স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও সফরকারী পাকিস্তানের মধ্যকার প্রথম টেস্টের তৃতীয় দিনেই তারৌবার উইকেট যেন পুরোপুরি বোলারদের হয়ে কথা বলল। সারাদিনে ১৪ উইকেটের পতনে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ বারবার হাতবদল হয়েছে। কখনো পাকিস্তান, কখনো ওয়েস্ট ইন্ডিজ এগিয়ে থেকেছে। তবে দিনের খেলা শেষে ৭ উইকেটে ১২৬ রান তুলে ১৫৫ রানের লিড নিয়ে সামান্য সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
তৃতীয় দিনের শুরুতে ভালো অবস্থানেই ছিল পাকিস্তান। তিন উইকেট ১৯৯ রান নিয়ে দিনের খেলা শুরু করেছিলো সফরকারীরা। প্রথম ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ৩১১ রানের কাছাকাছিও পৌঁছে গিয়েছিল সফরকারীরা। অধিনায়ক শান মাসুদ ও সালমান আলি আগা ধৈর্যশীল ব্যাটিংয়ে দলকে এগিয়ে নিচ্ছিলেন। এদিন নিজের সপ্তম টেস্ট সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন মাসুদ। ১০৯ রানের ইনিংসে ছিল দৃঢ়তা ও দায়িত্বশীলতার ছাপ। ইমাম-উল-হকও করেন ৬৩ রান।
তবে মধ্যাহ্নভোজের আগে হঠাৎই বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। প্রথমে শামার জোসেফের দারুণ এক ডেলিভারিতে বোল্ড হন সালমান আলি আগা। এরপর জাস্টিন গ্রিভসের দুর্দান্ত স্পেলে ধসে পড়ে পাকিস্তানের ব্যাটিং। মাসুদকে বোল্ড করার পর একে একে আমের জামাল, অভিষিক্ত আলি উসমান ও মোহাম্মদ রিজওয়ানকে ফিরিয়ে নিজের ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন গ্রিভস। তাঁর ২৭ রানে ৫ উইকেটের বোলিংয়ে পাকিস্তানের ইনিংস থেমে যায় ২৮২ রানে।
প্রথম ইনিংসে ২৯ রানের লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করলেও ওয়েস্ট ইন্ডিজকে স্বস্তিতে থাকতে দেননি পাকিস্তানের অভিজ্ঞ পেসার মোহাম্মদ আব্বাস। নতুন বলে নিখুঁত লাইন ও লেংথে বোলিং করে দ্রুত ফিরিয়ে দেন ব্র্যান্ডন কিং ও কেভেম হজকে। পরে আমির জানগুও ফিরে গেলে মাত্র ৩০ রানেই তিন উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে স্বাগতিকরা।
এরপর ত্যাগনারাইন চন্দরপল ও জাস্টিন গ্রিভস ধৈর্যের সঙ্গে ব্যাট করে গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন। তবে পাকিস্তানের বোলাররা নিয়মিত চাপ ধরে রাখায় বড় জুটি গড়া সম্ভব হয়নি। খুররম শাহজাদের বলে আক্রমণাত্মক খেলতে গিয়ে বোল্ড হন শাই হোপ। এরপর আমের জামাল চন্দরপলকে ফিরিয়ে পাকিস্তানকে আবারও ম্যাচে ফেরান। শেষদিকে আব্বাস ও শাহজাদ আরও দুটি উইকেট তুলে নিলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংস আবারও নড়বড়ে হয়ে পড়ে।
তবে দিনের শেষ ভাগে শামার জোসেফের ঝড়ো ব্যাটিং স্বাগতিকদের কিছুটা স্বস্তি এনে দেয়। আমের জামালের এক ওভারে তিনটি ছক্কা হাঁকিয়ে দ্রুত রান তুলেন তিনি। ২২ রানে অপরাজিত থাকা জোসেফের সঙ্গে কেমার রোচও দিন শেষ করেন উইকেটে থেকে। দুজনের ৩২ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি ওয়েস্ট ইন্ডিজের লিড ১৫৫ রানে নিয়ে গেছে।
তিন দিনের লড়াই শেষে ম্যাচ এখনও দুই দলের জন্যই উন্মুক্ত। চতুর্থ দিনের প্রথম সেশনে ওয়েস্ট ইন্ডিজ কতটা লিড বাড়াতে পারে, আর সেই লক্ষ্য তাড়ায় পাকিস্তান কেমন শুরু করে—সেটিই নির্ধারণ করে দিতে পারে ইতিহাসের প্রথম তারৌবা টেস্টের ভাগ্য।


