থিয়ের্নো বারির দুর্দান্ত ফর্মে উড়ছে এভারটন। তাঁর জোড়া গোলের সুবাদে পিছিয়ে পড়েও কভেন্ট্রিকে ৩-১ গোলে হারিয়েছে দলটি। এই জয়ে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের পয়েন্ট তালিকায় উঠে এসেছে পঞ্চম স্থানে। শুধু তাই নয়, চলতি মৌসুমে গোলের হিসাবে ম্যানচেস্টার সিটির আর্লিং হালান্ডের পরই এখন বারির অবস্থান।
শনিবারের ম্যাচে শুরুতে অবশ্য এগিয়ে গিয়েছিল কভেন্ট্রি। ইয়ান গোবোর গোলে প্রথমার্ধে লিড নেয় ফ্রাঙ্ক ল্যাম্পার্ডের দল। তবে বিরতির পর দৃশ্যপট পাল্টে দেন এভারটনের ফরাসি স্ট্রাইকার বারি। তাঁর জোড়া গোলের পর কিয়েরন ডিউসবারি-হলের শেষ সময়ের গোলে নিশ্চিত হয় এভারটনের জয়।
সাত ম্যাচে ছয় গোল
এভারটনের জার্সিতে টানা তিন ম্যাচে গোল করলেন ২৪ বছর বয়সী বারি। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে সর্বশেষ সাত ম্যাচে তাঁর গোল ছয়টি। চলতি মৌসুমে সব মিলিয়ে গোলসংখ্যা ১০। গত মৌসুমে নিজের প্রথম বছরে যে সংখ্যক গোল করেছিলেন, এবার তার চেয়ে দুই গোল বেশি করেছেন তিনি।
ম্যাচের প্রথমার্ধে অবশ্য বারির পারফরম্যান্স খুব একটা আশাব্যঞ্জক ছিল না। ভালো একটি সুযোগ পেয়েও বল নিয়ন্ত্রণে রাখতে না পারায় শট নিতে ব্যর্থ হন তিনি। অন্যদিকে, প্রথমার্ধের শেষ দিকে ইয়ান গোবোর গোলে এগিয়ে যায় কোভেন্ট্রি। লিগে নিজের দ্বিতীয় ম্যাচ খেলতে নেমেই ক্লাবটির হয়ে প্রথম গোল করেন ফরাসি এই ফুটবলার।

বিরতির পরপরই সমতায় এভারটন
তবে সেই লিড বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পারেনি সফরকারীরা। বিরতির পর ৪ মিনিটের মধ্যেই সমতায় ফেরে এভারটন। ভিতালি মাইকোলেঙ্কোর ক্রস থেকে হেডে বল জালে পাঠান বারি। এরপর আরও পাঁচ মিনিটের মধ্যে আবারও গোল করেন তিনি। এবারও মাইকোলেঙ্কোর আক্রমণ থেকে পাওয়া বলে প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারকে পেছনে ফেলে খুব কাছ থেকে জালে পাঠান ফরাসি স্ট্রাইকার।
ম্যাচের ৮১ মিনিটে কিয়েরন ডিউসবারি-হলের দৃষ্টিনন্দন গোল এভারটনের জয় নিশ্চিত করে। তাঁর নিখুঁত অ্যাঙ্গেলড ফিনিশে ব্যবধান হয় ৩-১। এই জয়ে টানা তৃতীয় ম্যাচে জয় পেল এভারটন। পঞ্চম স্থানে উঠে এসে তারা পেছনে ফেলেছে নগরপ্রতিদ্বন্দ্বী লিভারপুলকে।
এভারটন কোচ ডেভিড ময়েসের জন্য জয়টি ছিল বিশেষ উপলক্ষেরও। ক্লাবটির হয়ে ৫৯২তম ম্যাচে ডাগআউটে দাঁড়িয়ে হ্যারি ক্যাটারিকের সমান ম্যাচ পরিচালনার রেকর্ড গড়েছেন তিনি। ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে মজার ছলে বলেছিলেন, ‘আর্লিং হালান্ডের চিন্তিত হওয়া উচিত।’ বারির সাম্প্রতিক গোল-ফর্ম সেই মন্তব্যকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। যদিও গোলসংখ্যায় হালান্ডকে ছাড়িয়ে যাওয়া এখনই সহজ নয়।
এদিকে এভারটনের জয়ের পাশাপাশি আলোচনায় এসেছে জ্যাক গ্রিলিশের বিষয়টিও। অনুশীলনে অনুপস্থিত থাকার কারণে ক্লাবের শৃঙ্খলাজনিত ব্যবস্থার মুখে পড়েছিলেন তিনি। সর্বশেষ চার ম্যাচে দলের বাইরে থাকা এই ইংলিশ তারকা ম্যাচের দিন ফিঞ্চ ফার্মে ফিরে ব্যক্তিগত অনুশীলন শুরু করেছেন। আন্তর্জাতিক বিরতির পর তাঁর মূল দলে ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে।
মৌসুমের শুরুতে ধুঁকতে থাকা এভারটনের জন্য বারির গোল-ফর্ম এখন বড় স্বস্তি। সীমিত সামর্থ্যের দল নিয়েও ময়েস যে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন, তাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন এই ফরাসি স্ট্রাইকার। তাঁর এমন ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারলে প্রিমিয়ার লিগের শীর্ষস্থানগুলোর লড়াইয়ে এভারটন আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারে।


