পাকিস্তানের স্পিনাররা দিনের বড় একটি সময় ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রেখেছিলেন। তবে ব্যাটারদের দৃঢ়তা আর জাস্টিন গ্রিভসের অপরাজিত অর্ধশতকে শেষ পর্যন্ত প্রথম দিনের লড়াইয়ে এগিয়ে থাকল ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
কুইন্স পার্ক ওভালে বৃষ্টিবিঘ্নিত প্রথম দিনের খেলা শেষে স্বাগতিকদের সংগ্রহ ৫ উইকেটে ২৩৯ রান। ৫২ রানে অপরাজিত থাকা গ্রিভস এবং অধিনায়ক রস্টন চেজ ষষ্ঠ উইকেটে অবিচ্ছিন্ন ৬৬ রানের জুটি গড়ে পাকিস্তানকে দিনের শেষ ভাগে আর কোনো সাফল্য পেতে দেননি।
ম্যাচের শুরুতেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল পাকিস্তানের একাদশ। মোহাম্মদ আব্বাসকে বাইরে রাখার সিদ্ধান্ত অনেককে বিস্মিত করে। সেই সিদ্ধান্তের প্রভাবও যেন শুরুতেই টের পায় সফরকারীরা। ওপেনাররা দ্রুত রান তুলতে থাকেন এবং ৯.৫ ওভারে বিনা উইকেটে ৪৯ রান তুলে ফেলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তবে বৃষ্টির কারণে মধ্যাহ্ন বিরতির ঠিক আগের বলেই মোহাম্মদ আলির শিকার হন টেগেনারিন চন্দরপল, যা পাকিস্তানকে কিছুটা স্বস্তি দেয়।
বৃষ্টি শেষে মাঠে ফিরেই স্পিন আক্রমণে ঝাঁপিয়ে পড়ে পাকিস্তান। আলি উসমান ও সাজিদ খান টানা আক্রমণে উইকেট থেকে টার্ন ও বাউন্স আদায় করে ক্যারিবীয় ব্যাটারদের চাপে ফেলেন। এরই মধ্যে ব্র্যান্ডন কিংকে এলবিডব্লিউ করে টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম উইকেট তুলে নেন উসমান। পাকিস্তানের সফল রিভিউয়ের মাধ্যমে আসে সেই সাফল্য।
এরপরও চাপ ধরে রাখেন দুই স্পিনার। কাভেম হজ সাবধানে খেললেও সাজিদ খানের বিপক্ষে সুইপ করতে গিয়ে গ্লাভসে লেগে উইকেটরক্ষক মোহাম্মদ রিজওয়ানের হাতে ক্যাচ দেন। আরেকটি সফল রিভিউয়ের সুবাদে আরও একটি উইকেট পায় পাকিস্তান।
এই অবস্থায় শাই হোপ ও আমির জানগু সতর্কতার সঙ্গে রান তোলার চেষ্টা করেন। হোপের দৃষ্টিনন্দন একটি ছক্কা ওয়েস্ট ইন্ডিজকে কিছুটা স্বস্তি দিলেও পাকিস্তান পেসে ফিরে আসে। তরুণ পেসার উবাইদ শাহ নিজের প্রথম টেস্ট উইকেট তুলে নেন অভিষিক্ত জানগুকে আউট করে।

তবে সেই সাফল্যের পর পাকিস্তান আর চাপ ধরে রাখতে পারেনি। উবাইদকে কয়েকটি চারে স্বাগত জানান গ্রিভস। অন্য প্রান্তে শাই হোপও আত্মবিশ্বাসী ব্যাটিং করেন। যদিও হোপ পরে মোহাম্মদ আলির বলে বোল্ড হন, তবু নতুন ব্যাটার রস্টন চেজ দ্রুত পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেন।
দিনের শেষ সেশনে গ্রিভস ও চেজ ধৈর্যের সঙ্গে ব্যাটিং করে পাকিস্তানের স্পিন আক্রমণকে নিষ্ক্রিয় করে দেন। পেসে ফিরে গিয়েও সাফল্য মেলেনি সফরকারীদের। উবাইদের গতি কমে যায়, লাইন-লেংথও ছিল অনিয়মিত। সুযোগ কাজে লাগিয়ে গ্রিভস নিয়মিত বাউন্ডারি হাঁকিয়ে দলের স্কোর নিরাপদ জায়গায় নিয়ে যান।
দিন শেষে ৫২ রানে অপরাজিত ছিলেন গ্রিভস। তাঁর সঙ্গে চেজও অপরাজিত থেকে দ্বিতীয় দিনের জন্য ওয়েস্ট ইন্ডিজকে শক্ত অবস্থানে রেখে মাঠ ছাড়েন। দিনের একটি বড় সময় পাকিস্তানের বোলাররা দাপট দেখালেও শেষ পর্যন্ত দৃঢ় ব্যাটিংয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দখলেই রেখেছে স্বাগতিকরা। দ্বিতীয় দিনে এই জুটিই বড় সংগ্রহের ভিত্তি গড়ে দিতে চাইবে, আর পাকিস্তানের লক্ষ্য থাকবে দ্রুত এই জুটি ভেঙে ম্যাচে ফিরে আসা।


