সাফজয়ী অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবলারদের সংবর্ধনা দিলো ডিএনসিসি

সাফজয়ী অনূর্ধ্ব-২০ দলকে সংবর্ধনা দিলো ডিএনসিসি

সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে শিরোপা জয়ের গৌরব অর্জনকারী বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-২০ জাতীয় ফুটবল দলকে সংবর্ধনা ও পুরস্কার প্রদান করেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। বুধবার (২২ এপ্রিল) রাজধানীর গুলশানে নগর ভবনে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই সংবর্ধনা দেওয়া হয়। দেশের ফুটবলে এই সাফল্যকে বিশেষভাবে স্বীকৃতি জানাতেই এই আয়োজন করা হয়, যেখানে তরুণ ফুটবলারদের অনুপ্রাণিত করার পাশাপাশি তাদের অর্জনকে সম্মান জানানো হয়।

সাফজয়ী অনূর্ধ্ব-২০ দলকে সংবর্ধনা দিয়েছে ডিএনসিসি

অনুষ্ঠানে সাফজয়ী দলের প্রত্যেক খেলোয়াড়কে ৫০ হাজার টাকার চেক প্রদান করা হয়। পাশাপাশি তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয় ক্রেস্ট এবং সিটি করপোরেশনের বিশেষ স্মারক উপহার। শুধু খেলোয়াড়রাই নয়, দলের কোচিং স্টাফদেরও সম্মাননা স্মারক প্রদান করে তাদের অবদানের স্বীকৃতি দেওয়া হয়। এই উদ্যোগ দেশের ক্রীড়া অঙ্গনে ইতিবাচক বার্তা বহন করছে, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের কাছে।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডিএনসিসির প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন-এর সভাপতি তাবিথ আউয়াল। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান। তাদের বক্তব্যে ফুটবলের উন্নয়ন, তরুণদের সম্ভাবনা এবং ক্রীড়া অবকাঠামো উন্নয়নের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন,

দেশের ফুটবল নতুন করে এগিয়ে যাওয়ার পথে রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সারাদেশে খালি জায়গাগুলো অবৈধ দখলমুক্ত করে সেগুলোকে খেলাধুলার উপযোগী করে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে করে তরুণরা আরও বেশি সুযোগ পাবে খেলাধুলার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার এবং নিজেদের দক্ষতা বিকাশের।

তিনি খেলোয়াড়দের উদ্দেশ্যে বলেন,

“তোমাদের মধ্য থেকেই ভবিষ্যতের জাতীয় দলের খেলোয়াড় তৈরি হবে। আমাদের কাছে অর্থের পরিমাণ বড় বিষয় নয়, বরং তোমাদের সম্মান জানানো এবং অনুপ্রেরণা দেওয়াই মূল লক্ষ্য।”

তার এই বক্তব্য উপস্থিত সকলের মধ্যে উৎসাহ ও উদ্দীপনা সৃষ্টি করে।

সাফজয়ী অনূর্ধ্ব-২০ দলকে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল

বিশেষ অতিথি তাবিথ আউয়াল তার বক্তব্যে বলেন,

“সিটি করপোরেশন দেশের ক্রীড়া উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তিনি ডিএনসিসি প্রশাসককে একজন স্পোর্টস প্যাট্রন হিসেবে ধন্যবাদ জানান। তিনি আরও বলেন, খেলাধুলা সমাজে ঐক্য গড়ে তোলে এবং সুস্থ সমাজ নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।”

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাফুফের সহ-সভাপতি ফাহাদ মোহাম্মদ আহমেদ করিম, ডিএনসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী এবং প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ রকিবুল হাসানসহ উভয় প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য কর্মকর্তারা।

পুরো আয়োজনটি ছিল উৎসবমুখর এবং গর্বের, যা দেশের ফুটবলের জন্য এক অনুপ্রেরণামূলক অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

Exit mobile version