একদিন আগেও ম্যাচে সমানে সমান লড়াই চলছিল। দ্বিতীয় দিনের শেষে যে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে যাবে, তা নিয়ে ছিল অনিশ্চয়তা। কিন্তু তৃতীয় দিনের শেষ সেশনে দৃশ্যপট পুরোপুরি বদলে দিল পাকিস্তান। সাজিদ খান ও আলি উসমানের দুর্দান্ত স্পিনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দ্বিতীয় ইনিংস ধসে পড়ে। দিনের খেলা শেষে স্বাগতিকদের লিড মাত্র ৬০ রান, আর হাতে চার উইকেট। ফলে জয়ের আশা বাঁচিয়ে রাখতে শেষ দিনে কঠিন লড়াই করতে হবে ক্যারিবীয়দের।
দিনের শেষ সেশনটি ছিল ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট। নতুন বল হাতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দুই ওপেনার পাকিস্তানের প্রথম ইনিংসের ৪৩ রানের লিড দ্রুতই মুছে দেন। তখন মনে হচ্ছিল ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধীরে ধীরে স্বাগতিকদের দিকেই ঝুঁকছে। কিন্তু অধিনায়ক স্পিন আক্রমণে সাজিদ খান ও আলি উসমানকে আনার পরই বদলে যায় ম্যাচের চিত্র।
প্রথম আঘাত হানেন সাজিদ
প্রথম আঘাত হানেন সাজিদ। তাগেনারিন চন্দরপলকে এলবিডব্লিউ করে জুটি ভাঙেন তিনি। এরপর ব্র্যান্ডন কিং চোট পাওয়ায় ওপেনিংয়ে নামা কেভেম হজের পরিবর্তে ব্যাটিংয়ে আসা আমির জানগুকে দুর্দান্ত অফস্পিনে বোল্ড করেন আলি উসমান।
কেভেম হজ কিছুটা প্রতিরোধের চেষ্টা করলেও উসমানের সোজা বল বুঝতে না পেরে এলবিডব্লিউ হন। এরপর শাই হোপ ও রস্টন চেজ ধৈর্য ধরে ইনিংস গড়ার চেষ্টা করলেও শেষ বিকেলে আবার আঘাত হানে পাকিস্তান। সাজিদের নিচু হয়ে আসা বলে এলবিডব্লিউ হন হোপ। নাইটওয়াচম্যান হিসেবে নামা জেডেন সিলসও মাত্র দুই বল টিকতে পারেন। দিনের শেষ বলেই রস্টন চেজ ক্যাচ তুলে দিলে আরও শক্ত অবস্থানে চলে যায় পাকিস্তান।
এর আগে দিনের প্রথম দুই সেশন ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের। পাকিস্তানের তৃতীয় উইকেট জুটিতে বাবর আজম ও আবদুল্লাহ শফিক দারুণ ব্যাটিং করলেও মধ্যাহ্নের পর হঠাৎ করেই ধস নামে সফরকারীদের ইনিংসে।

বাবর আজম শুরুতে ধীরগতিতে খেলছিলেন। ২১ বল খেলে মাত্র ২ রান করার পর রান নেওয়ার ভুল সিদ্ধান্তে রানআউট হন পাকিস্তান অধিনায়ক। ব্র্যান্ডন কিংয়ের দুর্দান্ত থ্রোতে সাজঘরে ফেরেন তিনি। যদিও থ্রো করার সময় নিজেই চোট পেয়ে স্ট্রেচারে মাঠ ছাড়েন কিং।
এরপর অভিষিক্ত আওয়াইস জাফর, সালমান আগা ও মোহাম্মদ রিজওয়ান দ্রুত ফিরে গেলে চাপে পড়ে পাকিস্তান। জোমেল ওয়ারিকান ও শামার জোসেফের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে অল্প সময়েই তিন উইকেট হারায় সফরকারীরা।
তবে একপ্রান্ত আগলে রেখে অনবদ্য ব্যাটিং করেন আবদুল্লাহ শফিক। তাঁর সঙ্গে অষ্টম উইকেটে মূল্যবান জুটি গড়েন সাজিদ খান। দারুণ আত্মবিশ্বাসে ব্যাটিং করে শফিক তুলে নেন ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা ইনিংস। কেভেম হজকে ছক্কা মেরে তিনি দেড়শ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। তাঁর এই ইনিংসেই পাকিস্তান প্রথম ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্কোর ছাড়িয়ে যায়।
ওয়ারিকানের ছয় উইকেট
শেষদিকে অবশ্য ওয়ারিকান আবারও ম্যাচে ফেরান স্বাগতিকদের। সাজিদকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙার পর উবাইদ শাহ ও মোহাম্মদ আলিকেও আউট করে ইনিংসে ছয় উইকেট পূর্ণ করেন এই বাঁহাতি স্পিনার।
তবে পাকিস্তানের জন্য সবচেয়ে বড় স্বস্তি এসেছে বল হাতে। দিনের শেষ সেশনে সাজিদ খান ও আলি উসমান যে স্পিনের জাল বিছিয়েছেন, তাতে চতুর্থ দিনের শুরুতেই ওয়েস্ট ইন্ডিজকে দ্রুত গুটিয়ে দিয়ে সহজ লক্ষ্য তাড়া করার স্বপ্ন দেখছে সফরকারীরা। অন্যদিকে মাত্র ৬০ রানের লিড নিয়ে স্বাগতিকদের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ-কীভাবে লড়াই করার মতো একটি লক্ষ্য দাঁড় করানো যায়।


