স্পেনের কাছে হারের ধাক্কা সামলে নেশনস লিগে জয়ে ফিরেছে ইংল্যান্ড। মঙ্গলবার রাতে প্রাগে ১০ জনের চেকিয়াকে ২-০ গোলে হারিয়েছে থমাস টুখেলের দল। ইংল্যান্ডের হয়ে গোল করেছেন অ্যান্থনি গর্ডন ও অধিনায়ক হ্যারি কেন।
ম্যাচের প্রথমার্ধে পাভেল শুলচ লাল কার্ড দেখার পরই চেকিয়ার প্রতিরোধ অনেকটাই দুর্বল হয়ে যায়। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে গর্ডনের গোলে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। পরে হ্যারি কেন গোল করে জয় নিশ্চিত করেন।
শনিবার নিজেদের আগের ম্যাচে স্পেনের কাছে ৩-২ গোলে হেরেছিল ইংল্যান্ড। তাই চেকিয়ার বিপক্ষে জয়টি টুখেলের দলের জন্য ছিল গুরুত্বপূর্ণ। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ৪৯তম স্থানে থাকা চেকিয়ার বিপক্ষে অবশ্য শুরুটা খুব স্বস্তির ছিল না ইংল্যান্ডের। ম্যাচের শুরুতেই কিছুটা অগোছালো ফুটবল খেলতে দেখা যায় ইংল্যান্ডকে। প্রথম দিকের একটি আক্রমণ ঠেকাতে ব্যর্থ হন এলিয়ট অ্যান্ডারসন। তবে পাভেল শুলচের প্রচেষ্টা ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক জেমস ট্র্যাফোর্ড। জর্ডান পিকফোর্ডের পরিবর্তে আবারও ইংল্যান্ডের গোলবারের নিচে ছিলেন ট্র্যাফোর্ড।
শুরুতেই সুযোগ নষ্ট ইংল্যান্ডের
১৬ মিনিটে এগিয়ে যাওয়ার দারুণ সুযোগ পায় ইংল্যান্ড। মর্গান রজার্স দুর্দান্ত দক্ষতায় প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভেঙে শট নেন। কিন্তু তাঁর শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। ফিরতি বলে অ্যান্ডারসন ও বুকায়ো সাকার প্রচেষ্টাও চেকিয়ার রক্ষণ আটকে দেয়। এরপর ইংল্যান্ড ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিতে শুরু করে। অ্যান্থনি গর্ডনের বাঁকানো শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। তবে ম্যাচের ৩০ মিনিটের কাছাকাছি সময়ে বড় ধাক্কা খায় চেকিয়া।
এলিয়ট অ্যান্ডারসনকে ফাউল করেন শুলচ। প্রথমে তাঁকে হলুদ কার্ড দেখিয়েছিলেন তুরস্কের রেফারি উমুত মেলার। পরে ভিডিও সহকারী রেফারির পরামর্শে মাঠের পাশের মনিটরে ঘটনাটি দেখে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেন তিনি। হলুদ কার্ড বদলে শুলচকে সরাসরি লাল কার্ড দেখানো হয়।

১০ জনের চেকিয়া এরপর অনেকটা রক্ষণাত্মক হয়ে পড়ে। ইংল্যান্ডের সাকা, রজার্স ও গর্ডন একের পর এক আক্রমণ চালাতে থাকেন। ক্রস থেকে বারবার বিপদ তৈরি হয় স্বাগতিকদের রক্ষণে।প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে হ্যারি কেনের শটও দারুণভাবে ঠেকিয়ে দেন চেকিয়ার গোলরক্ষক মাতেই কোভার। তবে বিরতির পর আর ইংল্যান্ডকে বেশিক্ষণ আটকে রাখা সম্ভব হয়নি।
চেকিয়ার ভুলে ইংল্যান্ডের গোল
দ্বিতীয়ার্ধের মাত্র দ্বিতীয় মিনিটেই গোল পেয়ে যায় ইংল্যান্ড। চেকিয়ার একটি ভুল পাস মাঝমাঠের কাছাকাছি জায়গায় কুড়িয়ে নেন ট্রেন্ট আলেকজান্ডার-আর্নল্ড। ডান দিক থেকে তিনি অসাধারণ একটি ক্রস পাঠান বক্সে। সেই ক্রসে মাথা ছুঁইয়ে বলকে নিচু শটে দূরের পোস্টের দিকে পাঠিয়ে দেন গর্ডন। গোলরক্ষক কোভারের কোনো সুযোগই ছিল না।
গোলের পরও আক্রমণ চালিয়ে যায় ইংল্যান্ড। লেফট-ব্যাক লুইস হল ও গর্ডনের বোঝাপড়া চেকিয়ার রক্ষণে বারবার সমস্যা তৈরি করে। ৬৯ মিনিটে হলের একটি বিপজ্জনক ক্রস নিজেদের পোস্টে ঠেকিয়ে দেন লাদিস্লাভ ক্রেইচি।
এরপর সেই আক্রমণ থেকেই দ্বিতীয় গোলের সুযোগ তৈরি হয়। রজার্সকে শট নিতে বাধা দিলেও বল চলে যায় হ্যারি কেনের সামনে। ইংল্যান্ড অধিনায়ক কোনো ভুল করেননি। নিচু শটে বল জালে পাঠিয়ে ব্যবধান ২-০ করেন তিনি।
গোলের পরই কেনকে তুলে নেন টুখেল। তাঁর সঙ্গে মাঠে নামেন জুড বেলিংহ্যাম, রিও এনগুমোহা ও অভিষেক হওয়া অ্যালেক্স স্কট। শেষ দিকে ইংল্যান্ডের আরও গোল পাওয়ার সুযোগ ছিল। বদলি হিসেবে নামা এবেরেচি এজে ও বেলিংহ্যামের প্রচেষ্টা ঠেকিয়ে দেন চেকিয়ার গোলরক্ষক কোভার।


