না ফেরার দেশে ব্রাজিলের ১৯৭০ বিশ্বকাপ জয়ের মহানায়ক ব্রিতো

১৯৭০ বিশ্বকাপ জয়ের মহানায়ক ব্রিতো

ব্রাজিলের ১৯৭০ বিশ্বকাপ জয়ের মহানায়ক সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার ব্রিতো

বিশ্ব ফুটবলকে শোকের সাগরে ভাসিয়ে চিরবিদায় নিলেন ব্রাজিলের কিংবদন্তি ডিফেন্ডার ব্রিতো। ১৯৭০ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপে সেলেসাওদের বিশ্বজয়ের অন্যতম এই নেপথ্য কারিগর ৮৬ বছর বয়সে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (সিবিএফ) এক আনুষ্ঠানিক বার্তায় তাঁর মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করে, তবে তাঁর মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

ব্রিতো

পেলের ব্রাজিলের ‘রক্ষণভাগের দেয়াল’

১৯৬৪ থেকে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত ব্রাজিলের বিখ্যাত হলুদ জার্সিতে ৬১টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন ব্রিতো। ১৯৭০ সালে পেলের নেতৃত্বে যে দলটিকে ইতিহাসের অন্যতম সেরা দল বলা হয়, সেই দলের রক্ষণভাগের মূল চালিকাশক্তি ছিলেন তিনি। মাঠের সেন্ট্রাল ব্যাক পজিশনে উইলসন পিয়াজার সাথে জুটি বেঁধে প্রতিপক্ষের ফরোয়ার্ডদের জন্য দুর্ভেদ্য প্রাচীর গড়ে তুলেছিলেন ব্রিতো। ১৯৭০ সালের মহাকাব্যিক বিশ্বকাপ ছাড়াও ১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপেও ব্রাজিলের রক্ষণভাগ সামলানোর দায়িত্ব ছিল তাঁর কাঁধে।

সিবিএফ সভাপতির আবেগঘন শ্রদ্ধাঞ্জলি

ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের এই অপূরণীয় ক্ষতিতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে দেশটির ফুটবল ফেডারেশন। সিবিএফ সভাপতি সামির জাউদ এক বিবৃতিতে প্রয়াত এই তারকাকে শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন:

“ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের ইতিহাসের অন্যতম সেরা ডিফেন্ডার হিসেবে ব্রিতো আমাদের ছেড়ে গেলেন। ১৯৭০ সালের বিশ্বকাপ জয়ে তাঁর অবদান ফুটবলবিশ্ব চিরকাল কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ রাখবে। তাঁর লড়াকু মানসিকতা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ফুটবলারদের জন্য আজীবন অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।”

সোনালি অধ্যায়ের অবসান

ঐতিহাসিক বিশ্বকাপ জয়ের পাশাপাশি ব্রাজিলের হয়ে ১৯৭১ সালে কোপা রোকা এবং ১৯৭২ সালে তাসা ইন্ডিপেনদেন্সিয়ার ট্রফিও উঁচিয়ে ধরেছিলেন ব্রিতো। পেলে, তোস্তাও ও রিভেলিনোর মতো কিংবদন্তিদের এই সতীর্থের বিদায়ের মধ্য দিয়ে ব্রাজিলের ফুটবল ইতিহাসের একটি গৌরবোজ্জ্বল সোনালি অধ্যায়ের অবসান ঘটল। ফুটবল মাঠের এই লড়াকু সৈনিক ট্রফি জয়ের পাশাপাশি রেখে গেলেন বিশ্বজুড়ে কোটি ভক্তের ভালোবাসা ও চিরস্থায়ী শ্রদ্ধা।

Exit mobile version