ডারউইনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৯ উইকেটের ঐতিহাসিক জয়ের পুরস্কার মিলেছে আইসিসির সর্বশেষ টেস্ট র্যাঙ্কিংয়েও। ব্যাটিং ও বোলিং-দুই বিভাগেই বাংলাদেশের একাধিক ক্রিকেটার এগিয়েছেন। সবচেয়ে বড় উন্নতি হয়েছে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত, মেহেদী হাসান মিরাজ ও হাসান মাহমুদের।
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথমবারের মতো টেস্ট জয়ের পর বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সও পেয়েছে স্বীকৃতি। ডারউইন টেস্টে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের প্রভাব পড়েছে আইসিসির সর্বশেষ প্রকাশিত খেলোয়াড় র্যাঙ্কিংয়ে।
বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসে ব্যাট হাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন নাজমুল হোসেন শান্ত ও তানজিদ হাসান তামিম। সেঞ্চুরি করে র্যাঙ্কিংয়ে সবচেয়ে বড় লাফ দিয়েছেন তানজিদ। ৮৪ ধাপ এগিয়ে তিনি এখন টেস্ট ব্যাটারদের তালিকায় ৮৮তম স্থানে।
অধিনায়ক শান্ত ৮৪ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলার সুবাদে এগিয়েছেন নয় ধাপ। তিনি এখন টেস্ট ব্যাটারদের র্যাঙ্কিংয়ে ২০তম। পাঁচ ধাপ উন্নতি করে মুমিনুল হক উঠেছেন ৩১তম স্থানে। বাংলাদেশের ব্যাটারদের মধ্যে সবার ওপরে রয়েছেন মুশফিকুর রহিম, ১৮তম স্থানে।
সাদমান ইসলামও এগিয়েছেন তিন ধাপ। তিনি এখন ৫৮তম। মেহেদী হাসান মিরাজ পাঁচ ধাপ এগিয়ে জায়গা করে নিয়েছেন ৫৯তম স্থানে। অন্যদিকে ব্যর্থতার কারণে পাঁচ ধাপ পিছিয়েছেন লিটন দাস। তাঁর অবস্থান এখন ২৮তম।
টেস্ট ব্যাটারদের শীর্ষস্থানেও এসেছে পরিবর্তন। ডারউইন টেস্টে দুই ইনিংসে মাত্র ২২ ও ১৭ রান করার পর তিন ধাপ পিছিয়ে চতুর্থ স্থানে নেমেছেন অস্ট্রেলিয়ার ট্রাভিস হেড। তাঁর জায়গা দখল করেছেন ইংল্যান্ডের হ্যারি ব্রুক। দ্বিতীয় স্থানে জো রুট এবং তৃতীয় স্থানে আছেন স্টিভ স্মিথ।
ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি বোলিং র্যাঙ্কিংয়েও বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের উন্নতি হয়েছে। ডারউইন টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে পাঁচ উইকেট নেওয়া মেহেদী হাসান মিরাজ তিন ধাপ এগিয়ে এখন ২৪তম।
তবে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় চমক হাসান মাহমুদের। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুই ইনিংস মিলিয়ে ৯ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরার পুরস্কার পাওয়া এই পেসার এক লাফে ২৬ ধাপ এগিয়েছেন। তাঁর বর্তমান অবস্থান ৩৮তম।
বাংলাদেশি বোলারদের মধ্যে অবশ্য সবার ওপরে রয়েছেন তাইজুল ইসলাম। তিনি আছেন ১১তম স্থানে। তাসকিন আহমেদ এক ধাপ এগিয়ে ৪৯তম এবং ইবাদত হোসেন চার ধাপ এগিয়ে ৮২তম স্থানে রয়েছেন।
টেস্ট বোলারদের শীর্ষস্থান ধরে রেখেছেন ভারতের জাসপ্রীত বুমরাহ।
অলরাউন্ডারদের তালিকায়ও বাংলাদেশের মিরাজ রয়েছেন ওপরের দিকে। অবস্থান অপরিবর্তিত থাকলেও ৩২০ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে তিনি আছেন তৃতীয় স্থানে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা দক্ষিণ আফ্রিকার মার্কো ইয়ানসেনের রেটিং ৩৪৪। ফলে পরের টেস্টে ভালো পারফরম্যান্স করতে পারলে ব্যবধান আরও কমানোর সুযোগ রয়েছে মিরাজের।
সব মিলিয়ে ডারউইনে অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর প্রভাব শুধু দলীয় সাফল্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। ব্যক্তিগত র্যাঙ্কিংয়েও বড় উন্নতি হয়েছে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের। সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে পারফরম্যান্স আরও ভালো হলে র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব আরও শক্তিশালী হওয়ার সুযোগ রয়েছে।


