দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে জুড বেলিংহাম ও হ্যারি কেনের গোলে পানামাকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়ে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে ইংল্যান্ড । এই জয়ের ফলে পানামাকে হারিয়ে গ্রুপসেরা হয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডে জায়গা করে নিলো ইংল্যান্ড ।
আগামী বুধবার, ১ জুলাই বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায় আটলান্টা স্টেডিয়ামে টুর্নামেন্টের শেষ ৩২ এর ম্যাচে মাঠে নামবে ইংল্যান্ড। সেখানে তারা গ্রুপ E, H, I, J অথবা K এর যেকোনো একটি তৃতীয় স্থান অধিকারী দলের মুখোমুখি হবে।
মেটলাইফ স্টেডিয়ামের এক বৃষ্টিভেজা বিকেলে গ্যালারি জুড়ে ছিল ইংলিশ সমর্থকদের জয়ধ্বনি, যা মাঠটিকে সাময়িকভাবে ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামের আবহ এনে দিয়েছিল। ম্যাচের প্রথমার্ধে ইউরোপের এই ফুটবল পরাশক্তিকে গোলশূন্য রাখতে সক্ষম হয়েছিল পানামা। প্রথম ৪৫ মিনিটে কোনো দলই তেমন একটা আক্রমণ করতে পারেনি; এমনকি প্রথমার্ধে ইংলিশ অধিনায়ক হ্যারি কেন মাত্র ১০ বার বল স্পর্শ করতে পেরেছিলেন, যা মাঠে থাকা যেকোনো খেলোয়াড়ের মধ্যে সর্বনিম্ন।
তবে ম্যাচের ৬২ মিনিটে ডেডলক ভাঙেন জুড বেলিংহাম। বুকায়ো সাকার নিখুঁত কর্নার কিক থেকে ৬-গজ বক্সের সামনে পানামার ডিফেন্ডার হোর্হে গুতিয়ারেস বেলিংহামকে শক্তভাবে জড়িয়ে ধরে আটকে রাখার চেষ্টা করলেও লাভ হয়নি। বেলিংহাম তাঁর বাঁ পা বাড়িয়ে গোলরক্ষক অরল্যান্ডো মস্কেরাকে পরাস্ত করে বল জালে জড়ান। এটি বিশ্বকাপে বেলিংহামের তৃতীয় এবং চলতি আসরে দ্বিতীয় গোল।
বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের সর্বোচ্চ গোলদাতা হ্যারি কেইন
এর ঠিক পাঁচ মিনিট পর, বাম প্রান্ত থেকে বেলিংহামের বাড়ানো ক্রস থেকে ডিফেন্ডার আন্দ্রেস আন্দ্রাদেকে পরাস্ত করে শূন্যে লাফিয়ে দুর্দান্ত এক হেডে গোল করেন হ্যারি কেন। এই গোলের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিজের ৮২তম গোলের মাইলফলক স্পর্শ করলেন কেন। একই সাথে গ্যারি লিনেকারকে (১০ গোল) ছাড়িয়ে ১১টি গোল নিয়ে বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড এখন এককভাবে হ্যারি কেনের দখলে।
২০১৮ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে সুইডেনকে হারানোর পর এই প্রথম কোনো টুর্নামেন্টে লাল জার্সি পরে মাঠে নেমেছিল ইংল্যান্ড। গ্রুপ পর্বে দুই জয় ও এক ড্র-তে ৭ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে থেকে গ্রুপ পর্ব শেষ করল তারা। এই ম্যাচে পয়েন্ট হারালে বা গ্রুপে দ্বিতীয় হলে নকআউট পর্বে ইংল্যান্ডকে কলম্বিয়া বা পর্তুগালের মতো কঠিন প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হতে হতো, যার পরবর্তী ধাপে থাকত স্পেন, অস্ট্রিয়া বা আলজেরিয়ার মতো দল।
অন্যদিকে, এবারও গ্রুপ পর্বের ৩টি ম্যাচেই হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিল পানামা। ইরাক, হাইতি, এল সালভাদর, কানাডা এবং মেক্সিকোর পর ষষ্ঠ দল হিসেবে নিজেদের প্রথম ছয়টি বিশ্বকাপ ম্যাচেই হারের তেতো স্বাদ পেল তারা (যার মধ্যে ৫টি দলই কনকাকাফ অঞ্চলের)।
ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধের ইনজুরি টাইমে হোসে ফাজার্দো পানামার হয়ে একটি গোল করলেও সেটি অফসাইডের কারণে বাতিল হয়ে যায়।
১৯৬৬ সালে ঘরের মাঠে একমাত্র বিশ্বকাপ জেতা ইংল্যান্ড এই নিয়ে গত আটটি বিশ্বকাপের মধ্যে সাতবারই নকআউট পর্বে জায়গা করে নিল।
দলে রদবদল ও নতুন কৌশল
হ্যামস্ট্রিং ইনজুরির কারণে নিয়মিত রাইট-ব্যাক রিশ জেমস দল থেকে ছিটকে যাওয়ায় সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার জ্যারেল কুয়ানসাহকে রাইট-ব্যাক হিসেবে খেলান কোচ থমাস টুখেল। লেফট-ব্যাকে জেড স্পেন্সের জায়গায় খেলানো হয় নিকো ও’রাইলিকে। এছাড়া মাঝমাঠ ও আক্রমণে বড় পরিবর্তন এনে ডেক্লান রাইস, ননি মাদুয়েকে এবং অ্যান্থনি গর্ডনের পরিবর্তে বুকায়ো সাকা, মরগান রজার্স ও মার্কাস রাশফোর্ডকে প্রথম একাদশে নামান টুখেল।
স্কোর কার্ড
বিশ্বকাপ ২০২৩


















