গোল্ডেন বুট নয়, বিশ্বকাপই ছিল স্বপ্ন: এমবাপে

বিশ্বকাপের সোনালী বুট জিতেছেন, ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সও ছিল দুর্দান্ত। তবু কিলিয়ান এমবাপের কাছে সেই সাফল্যের আলোকে ম্লান করে দিয়েছে একটি অপূর্ণতা-ফ্রান্সের হাতে বিশ্বকাপ ট্রফি তুলে দিতে না পারার আক্ষেপ।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া এক আবেগঘন বার্তায় ফ্রান্স অধিনায়ক জানিয়েছেন, বিশ্বকাপ না জেতার কষ্ট তাঁকে দীর্ঘদিন তাড়িয়ে বেড়াবে।

এবারের বিশ্বকাপে আট ম্যাচে ১০ গোল করে গোল্ডেন বুট জিতেছেন রিয়াল মাদ্রিদের এই তারকা। তবে সেমিফাইনালে স্পেনের কাছে ২-০ গোলে হেরে বিদায় নেওয়ায় শিরোপার স্বপ্ন শেষ হয়ে যায় ফরাসিদের।

ট্রফি জিততে পারিনি, এটা কষ্টের

এমবাপে লিখেছেন, ‘আমরা কোনো দলীয় ট্রফি নিয়ে দেশে ফিরতে পারছি না। এটা কষ্টের, আর এই কষ্ট অনেক দিন থাকবে। আমি ভান করব না যে সব ঠিক আছে। গোল্ডেন বুট জিততে পেরে আমি গর্বিত, কিন্তু বিশ্বকাপ ট্রফি পাশে থাকলে এর মূল্য আরও অনেক বেশি হতো। হয়তো আমরা আপনাদের আরও সুন্দর একটি সমাপ্তি উপহার দিতে পারতাম। কিন্তু গল্পের শেষটা সব সময় আমাদের হাতে থাকে না। আমাদের হাতে থাকে শুধু সর্বস্ব দিয়ে লড়াই করার সুযোগ, আর সেটাই আমরা করেছি।’

বিশ্বকাপে অন্যতম ফেবারিট হিসেবে খেলতে নেমেছিল ফ্রান্স। গ্রুপ পর্বে শীর্ষস্থান দখলের পর নকআউটে সুইডেন, প্যারাগুয়ে ও মরক্কোকে হারিয়ে শেষ চারে ওঠে তারা। কিন্তু ডালাসে সেমিফাইনালে শেষ পর্যন্ত স্পেনের বাধা পেরোতে পারেনি।

বিশ্বকাপে গোলের পর কিলিয়ান এমবাপে

পুরো টুর্নামেন্টে ছয় ম্যাচে গোল করেছেন এমবাপে। সেনেগাল, ইরাক ও সুইডেনের বিপক্ষে জোড়া গোল করার পাশাপাশি তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষেও দুইবার জালের দেখা পান তিনি। যদিও সেই ম্যাচে ৬-৪ ব্যবধানে হেরে চতুর্থ স্থান নিয়েই বিশ্বকাপ শেষ করে ফ্রান্স।

সতীর্থদের সঙ্গে ভাগাভাগি কৃতিত্ব

গোল্ডেন বুটের কৃতিত্ব সতীর্থদের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছেন এমবাপে। তাঁর ভাষায়, ‘আমার সতীর্থদের ছাড়া এতগুলো গোল করা সম্ভব হতো না। তাদের দৌড়, পাস, পরিশ্রম আর দলীয় চেতনার কারণেই আমি এই পুরস্কার জিতেছি। তাই এই সম্মান পুরো দলের।’

তিনটি বিশ্বকাপে খেলার অভিজ্ঞতার কথাও স্মরণ করেছেন ২০১৮ সালের বিশ্বকাপজয়ী এই ফরোয়ার্ড। তিনি বলেন, ‘ছোটবেলায় স্বপ্ন ছিল অন্তত একবার বিশ্বকাপ খেলব। এখন তিনটি বিশ্বকাপ খেলেছি, একটি জিতেছি, আর এবার দেশের অধিনায়ক হওয়ার সম্মান পেয়েছি। এই অভিজ্ঞতা কখনো ভুলব না।’

সম্প্রতি ১৪ বছরের অধ্যায় শেষ করে ফ্রান্স দলের কোচের পদ ছেড়েছেন দিদিয়ের দেশম। বিদায়ী কোচ ও তাঁর সহকারীদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন এমবাপে। পাশাপাশি দলের ফিজিও, ফিটনেস কোচ, রাঁধুনি, চালকসহ নেপথ্যে কাজ করা সবার অবদানের কথাও তুলে ধরেছেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ফ্রান্স দলকে সমর্থন জানানো সমর্থকদের প্রতিও ধন্যবাদ জানিয়েছেন এই তারকা।

spot_imgspot_img
spot_img

Hot Topics

Related Articles