শীর্ষের লড়াই নয়, তবু হেডিংলিতে আগুন জ্বালাতে প্রস্তুত দুই দল

টেস্ট ক্রিকেট ফিরছে ইংল্যান্ডে। হেডিংলির আকাশে আবার ভেসে উঠছে লাল বলের ক্রিকেটের পরিচিত আবহ। তবে এবারের প্রত্যাবর্তনের গল্পটা একটু অন্য রকম। এখানে নেই শিরোপার লড়াই, নেই বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের শীর্ষে ওঠার উত্তেজনা। বরং আছে দুই অস্থির দলের নিজেদের খুঁজে ফেরার গল্প। ইংল্যান্ড ও পাকিস্তান-বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের বর্তমান তালিকায় যথাক্রমে সপ্তম ও অষ্টম দল। আজ থেকে হেডিংলিতে মুখোমুখি তারা।

তালিকার অবস্থান হয়তো এই সিরিজকে ‘আন্ডারকার্ড’ বলে মনে করাতে পারে। দুই দলের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানও সেই অস্থিরতার ছবি আঁকে। ইংল্যান্ড শেষ ১০ টেস্টের মাত্র দুটিতে জিতেছে। পাকিস্তানের জয় দুইটি শেষ সাত টেস্টে। ইংল্যান্ড সর্বশেষ টেস্ট সিরিজ জিতেছিল ২০২৪ সালের শেষ দিকে। পাকিস্তানের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। আরও বড় দুশ্চিন্তা ইংল্যান্ডের জন্য-ঘরের মাঠে সর্বশেষ সিরিজেই তারা তিন টেস্টের সিরিজ হেরেছে, ২০১২ সালের পর ঘরের মাটিতে যা ছিল প্রথম এমন ঘটনা।

পাকিস্তানের দুশ্চিন্তা অবশ্য কম নয়। ইংল্যান্ডের মাটিতে তাদের সর্বশেষ টেস্ট সিরিজ জয় সেই ১৯৯৬ সালে। অর্থাৎ প্রায় তিন দশক ধরে এই কন্ডিশনে সাফল্যের অপেক্ষায় তারা। তবে পরিসংখ্যানের চেয়েও দুই দলের সাম্প্রতিক অস্থিরতা বেশি আলোচিত।

ইংল্যান্ডের গত কয়েক মাস যেন একের পর এক ঝড়ের ভেতর দিয়ে গেছে। টেস্ট দলের দীর্ঘদিনের অধিনায়ক বেন স্টোকস চোটের কারণে ছিটকে গেছেন, এরপর বিদায় নিয়েছেন কোচ ব্রেন্ডন ম্যাককালামও। অথচ মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগেও তাঁকে পূর্ণ সমর্থনের কথা জানিয়েছিল ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড। নেতৃত্বের ভার আবার উঠেছে জো রুটের কাঁধে। অর্থাৎ ইংল্যান্ডের টেস্ট ক্রিকেটে রুটের দ্বিতীয় অধিনায়কত্ব-অধ্যায় শুরু হচ্ছে এমন এক সময়ে, যখন দলটি নিজেই নিজের পরিচয় খুঁজছে।

পাকিস্তানকে নেতৃত্ব দিতে পারেন শন মাসুদ

ইংল্যান্ডের ক্রিকেটে এখন যেন পুরোনো দর্শন আর নতুন বাস্তবতার মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে দলটি। একসময় প্রতিটি পরিস্থিতিতে আক্রমণ, প্রতিপক্ষকে চাপে রাখা আর ভয়ডরহীন ক্রিকেট ছিল তাদের পরিচয়ের অংশ। কিন্তু সাম্প্রতিক ফল বলছে, সেই দর্শনের নতুন সংস্করণ এখনো জন্ম নেয়নি। জো রুট অবশ্য অতীত কিংবা ভবিষ্যতের দিকে না তাকিয়ে বর্তমানেই থাকতে চান। সিরিজ শুরুর আগে তাঁর কথাতেও সেই বার্তা, গত ছয় মাসের ব্যর্থতায় আটকে থাকা কিংবা আগামী ছয় মাসের ভাবনায় ডুবে যাওয়ার বদলে বর্তমানকে গুরুত্ব দিতে হবে।

পাকিস্তানের গল্প আরও নাটকীয়। ২০২৩-২৪ মৌসুমের পর থেকে টেস্ট দলের কোচের আসনে বসেছেন পাঁচজন। জেসন গিলেস্পি থেকে আকিব জাভেদ- একেকজন এসেছেন, পরিবর্তনের চেষ্টা করেছেন, আবার সরে গেছেন। আকিবের অধীনে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পাকিস্তান পেয়েছিল বিশেষ সাফল্য। স্পিননির্ভর কৌশলে ‘আকিব-বল’ নামের নতুন এক ক্রিকেট দর্শন হাজির করে ইংল্যান্ডকে হারিয়েছিল তারা। সেটিই ছিল অধিনায়ক শান মাসুদের নেতৃত্বে পাকিস্তানের একমাত্র টেস্ট সিরিজ জয়।

কিন্তু সেই অধ্যায়ও শেষ। মাসুদের অধিনায়কত্বের অবসান ঘটেছে, আবার নেতৃত্বে ফেরার কথা বাবর আজমের। অথচ সিরিজ শুরুর আগেই চোটে প্রথম টেস্ট থেকে ছিটকে গেলেন বাবর। ফলে পাকিস্তানকে নেতৃত্ব দিতে হচ্ছে সালমান আগাকে-টেস্টে প্রথমবারের মতো।

তবে অস্থিরতার মধ্যেও পাকিস্তানের জন্য আশার জায়গা আছে। ইংল্যান্ডের কন্ডিশনে তাদের বোলাররা ঐতিহাসিকভাবেই বিপজ্জনক। এবার হয়তো অতীতের মতো গতির ঝড় নেই, কিন্তু মোহাম্মদ আব্বাস আছেন। তাঁর বোলিংয়ে আগুনের চেয়ে বেশি আছে অস্ত্রোপচারের সূক্ষ্মতা। বলকে ঠিক জায়গায় ফেলতে পারলে ইংলিশ ব্যাটসম্যানদের জন্য তিনি হয়ে উঠতে পারেন বড় হুমকি।

আর এবারের ইংলিশ গ্রীষ্মের আবহাওয়াও পাকিস্তানের পক্ষে কথা বলতে পারে। দীর্ঘ খরা ও রেকর্ড উষ্ণতার পর লিডসে বৃষ্টি ফিরেছে। তবে শুষ্ক গ্রীষ্মের প্রভাব যদি পিচে থেকে যায় এবং উইকেট স্পিনবান্ধব হয়ে ওঠে, তাহলে পাকিস্তানের হাতে ম্যাচের মোড় ঘোরানোর আরও একটি অস্ত্র থাকবে।

spot_imgspot_img
spot_img

Hot Topics

Related Articles