ট্রাম্পেলম্যান-ফ্রাইলিঙ্কের নৈপুণ্যে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারাল নামিবিয়া
ঘরের মাঠে ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজের শুরুটা জয় দিয়ে করেছে নামিবিয়া। শুক্রবার উইন্ডহুকে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ১৮ রানে হারিয়েছে স্বাগতিকরা। ১৬৩ রানের লক্ষ্য দিয়ে প্রোটিয়াদের ১৪৫ রানে ৯ উইকেটে আটকে দেয় তারা।
এই জয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে নিজেদের অপরাজিত রেকর্ড ধরে রাখল নামিবিয়া। দুই দলের টি-টোয়েন্টি লড়াইয়ে এটি নামিবিয়ার দ্বিতীয় জয়। সাত ম্যাচের সিরিজের প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকা অবশ্য পূর্ণ শক্তির দল নিয়ে মাঠে নামেনি। এর আগে ২০২৫ সালের ১১ অক্টোবর দক্ষিণ আফ্রিকাকে চার উইকেট হারিয়েছিলো নামিবিয়া।
শুক্রবারের ম্যাচে, টস হেরে ব্যাট করতে নেমে দারুণ শুরু করে নামিবিয়া। জান ফ্রাইলিঙ্ক ও লরেন স্টিনক্যাম্প পাওয়ারপ্লেতে যোগ করেন ৫৭ রান। প্রথম উইকেট জুটিতে ১০ ওভারের মধ্যেই আসে ৮৪ রান। তবে স্টিনক্যাম্প ৪১ রানে অধিনায়ক বিজর্ন ফোর্টুইনের বলে বোল্ড হওয়ার পরই ছন্দপতন ঘটে স্বাগতিকদের।
ফ্রাইলিঙ্ক অবশ্য নিজের সুযোগ পুরোপুরি কাজে লাগান। ১৩ রানে ক্যাচ হওয়ার সুযোগ পেয়েও বেঁচে যান তিনি। এরপর ডেওয়াল্ড ব্রেভিসকে সোজা ছক্কা মেরে পূর্ণ করেন ফিফটি। শেষ পর্যন্ত ৫টি চার ও ২টি ছক্কার সাহায্যে ৮২ বলে ৬০ রান করে আউট হন ফ্রাইলিঙ্ক। নামিবিয়া শেষ পর্যন্ত ৯ উইকেটে ১৬৩ রান সংগ্রহ করে।
দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে প্রেনেলান সুব্রায়েন ৩২ রানে নেন ৩ উইকেট। বিজর্ন ফোর্টুইন ১৭ রানে নেন ২ উইকেট। ব্রেভিসও পান ২ উইকেট। তবে বোলিংয়ের সময় লুথো সিপামলা দ্বিতীয় ওভারের মাঝপথে বাঁ হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন। তার চোটের অবস্থা পরে মেডিকেল দল মূল্যায়ন করবে।
জবাবে শুরু থেকেই চাপে পড়ে দক্ষিণ আফ্রিকা। পাওয়ারপ্লে শেষে তাদের সংগ্রহ ছিল ২ উইকেটে ৩৪ রান। নামিবিয়ার তরুণ পেসার জ্যাক ব্রাসেল ও ১৮ বছর বয়সী ম্যাক্স হেইঙ্গো শুরুতেই গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নেন। ব্রাসেল আউট করেন জর্ডান হারম্যানকে, আর রুবেন ট্রাম্পেলম্যানের বলে লুয়ান-দ্রে প্রিটোরিয়াস ক্যাচ দেন। এরপর হেইঙ্গোর বলে বোল্ড হন টনি ডি জর্জি। ২ ওভার শেষে হেইঙ্গোর বোলিং বিশ্লেষণ ছিল ১/৮।
তবে একপ্রান্তে দুর্দান্ত লড়াই চালিয়ে যান ডেওয়াল্ড ব্রেভিস। শুরুতে ২০ বলে ১৯ রানে আটকে থাকলেও প্রয়োজনীয় রানরেট ১০ ছাড়িয়ে গেলে আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন তিনি। নামিবিয়ার অভিজ্ঞ স্পিনার বার্নার্ড শল্টজের এক ওভারে ১৮ রান তুলে নেন ব্রেভিস। এরপর হেইঙ্গোর বলে টানা দুই ছক্কা মেরে ৩৯ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন। জেজে স্মিটকেও ছক্কা হাঁকিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ম্যাচে ফেরানোর চেষ্টা করেন তিনি।
শেষ পর্যন্ত ৫০ বলে ৭৫ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন ব্রেভিস। তার ইনিংসে ছিল ৬টি চার ও ৫টি ছক্কা। তবে অন্য প্রান্তে তেমন কোনো ব্যাটার তাকে সঙ্গ দিতে পারেননি। অভিষেক ম্যাচে ডুয়ান ইয়ানসেন অপরাজিত ২৫ রান করেন।
ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন ট্রাম্পেলম্যান। তার এক ওভারে প্রথম পাঁচ বলে মাত্র ৪ রান নেওয়ার পর শেষ বলে ফুলটস পেয়ে ব্রেভিস লেগ সাইডে খেলতে গিয়ে শর্ট থার্ডে ক্যাচ দেন। সেখানে দুর্দান্ত লাফিয়ে ক্যাচ নেন ব্রাসেল। ব্রেভিসের বিদায়ে দক্ষিণ আফ্রিকার জয়ের আশাও শেষ হয়ে যায়।
শেষ দুই ওভারে তাদের প্রয়োজন ছিল ৩১ রান। এর আগের ওভারে জেরহার্ড এরাসমাস মাত্র ৩ রান দিয়ে বিজর্ন ফোর্টুইনকে আউট করেন। ফলে শেষ ওভারে দরকার পড়ে ২৮ রান। জেজে স্মিট শেষ ওভারে টানা দুই বলে দুই উইকেট নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংস শেষ করে দেন।
দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংস থামে ৯ উইকেটে ১৪৫ রানে। নামিবিয়ার হয়ে ট্রাম্পেলম্যান ২৪ রানে ৩ উইকেট এবং জেজে স্মিট ৩১ রানে ৩ উইকেট নেন।
ফলে ১৮ রানের জয় নিয়ে সাত ম্যাচের ত্রিদেশীয় সিরিজে শুভ সূচনা করল নামিবিয়া। দক্ষিণ আফ্রিকা এবার প্রথম পয়েন্টের সন্ধানে আজ শনিবার সন্ধ্যা ৬টায় জিম্বাবুয়ের মুখোমুখি হবে।


