন পাকিস্তানের আলী জেব। পরের মিনিটে কর্নার থেকে কিপগেনের বাড়ানো ক্রসে ভলি করেন নওফাল। তবে পাকিস্তানের রক্ষণভাগের দৃঢ়তায় আর গোল পাওয়া হয়নি ভারতের। বিরতির পর ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে পাকিস্তান। তবে ভারতের সংগঠিত রক্ষণভাগের বিপক্ষে গোলের দেখা পাচ্ছিল না তারা। নির্ধারিত ৯০ মিনিট পর্যন্ত স্কোরলাইন ছিল ৩-০। মনে হচ্ছিল, বড় ব্যবধানের হার নিয়েই মাঠ ছাড়তে হবে পাকিস্তানকে।
কিন্তু যোগ করা সময়ে বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। প্রথম মিনিটেই বাঁ প্রান্ত থেকে জুনায়েদ শাহর দারুণ ক্রসে লাফিয়ে উঠে হেড করেন নাজিব উল্লাহ। তাঁর হেডে ব্যবধান কমিয়ে ৩-১ করে পাকিস্তান।
এর তিন মিনিট পর আবারও ভারতের জালে বল পাঠায় পাকিস্তান। ডান প্রান্ত থেকে বদলি খেলোয়াড় মিকাইল আবদুল্লাহর বাড়ানো ক্রস পেনাল্টি বক্সের মাঝখানে পেয়ে যান আলমগীর গাজী। সেখান থেকে ডান পায়ের দুর্দান্ত শটে বল জালে জড়ান তিনি। গোলরক্ষক আরশ শেখের কিছুই করার ছিল না।
শেষ মুহূর্তে দুই গোল হজম করে চাপে পড়ে ভারত। সমতায় ফেরার আশায় আক্রমণের গতি বাড়ায় পাকিস্তান। তবে শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল না হওয়ায় ৩-২ ব্যবধানের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে ভারত।




