বিশ্বকাপ ভেন্যু পরিবর্তনের জন্য ইরানের দাবি নাকচ ও শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে ইসরায়েলকে শাস্তি দিয়েছে ফিফা। বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ সামনে রেখে এসব সিদ্ধান্তে ইসরায়েল, ফিলিস্তিন ও ইরান—তিন পক্ষই সরাসরি প্রভাবিত হয়েছে। ইসরায়েলকে ফিফার শাস্তি মূলত আর্থিক জরিমানা।
ফিফা ইসরায়েল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে ১ লাখ ৫০ হাজার সুইস ফ্রাঁ জরিমানা করেছে। একই সঙ্গে ফিলিস্তিন ফুটবল সংস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি নাকচ করা হয়েছে। বিশ্বকাপে ইরানের ম্যাচসূচি পরিবর্তনের অনুরোধও প্রত্যাখ্যান করে তা নির্ধারিত সময় অনুযায়ী আয়োজনের ব্যাপারে নিজেদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে ফিফা।
ইসরায়েলকে ফিফার শাস্তি
ফিফার তদন্তে ইসরায়েল ফুটবলের বিরুদ্ধে বৈষম্য ও বর্ণবাদী আচরণের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে,‘বৈষম্য, বর্ণবাদী আচরণ, আপত্তিকর ব্যবহার এবং ফেয়ার প্লে নীতিমালা লঙ্ঘনের’ দায়ে এই জরিমানা করা হয়েছে। বিশেষ করে ইসরায়েলের ক্লাব বেইতার জেরুজালেমের সমর্থকদের আচরণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ফিফা।

অভিযোগে বলা হয়েছে, এই ক্লাবের সমর্থকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বর্ণবাদী আচরণের প্রবণতা রয়েছে এবং এ বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে ইসরায়েল ফুটবল কর্তৃপক্ষ। পশ্চিম তীরের বসতি এলাকায় ফুটবল অবকাঠামো থেকে ফিলিস্তিনিদের পদ্ধতিগতভাবে বাদ দেওয়া সম্পর্কেও সমালোচনা করা হয়েছে। জরিমানার এক-তৃতীয়াংশ অর্থ বৈষম্য প্রতিরোধে সংস্কার, নজরদারি ও শিক্ষামূলক কার্যক্রমে ব্যয় করতে নির্দেশ দিয়েছে ফিফা।
অন্যদিকে, দীর্ঘদিন ধরে ফিলিস্তিন ফুটবল সংস্থা অভিযোগ করে আসছে, পশ্চিম তীরের বসতিতে থাকা ক্লাবগুলোকে ইসরায়েলি লিগে খেলতে দিয়ে ফিফার নীতিমালা লঙ্ঘন করা হচ্ছে। এ প্রেক্ষিতে ইসরায়েলকে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে নিষিদ্ধ করার দাবি জানানো হয় তাদের পক্ষ থেকে। তবে ফিফা জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে পশ্চিম তীরের চূড়ান্ত অবস্থান এখনও ‘জটিল ও অমীমাংসিত’ বিষয়। তাই এই মুহূর্তে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কোনো সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না।
ইরানের দাবি নাকচ
মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক উত্তেজনার কারণে ইরান তাদের বিশ্বকাপের ম্যাচ যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরিয়ে মেক্সিকোতে নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছিল। তবে সেই অনুরোধও নাকচ করেছে ফিফা। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফ্যান্টিনো বলেছেন, ‘আমাদের একটি নির্ধারিত সূচি রয়েছে এবং আমরা চাই বিশ্বকাপ সেই সূচি অনুযায়ীই অনুষ্ঠিত হোক।’

সূচি অনুযায়ী ইরানের তিনটি গ্রুপ ম্যাচ যুক্তরাষ্ট্রে হওয়ার কথা—এর মধ্যে দুটি ম্যাচ লস অ্যাঞ্জেলেসে এবং একটি সিয়াটলে। ইরান সরকার ও ফুটবল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা বিশ্বকাপ বয়কট করতে চান না। তবে চলমান সামরিক হামলার কারণে দলকে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো কঠিন হয়ে পড়ছে।
ফিফা স্বীকার করেছে, বৈশ্বিক রাজনৈতিক সংকট সমাধান করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। তবে ফুটবলের মাধ্যমে শান্তি ও সংযোগ গড়ে তোলার চেষ্টা চালিয়ে যাবে সংস্থাটি। ইনফ্যান্টিনো বলেছেন,‘ফিফা ভূ-রাজনৈতিক সংকট সমাধান করতে পারে না। তবে ফুটবলের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে আমরা সেতুবন্ধন গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
স্কোর কার্ড
বিশ্বকাপ ২০২৩


















