পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম টেস্টের তৃতীয় দিনে অবিশ্বাস্য এক বোলিং স্পেলে কোনো রান না দিয়েই ৫ উইকেট নিয়েছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের অলরাউন্ডার জাস্টিন গ্রিভস।
নিজের ১৭তম টেস্ট খেলতে নামা গ্রিভস ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো টেস্টে ৫ উইকেটের দেখা পেয়েছেন। তার দুর্দান্ত বোলিংয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংসের ৩১১ রানের জবাবে পাকিস্তান ২৮২ রানে অলআউট হয়ে যায়।
৩২ বছর বয়সী বার্বাডিয়ান এই ক্রিকেটারের বোলিং স্পেলটি আরও বেশি স্মরণীয়, কারণ দিনের শুরুতে ৬ ওভার বল করে ২৭ রান দিয়েছিলেন তিনি, কিন্তু কোনো উইকেট পাননি। এরপর টানা পাঁচটি মেডেন ওভারে ৫ উইকেট তুলে নেন গ্রিভস।
গ্রিভস বলেন, ‘আমি যখন বোলিংয়ে আসি, অধিনায়ক রস্টন চেজ শুধু বলেছিলেন, “তুমি যেভাবে শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে বল করছ, সেটাই চালিয়ে যাও” এবং দলের জন্য কিছু উইকেট নেওয়ার চেষ্টা করতে। বল একটু নড়াচড়া করছিল এবং আমি তার পুরস্কার পেয়েছি।’
‘যখনই আমার হাতে বল আসে, দল আমার কাছ থেকে একজন নির্ভরযোগ্য খেলোয়াড়ের মতো দায়িত্বশীল পারফরম্যান্স আশা করে। কঠিন পরিস্থিতি থেকে দলকে বের করে আনার চেষ্টা করি।’
‘টেস্ট ক্রিকেটে প্রথমবার ৫ উইকেট পেয়ে আমি সত্যিই খুব খুশি। তবে ম্যাচে এখনো অনেক কাজ বাকি।’
ত্রিনিদাদের ব্রায়ান লারা ক্রিকেট একাডেমিতে গ্রিভসের প্রথম শিকার ছিলেন পাকিস্তানের অধিনায়ক শান মাসুদ। দুর্দান্ত এক সেটআপের পর ৬৪তম ওভারে ১০৯ রানে বোল্ড হন তিনি।
ওভার দ্য উইকেট থেকে বাঁহাতি ব্যাটার মাসুদের অফ স্টাম্পের বাইরে বল করেন গ্রিভস। এরপর একটি ডেলিভারি ভেতরের দিকে ঢুকলে ভুল লাইনে খেলতে গিয়ে বলটি ব্যাটের ভেতরের কানায় লেগে স্টাম্পে আঘাত করে।
পরের ওভারেই আমের জামালের মিডল স্টাম্প উপড়ে ফেলেন গ্রিভস। দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে জামালের ডিফেন্স ভেদ করে স্টাম্প উড়িয়ে দেন এই পেসার।
এরপর আলী উসমানকে এলবিডব্লিউ করে ফেরান গ্রিভস। পরে মোহাম্মদ রিজওয়ান ও মোহাম্মদ আব্বাসকে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরান তিনি। ফলে মাত্র ৩৮ রানের ব্যবধানে পাকিস্তানের শেষ ৭ উইকেটের পতন ঘটে।
তৃতীয় দিনের খেলা শেষে ওয়েস্ট ইন্ডিজ তাদের দ্বিতীয় ইনিংসে ৭ উইকেটে ১২৬ রান করেছে। এতে তাদের লিড দাঁড়িয়েছে ১৫৫ রানে। ফলে ম্যাচটি এখন দারুণ উত্তেজনাপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।


