অনিয়মের অভিযোগে স্থগিত ক্রিকেট কানাডার সদস্যপদ । বোর্ড পরিচালনায় অনিয়মের জেরে কদিন আগেই ক্রিকেট কানাডার অর্থায়ন ছয় মাসের জন্য স্থগিত করেছিল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল। এবার দেশটির সদস্যপদও সাময়িকভাবে স্থগিত করা হলো। গতকাল রোববার ভারতের আহমেদাবাদে অনুষ্ঠিত আইসিসি বোর্ড সভার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে ক্রিকেটবিষয়ক ওয়েবসাইট ক্রিকবাজের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়।
আইসিসির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সদস্যপদ-সংক্রান্ত দায়িত্ব পালনে ক্রিকেট কানাডা “গুরুতর লঙ্ঘন” করেছে। সেই কারণেই তাদের বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে স্থগিতাদেশের মধ্যেও একটি গুরুত্বপূর্ণ ছাড় দিয়েছে আইসিসি। কানাডার জাতীয় পুরুষ, নারী এবং বয়সভিত্তিক দলগুলো আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার অধিকার হারাবে না। অর্থাৎ, সদস্যপদ স্থগিত থাকলেও কানাডার দলগুলো আইসিসি আয়োজিত টুর্নামেন্ট ও ইভেন্টে খেলতে পারবে।
তবে ঠিক কোন কোন কারণে ক্রিকেট কানাডার বিরুদ্ধে এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা আইসিসি এখনো স্পষ্ট করেনি। সাম্প্রতিক সময়ে কানাডার ক্রিকেট প্রশাসন নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠলেও আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা এখনো মেলেনি। এর মধ্যেই দেশটির অনুসন্ধানী প্রামাণ্য অনুষ্ঠান ‘দ্য ফিফথ স্টেট’-এর প্রতিবেদনে উঠে এসেছে আরও কিছু গুরুতর অভিযোগ। সেখানে আইসিসির নীতিমালা ভঙ্গ, ক্রিকেট কানাডার পরিচালনা নিয়ে উদ্বেগ এবং আর্থিক তদারকির ঘাটতির বিষয়টি সামনে আনা হয়।
ক্রিকেট কানাডা মাঠের ভেতরে ও বাইরে কিছুদিন ধরেই অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে কানাডা ও নিউজিল্যান্ডের ম্যাচটি নিয়েও আইসিসির দুর্নীতি দমন ও সততা ইউনিট তদন্ত করে। পাশাপাশি কানাডার সাবেক কোচ খুররম চৌহানের ফাঁস হওয়া একটি ফোনালাপ ঘিরেও নতুন তদন্ত শুরু হয়। ওই অডিওতে তিনি অভিযোগ করেছিলেন, ক্রিকেট কানাডার তৎকালীন, বর্তমানে সাবেক, শীর্ষ বোর্ড সদস্যরা জাতীয় দলে নির্দিষ্ট কিছু খেলোয়াড়কে রাখার জন্য তার ওপর চাপ প্রয়োগ করেছিলেন।
ওই ফোনালাপে ম্যাচে দুর্নীতির চেষ্টার অভিযোগও উঠে আসে। এসব ঘটনায় কানাডার ক্রিকেট কাঠামো ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন আরও ঘনীভূত হয়েছে। ফলে আইসিসির সর্বশেষ সিদ্ধান্ত দেশটির ক্রিকেট প্রশাসনের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবেই দেখা হচ্ছে
