হ্যারি ব্রুকের ঝড়ো সেঞ্চুরি, জস বাটলারের দুর্দান্ত ব্যাটিং আর সনি বেকারের কার্যকর বোলিংয়ে শ্রীলঙ্কাকে ১১৯ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে দারুণ শুরু করেছে ইংল্যান্ড। সাউদাম্পটনের ইউটিলিটা বোল-এ মঙ্গলবার রাতে প্রথমে ব্যাট করে ৪ উইকেটে ২৫৪ রান তোলে ইংল্যান্ড। জবাবে এক ওভার বাকি থাকতেই মাত্র ১৩৫ রানে অলআউট হয় শ্রীলঙ্কা।
ইংল্যান্ডের ইনিংসের মূল নায়ক ব্রুক। মাত্র ৪২ বলে সেঞ্চুরি তুলে নিয়ে অপরাজিত থাকেন ১১৪ রানে। এটি তাঁর দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরি এবং আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে তাঁর দ্রুততম শতক। ইংল্যান্ডের হয়ে এর চেয়ে দ্রুত সেঞ্চুরি আছে কেবল ফিল সল্টের (৩৯ বলে)। যা তিনি করেছিলেন প্রায় এক বছর আগে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে।
ব্রুকের সঙ্গে দারুণ জুটি গড়ে তোলেন সাবেক ইংল্যান্ড টেস্ট অধিনায়ক বাটলার। তিনি ৪৪ বলে করেন ৮০ রান। অধিনায়ক ও সাবেক অধিনায়কের ৬০ বলে ১২৮ রানের জুটিতে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি ইংল্যান্ডের হাতে চলে যায়।
জবাবে শ্রীলঙ্কার হয়ে সর্বোচ্চ ৩৩ রান করেন দুনিথ ওয়েলালাগে। কিন্তু তাঁর বাইরে আর কেউ বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। ইংল্যান্ডের হয়ে সনি বেকার ৩ উইকেট নিয়ে শ্রীলঙ্কার ব্যাটিং ধসিয়ে দেন।
শুরুতেই ইংল্যান্ডের ঝড়
টস জিতে ইংল্যান্ডকে ব্যাটিংয়ে পাঠান শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক চারিথ আসালাঙ্কা। আগের ম্যাচের মতোই শুরুতে ইংল্যান্ডকে ব্যাটিংয়ে পাঠানোর সিদ্ধান্তের খেসারত দিতে হয় শ্রীলঙ্কাকে।
ইংল্যান্ডের ইনিংসের শুরুতেই অভিষিক্ত অ্যানিউরিন ডোনাল্ড মাত্র পাঁচ বলে ১২ রান করে আক্রমণের সূচনা করেন। তাঁর চার বলের মধ্যেই আসে দুটি বাউন্ডারি। এরপর অবশ্য বড় ইনিংস খেলতে পারেননি তিনি। কিন্তু শুরুতে তাঁর আক্রমণাত্মক ব্যাটিং ইংল্যান্ডকে দ্রুত ছন্দ এনে দেয়।
পাওয়ারপ্লেতে ইংল্যান্ডের রান ছিল ১ উইকেটে ৯০। যা কিনা টি-টোয়েন্টিতে তাদের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পাওয়ারপ্লে স্কোর। এরপর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তভাবে নিজেদের হাতে নেয় ব্রুক ও বাটলার।
পঞ্চম ওভারেই দুনিথ ওয়েলালাগের এক ওভার থেকে ৩০ রান তুলে নেন ব্রুক। এরপর বাটলারও সুযোগ পান। ৪৫ রানে থাকা বাটলারের ক্যাচ লং-অফে ফেলে দেন ইশান মালিঙ্গা। স্লাইস করে মারা শটটি ধরতে গিয়ে বলের নিচে পৌঁছেও ক্যাচটি নিতে পারেননি তিনি।
এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি ইংল্যান্ডকে।
ব্রুক-বাটলারের ১২৮ রানের ঝড়
ব্রুক ও বাটলার মিলে শ্রীলঙ্কার বোলিংকে পুরোপুরি এলোমেলো করে দেন। ৬০ বলে ১২৮ রানের জুটি গড়ে তাঁরা ইংল্যান্ডকে বিশাল সংগ্রহের পথে নিয়ে যান।
ইংল্যান্ডের ব্যাটিংয়ের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক ছিল শুধু চার-ছক্কার সংখ্যা নয়, দ্রুত দুই রান নেওয়ার ক্ষমতাও। ইনিংসে ইংল্যান্ড মারে ১৯টি চার ও ১২টি ছক্কা। এর পাশাপাশি দ্রুতগতিতে দুই রান নিয়ে স্কোরবোর্ড সচল রাখেন ব্যাটাররা। এইক্ষেত্রে ব্রুক ছিলেন এগিয়ে। তিনি ৯বার ডাবলস নেন। অন্য তিন ইংলিশ ব্যাটার মিলে ডাবলস নিয়েছেন ১২টি।
বাটলার নিজের স্বাভাবিক আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি এবার কিছুটা অ্যাঙ্করের ভূমিকাও পালন করেন। ২৯ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন তিনি।
সাম্প্রতিক সময়ে সাউদাম্পটনে তাঁর ব্যাটিংয়ে দারুণ ধারাবাহিকতা দেখা যাচ্ছে। ভারতের বিপক্ষে আগের টি-টোয়েন্টিতে ১৩১ রানের পর এবার ৮০ রান করেছেন তিনি। ফলে সাউদাম্পটনে তাঁর শেষ দুই টি-টোয়েন্টি ইনিংসে মোট রান দাঁড়াল ২১১। এর বিপরীতে বছরের শুরুতে প্রথম ১৪ টি-টোয়েন্টি ইনিংসে তাঁর মোট রান ছিল ২১২।
৪২ বলে ব্রুকের শতক
বাটলার ৮০ রানে থামলেও ব্রুককে থামাতে পারেনি শ্রীলঙ্কা। একের পর এক বাউন্ডারি ও ছক্কায় নিজের ইনিংসকে এগিয়ে নেন তিনি। মাত্র ৪২ বলে তিন অঙ্কে পৌঁছান ব্রুক। এটি তাঁর ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরি। চলতি বছরে সাদা বলের ক্রিকেটে এটি তাঁর তৃতীয় সেঞ্চুরি।
এর আগে পাকিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে প্রথম টি-টোয়েন্টি শতক পেয়েছিলেন ব্রুক। এবার নিজের রেকর্ড আরও সমৃদ্ধ করলেন ২৭ বছর বয়সী এই ব্যাটার। শেষ পর্যন্ত ৪২ বলে সেঞ্চুরি করা ব্রুক ১১৪ রানে অপরাজিত থাকেন। তাঁর ব্যাটিংয়ের সুবাদে ইংল্যান্ড ২০ ওভারে ২৫৪ রানের বিশাল সংগ্রহ গড়ে।
বল হাতে বেকারের দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন
২৫৫ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই বিপদে পড়ে শ্রীলঙ্কা। প্রথম ওভারেই মেডেন দেন ইংল্যান্ডের ২৩ বছর বয়সী পেসার সনি বেকার। অভিষেকের পর তিন ফরম্যাটেই খুব একটা ভালো করতে না পারা বেকারের জন্য ম্যাচটি ছিল ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ। গ্রীষ্মে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্টেও বল করেছিলেন তিনি। এবার নিজের ঘরের মাঠে প্রথমবার সীমিত ওভারের ক্রিকেটে উইকেটের দেখা পেলেন।
বেকার শুরুতেই প্রায় ৯০ মাইল গতির একটি বল করেন, যা কামিল মিশারার ব্যাটের কানায় না লেগে চলে যায়। চার বল পর লাহিরু উদারাকে ফেরান তিনি। স্কুপ করার চেষ্টা করেছিলেন উদারা। বল উঠে যায় আদিল রশিদের কাছে, শর্ট ব্যাকওয়ার্ড স্কয়ারে সহজ ক্যাচ নেন তিনি। এরপর প্যাভিলিয়ন এন্ড থেকে ৯২ মাইল গতির আরেকটি বল করেন বেকার। বলটি শেষ মুহূর্তে বাইরে সরে গিয়ে থিকশানার অফ স্টাম্প উড়িয়ে দেয়।
বেকারের বোলিংয়ের ফলে শ্রীলঙ্কার রান তাড়া শুরুতেই ধাক্কা খায়।
ওয়েলালাগে ছাড়া কেউ দাঁড়াতে পারেননি
শ্রীলঙ্কার ব্যাটিং লাইনআপের একমাত্র উল্লেখযোগ্য প্রতিরোধ আসে আট নম্বরে নামা দুনিথ ওয়েলালাগের ব্যাট থেকে। তিনি ২১ বলে ৩৩ রান করেন। কিন্তু তাঁর আগে-পরে শ্রীলঙ্কার প্রায় সব ব্যাটারই ব্যর্থ হন। ইংল্যান্ডের ছয় বোলারের প্রত্যেকেই অন্তত একটি করে উইকেট পান। ফলে বড় লক্ষ্য তাড়া করার কোনো পর্যায়েই শ্রীলঙ্কা ম্যাচে ফেরার মতো অবস্থান তৈরি করতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত ১৯তম ওভারের শেষেই ১৩৫ রানে গুটিয়ে যায় তাদের ইনিংস।




