রবিনসনের আগুনে পুড়ল পাকিস্তান, লর্ডসে সিরিজ জয় ইংল্যান্ডের

লর্ডসের মেঘলা আকাশের নিচে পাকিস্তানের ব্যাটিংকে বারবার অস্বস্তিতে ফেলেছিলেন ইংল্যান্ডের পেসাররা। আর শেষ দিনে সেই চাপেরই পূর্ণ প্রতিফলন ঘটল স্কোরবোর্ডে। অলিভার রবিনসনের দুর্দান্ত বোলিংয়ে পাকিস্তানকে ১৯৪ রানে হারিয়ে তিন ম্যাচের সিরিজ এক ম্যাচ হাতে রেখেই ২-০ ব্যবধানে জিতে নিয়েছে ইংল্যান্ড।

জয়ের জন্য পাকিস্তানের সামনে ছিল ৩৮৯ রানের কঠিন লক্ষ্য। কিন্তু রবিনসন ও জোফরা আর্চারের বিধ্বংসী পেস আক্রমণের সামনে শুরুতেই পথ হারায় সফরকারীরা। মাত্র ১৪ রানেই হারায় প্রথম তিন উইকেট। আজান আওয়াইস, আবদুল্লাহ শফিক ও বাবর আজম-তিনজনই ফিরে যান ইংল্যান্ডের দুই পেসারের শিকার হয়ে।

শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানের প্রতিরোধের কেন্দ্র হয়ে দাঁড়ান সৌদ শাকিল। চতুর্থ উইকেটে শান মাসুদের সঙ্গে ৯৭ রানের জুটি গড়ে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করেন তিনি। মাত্র ৫৪ বলে অর্ধশতক পূর্ণ করা শাকিল খেলেছেন দারুণ সব শট। ১৩টি চার ও দুটি ছক্কায় ৯৭ রানের ইনিংসটি সাজান তিনি।

বৃষ্টির কারণে ৪০ মিনিট খেলা বন্ধ থাকার পর রবিনসন ফিরে এসে ভাঙেন সেই জুটি। রিভিউ নিয়ে শান মাসুদকে এলবিডব্লিউ করার পর অল্প সময়ের মধ্যেই মোহাম্মদ রিজওয়ানকেও ফেরান তিনি। রবিনসনের সেই সাফল্যেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তভাবে ইংল্যান্ডের হাতে চলে যায়।

শেষ পর্যন্ত শাকিলও তিন অঙ্ক ছুঁতে পারেননি। জশ টাংয়ের শর্ট বলে ডিপ স্কয়ার লেগে ক্যাচ দিয়ে ৯৭ রানে থামেন তিনি। এরপর পাকিস্তানের লেজ গুটিয়ে নিতে বেশি সময় লাগেনি। টাং একে একে খুররম শাহজাদসহ শেষ সারির ব্যাটারদের ফেরান।

সৌদ শাকিল

ইংল্যান্ডের জয়ের সবচেয়ে বড় নায়ক অবশ্য রবিনসন। দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ২৪ রানে চার উইকেট নিয়ে ম্যাচে তার শিকার দাঁড়ায় ৮ উইকেটে ৩৫ রান-মাত্র ২৭ ওভারে। আর্চারও দুই ইনিংস মিলিয়ে নেন পাঁচ উইকেট।

ম্যাচের শুরু থেকেই পাকিস্তান অবশ্য লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিয়েছিল। ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় ইনিংসে মোহাম্মদ আব্বাস তুলে নেন পাঁচ উইকেট। লর্ডসে এটাই তার প্রথম পাঁচ উইকেটের কীর্তি। ম্যাচে মোট ৯ উইকেট নিয়ে নিজের পুরোনো স্মৃতিও ফিরিয়ে আনেন তিনি। ২০১৮ সালে একই মাঠে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পাকিস্তানের ঐতিহাসিক জয়ে আব্বাস নিয়েছিলেন ৯ উইকেট।

তবে আব্বাসের অসাধারণ বোলিংও শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানকে বাঁচাতে পারেনি। ইংল্যান্ডের প্রথম ইনিংসে শেষ উইকেটের জুটিতে জশ টাং ও গাস অ্যাটকিনসন দলকে ২৯০ রানে পৌঁছে দেন। এরপর রবিনসন-আর্চারের পেস আক্রমণে পাকিস্তানের প্রথম ইনিংস ভেঙে পড়ে।

শেষ ইনিংসেও একই চিত্র। রবিনসনের নিখুঁত লাইন-লেন্থ, আর্চারের গতি এবং টাংয়ের আগ্রাসনে পাকিস্তানের ব্যাটিং বারবার বিপর্যস্ত হয়েছে। বাবর আজমকে ৯১ মাইল গতির বাউন্সারে অস্বস্তিতে ফেলে শেষ পর্যন্ত ক্যাচে পরিণত করেন আর্চার।

এই জয়ে ২০২৪ সালের শেষ দিকে নিউজিল্যান্ড সফরের পর প্রথমবারের মতো কোনো টেস্ট সিরিজ জিতল ইংল্যান্ড। আর পাকিস্তানের জন্য লর্ডস টেস্ট হয়ে রইল হতাশার-ব্যাট হাতে শাকিলের একক প্রতিরোধ ও আব্বাসের দুর্দান্ত বোলিংয়ের পরও শেষ হাসি হাসল ইংল্যান্ড।

spot_imgspot_img
spot_img

Hot Topics

Related Articles