কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব মাঠে দ্বিতীয় দিনের খেলায় ধ্রুব জুরেলের অনবদ্য শতকে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নিয়েছে ভারত। বৃষ্টি ও আলো স্বল্পতায় খেলার সময় কমে এলেও ভারতের ব্যাটিং দাপট থামেনি। জুরেলের ১৭৭ বলে ১১৫ রানের ইনিংসের সুবাদে ৯ উইকেটে ৫০৩ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে ভারত। পরে অল্প সময়ের মধ্যেই শ্রীলঙ্কার দুই উইকেট তুলে নিয়ে স্বাগতিকদের আরও চাপে ফেলে সফরকারীরা।
দিনের শুরুতে জুরেলের সঙ্গী ছিলেন অভিষেক হওয়া সারাংশ জৈন। তবে তিনি বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। আসিথা ফার্নান্দোর বাউন্সারে রক্ষণাত্মক খেলতে গিয়ে দ্বিতীয় স্লিপে ক্যাচ দেন তিনি। এরপর ব্যাট হাতে মাঠে ফেরেন আগের দিন আঘাত পাওয়া ঋষভ পান্ত। আর পান্ত নামতেই ভারতের ইনিংস পায় নতুন গতি।
শ্রীলঙ্কার পরিকল্পনা ছিল শর্ট বল দিয়ে পান্তকে চাপে রাখা। কিন্তু পান্ত সেই পরিকল্পনাকে খুব বেশি গুরুত্ব দেননি। একটি শর্ট বল হুক করে মাঠের ছাদে পাঠানোর পর যেন নিজের স্বাভাবিক ছন্দে ফিরে যান ভারতীয় উইকেটকিপার-ব্যাটার। শেষ পর্যন্ত ৮৯ বলে ৬৩ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন তিনি।
অন্য প্রান্তে ছিলেন সম্পূর্ণ ভিন্ন মেজাজের জুরেল। ঝুঁকিহীন ব্যাটিং, সিঙ্গেলস নেওয়া এবং সুযোগ বুঝে বাউন্ডারি-এভাবেই তিনি এগিয়ে নেন ভারতের স্কোর। পান্তের সঙ্গে ১৫২ বলে ১১২ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন জুরেল।

লাঞ্চের পর পান্ত আউট হলেও জুরেল দায়িত্ব ছাড়েননি। এরপর মানব সুথারের সঙ্গে ধীরস্থির একটি জুটি গড়ে ভারতের সংগ্রহ আরও বাড়ান। সুথার আউট হওয়ার পরও জুরেল উইকেটের গুরুত্ব বুঝে স্ট্রাইক নিজের কাছে রাখার চেষ্টা করেন।
সেঞ্চুরির পথে অবশ্য কিছুটা স্নায়ুচাপে পড়েছিলেন জুরেল। ৯৯ রানে পৌঁছানোর পর ২১ বল খেলেও রান নিতে পারেননি তিনি। শ্রীলঙ্কাও ফিল্ডারদের কাছে এনে চাপ বাড়ানোর চেষ্টা করে। শেষ পর্যন্ত মিড-অফের দিকে দ্রুত একটি সিঙ্গেল নিয়ে শতক পূর্ণ করেন জুরেল। রান নেওয়ার সময় সরাসরি থ্রো স্টাম্পে লাগলে তিনি রানআউট হতে পারতেন।
সেঞ্চুরি পূরণের পর ভারত দ্রুত রান বাড়িয়ে ৫০০ পেরিয়ে ৯ উইকেটে ৫০৩ রানে ইনিংস ঘোষণা করে। এরপর শ্রীলঙ্কার ব্যাটিং শুরু হলেও বৃষ্টি খেলার ছন্দে বাধা দেয়। খেলা পুনরায় শুরু হওয়ার পর মাত্র তিন ওভারেই দুই উইকেট হারায় স্বাগতিকরা।
প্রসিদ্ধ কৃষ্ণার বলে লাহিরু উদারার ব্যাটের লিডিং এজ থেকে দুর্দান্ত ক্যাচ নেন গালিতে দাঁড়িয়ে থাকা যশস্বী জয়সওয়াল। এরপর নাইটওয়াচম্যান প্রবাথ জয়াসুরিয়াকে এলবিডব্লিউ করেন মানব সুথার। শ্রীলঙ্কার ব্যাটাররা আলো নিয়ে আম্পায়ারদের কাছে অভিযোগ করলেও সিদ্ধান্ত বদলায়নি।
শেষ পর্যন্ত আলো স্বল্পতায় দিনের খেলা বন্ধ হয়ে যায়। অভিষেক হওয়া কামিল মিশারা তখন অপরাজিত ছিলেন। তবে দ্বিতীয় দিনের শেষে ম্যাচের চিত্র একেবারেই স্পষ্ট-জুরেলের সেঞ্চুরি, পান্তের দ্রুত রান এবং পরে দুই উইকেট তুলে নিয়ে ভারত এখন ম্যাচে শক্ত অবস্থানে। শ্রীলঙ্কার সামনে অপেক্ষা করছে কঠিন এক লড়াই।


