সর্বাধিক ৪৮ দল নিয়ে মেক্সিকো, কানাডা ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ আয়োজনে মাঠে গড়াচ্ছে ফুটবল ইতিহাসের বৃহত্তম মহাযজ্ঞ ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬। দল সংখ্যা বৃদ্ধির এই নতুন ফরম্যাটের কারণে বিশ্বমঞ্চে এবার মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোর এক ঐতিহাসিক ও অভূতপূর্ব উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে। বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ফিফা বিশ্বকাপ মঞ্চে ১৪ মুসলিম দেশ বিশ্বসেরার ট্রফি জয়ের লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছে।
এদের মধ্যে যেমন রয়েছে কাতার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালিস্ট মরক্কো বা এশিয়ার পরাশক্তি ইরান, তেমনই রয়েছে প্রথমবারের মতো ফুটবলের এই সর্বোচ্চ আসরে পা রাখা জর্ডান ও উজবেকিস্তানের মতো নতুন ইতিহাস সৃষ্টিকারী দেশগুলো।
বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী ১৪টি মুসলিম দেশের গ্রুপ বিন্যাস
২০২৬ বিশ্বকাপের ১২টি গ্রুপের মধ্যে অধিকাংশ গ্রুপেই মুসলিম দেশগুলোর উপস্থিতি রয়েছে। নিচে দলগুলোর গ্রুপ ভিত্তিক তালিকা দেওয়া হলো :
| গ্রুপ | দেশসমূহ |
|---|---|
| গ্রুপ বি | কাতার, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা |
| গ্রুপ সি | মরক্কো |
| গ্রুপ ডি | তুরস্ক |
| গ্রুপ এফ | তিউনিসিয়া |
| গ্রুপ জি | ইরান, মিশর |
| গ্রুপ এইচ | সৌদি আরব |
| গ্রুপ আই | সেনেগাল, ইরাক |
| গ্রুপ জে | আলজেরিয়া, জর্ডান |
| গ্রুপ কে | উজবেকিস্তান |
ইতিহাস ও অভিষেকের নতুন গল্প
এবারের আসরে মুসলিম দেশগুলোর অংশগ্রহণ কেবল সংখ্যার দিক থেকেই নয়, বরং নানা ঐতিহাসিক রেকর্ডের কারণেও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
১. চার দেশের ঐতিহাসিক অভিষেক
এবারের আসরে ফুটবলের মহাবৈশ্বিক মঞ্চে প্রথমবারের মতো অভিষেক ঘটেছে জর্ডান এবং উজবেকিস্তান-এর। এশিয়ান কোয়ালিফায়ারে দুর্দান্ত পারফর্ম করে এই দুই দেশ নিজেদের ফুটবল ইতিহাসের সোনালী অধ্যায় রচনা করেছে।
২. দীর্ঘ বিরতি শেষে প্রত্যাবর্তন
- ইরাক: ১৯৮৬ সালের পর অর্থাৎ দীর্ঘ ৪০ বছর পর বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে ফিরেছে ইরাক।
- তুরস্ক: ২০০২ বিশ্বকাপে তৃতীয় স্থান অধিকার করে বিশ্বকে চমকে দেওয়া তুরস্ক দীর্ঘ ২৪ বছর পর আবার বিশ্বকাপে জায়গা করে নিয়েছে।
৩. আরব ফুটবলের জয়জয়কার
এবারের বিশ্বকাপে এক অনন্য রেকর্ড গড়েছে আরব অঞ্চলের দেশগুলো। আল আরাবিয়া ও ফিফার তথ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা (MENA) অঞ্চল থেকে রেকর্ড ৮টি আরব দেশ (মরক্কো, কাতার, সৌদি আরব, মিশর, তিউনিসিয়া, ইরাক, আলজেরিয়া এবং জর্ডান) একসাথে চূড়ান্ত পর্বে খেলছে, যা ফুটবল ইতিহাসে প্রথম।
স্পটলাইটে থাকবেন যেসব মুসলিম তারকা
১,২৪৮ জন ফুটবলারের এই বিশাল আসরে বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ভক্তের চোখ থাকবে বেশ কয়েকজন বিশ্বখ্যাত মুসলিম ফুটবলারের ওপর –
- মোহাম্মদ সালাহ (মিশর): লিভারপুল কিংবদন্তি ও মিশরীয় অধিনায়ক মোহাম্মদ সালাহ গত কাতার বিশ্বকাপে খেলতে পারেননি। ২০২৬ বিশ্বকাপটি সম্ভবত এই মহাতারকার ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ, যেখানে তিনি নিজের দেশকে বিশ্বকাপে প্রথম কোনো ম্যাচ জেতাতে মরিয়া।
- সালেম আল-দাওসারী (সৌদি আরব): ২০২২ বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে দেওয়া সেই ঐতিহাসিক গোলের নায়ক এবং সৌদি আরবের অধিনায়ক এবারও বড় কোনো চমক দেখানোর লক্ষ্যে মাঠে নামছেন।
- আশরাফ হাকিমি (মরক্কো): কাতার বিশ্বকাপে মরক্কোকে সেমিফাইনালে নিয়ে যাওয়ার অন্যতম প্রধান কারিগর, পিএসজির এই রাইট-ব্যাক এবারও আফ্রিকান ও মুসলিম পরাশক্তি হিসেবে মরক্কোকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
এই ১৪টি মুসলিম দেশের বাইরেও ফ্রান্স, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, বেলজিয়াম এবং ইংল্যান্ডের মতো পরাশক্তি দলগুলোতেও বেশ কয়েকজন মুসলিম তারকা খেলোয়াড় (যেমন উসমান দেম্বেলে, আন্তোনিও রুডিগার) নিজ নিজ দলের হয়ে মাঠ মাতাচ্ছেন।
নতুন ফরম্যাটের এই ১০৪ ম্যাচের দীর্ঘ টুর্নামেন্টে গ্রুপ পর্বের শুরুতেই বেশ কিছু রোমাঞ্চকর লড়াই অপেক্ষা করছে। যেমন ১৪ জুন মাঠে নামছে ব্রাজিল বনাম মরক্কো এবং ১৬ জুন মুখোমুখি হচ্ছে বেলজিয়াম বনাম মিশর। কোটি কোটি মুসলিম ফুটবল ভক্তের প্রত্যাশা – কাতারে মরক্কো যে রূপকথার জন্ম দিয়েছিল, উত্তর আমেরিকার এই মাটিতে এবার অন্য কোনো মুসলিম দেশ সেই সাফল্যের নতুন ইতিহাস লিখবে।
