২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার দৌড়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। অন্যদিকে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে আফগানিস্তানের জয়ের পর ওয়েস্ট ইন্ডিজের সরাসরি বিশ্বকাপ খেলার সমীকরণ আরও কঠিন হয়ে গেছে।
ফলে টানা তৃতীয়বারের মতো ওয়ানডে বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে নামতে হতে পারে দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। আফ্রিকা মহাদেশে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ২০২৭ বিশ্বকাপে অংশ নেবে মোট ১৪টি দল। এর মধ্যে সহ-আয়োজক দ. আফ্রিকা ও জিম্বাবুয়ে সরাসরি মূল পর্বে খেলার সুযোগ পাচ্ছে।
বাকি আটটি দল চূড়ান্ত হবে আইসিসি ওয়ানডে র্যাংকিংয়ের ভিত্তিতে। আয়োজক জিম্বাবুয়ে বর্তমানে র্যাংকিংয়ে সেরা আটে না থাকায় সেরা নয় দলের মধ্যে থাকলেই একটি দলের সরাসরি বিশ্বকাপ নিশ্চিত হবে।
এই হিসাবেই সুবিধাজনক অবস্থানে আছে বাংলাদেশ। বর্তমানে নবম স্থানে থাকা বাংলাদেশের রেটিং ৮৩। অন্যদিকে ১০ নম্বরে থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিজের রেটিং ৭৭। অষ্টম স্থানে থাকা আফগানিস্তানের রেটিং ৯০। বিশ্বকাপে সরাসরি খেলতে হলে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে অন্তত সেরা নয় দলের মধ্যে থাকতে হবে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে।
কিন্তু সময়ের মধ্যে তাদের হাতে রয়েছে মাত্র দুটি ওয়ানডে। প্রতিপক্ষ ভারত, তাও ভারতের মাটিতে। ফলে বাংলাদেশকে টপকে সরাসরি বিশ্বকাপে জায়গা করে নেওয়া ক্যারিবীয়দের জন্য প্রায় অসম্ভব। বাংলাদেশের জন্য অবশ্য পরিস্থিতি বেশ স্বস্তির।
৩০ সেপ্টেম্বরের আগে লিটন দাসদের আর কোনো ওয়ানডে নেই। এই সময়ে ভারত বাংলাদেশে আসার কথা থাকলে সফর অনিশ্চিত। ফলে রেটিং বাড়ানোর সুযোগ না থাকলেও কমে যাওয়ার ঝুঁকিও নেই। অন্যদিকে ভারতের বিপক্ষে দুই ম্যাচ জিতেও বাংলাদেশের সঙ্গে ছয় রেটিং পয়েন্টের ব্যবধান ঘোচানো ওয়েস্ট ইন্ডিজের জন্য কঠিন।
বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে খেলা ওয়েস্ট ইন্ডিজের জন্য অবশ্য নতুন কিছু নয়। ২০১৯ ও ২০২৩ বিশ্বকাপের আগে বাছাইপর্ব খেলতে হয়েছিল তাদের। ২০১৯ সালে বাছাই পেরিয়ে মূল পর্বে উঠলেও ২০২৩ সালে আর পারেনি। জিম্বাবুয়েতে অনুষ্ঠিত সেই বাছাইপর্বে জিম্বাবুয়ে, নেদারল্যান্ডস ও স্কটল্যান্ডের কাছে হেরে বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা হারায় তারা।
সেই ব্যর্থতার পর এবারও যদি র্যাংকিংয়ের সেরা নয় থেকে ছিটকে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ, তাহলে টানা তৃতীয়বার বাছাইপর্বের কঠিন পরীক্ষায় নামতে হবে দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের।


