ফুটবল বিশ্ব এই মুহূর্তে প্রত্যক্ষ করছে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় এবং জমকালো আন্তর্জাতিক ফুটবল টুর্নামেন্ট ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ এর ডামাডোল। মেক্সিকো, কানাডা এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ আয়োজনে বসা ফুটবলের এই বিশ্বমঞ্চটি পূর্বের সব রেকর্ড ভেঙে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে। প্রথমবারের মতো ৩২ দল থেকে বাড়িয়ে রেকর্ড ৪৮টি দেশ নিয়ে আয়োজিত হচ্ছে এবারের ফুটবল মহোৎসব।
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ চূড়ান্ত স্কোয়াড অনুযায়ী, এবারের আসরে বিশ্বসেরার মুকুটের লড়াইয়ে অংশ নিচ্ছেন মোট ১,২৪৮ জন ফুটবলার। ফুটবলারদের বৈচিত্র্য, নতুন ফরম্যাট এবং ম্যাচের সংখ্যার দিক থেকে এই বিশ্বকাপটি ফুটবল ইতিহাসের একটি ঐতিহাসিক জলছাপ হয়ে থাকবে।
এক নজরে ২০২৬ বিশ্বকাপের মূল পরিসংখ্যান
এবারের আসরটি যে কতটা বিশাল, তা কেবল নিচের পরিসংখ্যানগুলো দেখলেই স্পষ্ট হয়ে যায়:
২৬ জনের স্কোয়াড: শক্তি ও গভীরতার নতুন সমীকরণ
ফিফার নতুন নিয়ম অনুযায়ী, অংশগ্রহণকারী ৪৮টি দেশের প্রতিটি দল তাদের চূড়ান্ত স্কোয়াডে সর্বোচ্চ ২৬ জন করে খেলোয়াড় অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ পেয়েছে। স্কোয়াডের এই বিস্তৃতি কোচদের জন্য কৌশলগত বড় সুবিধা এনে দিয়েছে। দীর্ঘ এবং তীব্র প্রতিযোগিতাপূর্ণ এই টুর্নামেন্টে খেলোয়াড়দের চোট বা ক্লান্তি সামাল দিতে এই ২৬ জনের গভীর স্কোয়াড প্রতিটি দলের জন্যই দারুণ কার্যকরী ভূমিকা রাখছে।
ফিফার তথ্য অনুযায়ী, এই ১,২৪৮ জন ফুটবলারের মধ্যে ৮৯১ জন খেলোয়াড় এবারই প্রথম বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে খেলার স্বাদ পাচ্ছেন। বাকি ৩৫৭ জন খেলোয়াড় এর আগেও অন্তত একবার বিশ্বকাপে নিজ দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়া কাতার বিশ্বকাপের বিশ্বজয়ী স্কোয়াডের ২২ জন তারকা ফুটবলার এবারও মাঠ মাতাচ্ছেন।
নতুন ফরম্যাট: গ্রুপ পর্ব থেকে নকআউটের রোমাঞ্চ
দল সংখ্যা বৃদ্ধির কারণে টুর্নামেন্টের ফরম্যাটেও এসেছে বড় পরিবর্তন।

- গ্রুপ পর্বের বিন্যাস: ৪৮টি দলকে মোট ১২টি গ্রুপে ভাগ করা হয়েছে, যেখানে প্রতি গ্রুপে রয়েছে ৪টি করে দল।
- রাউন্ড অব ৩২ (Round of 32): অতীতের মতো কেবল শীর্ষ দুই দল নয়, এবার ১২টি গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন ও রানার্স-আপ দলের পাশাপাশি সেরা ৮টি ‘তৃতীয় স্থান’ অধিকারী দলও নকআউট পর্বে পা রাখছে। ফলে তৈরি হয়েছে ফুটবল ইতিহাসের প্রথম ‘রাউন্ড অব ৩২’ পর্ব।
- শিরোপার পথ: নতুন এই সমীকরণে কোনো দলকে ট্রফি উঁচিয়ে ধরতে হলে গ্রুপ পর্ব থেকে ফাইনাল পর্যন্ত মোট ৮টি ম্যাচ খেলতে হবে, যা আগের আসর গুলোর তুলনায় ১টি বেশি।
তারুণ্য ও অভিজ্ঞতার মেলবন্ধন: অনন্য কিছু রেকর্ড
১,২৪৮ জন ফুটবলারের এই বিশাল কাফেলায় যেমন আছেন অভিজ্ঞতার পাহাড় নিয়ে বসা কিংবদন্তিরা, তেমনই আছেন আগামীর বিশ্ব কাঁপাতে প্রস্তুত হওয়া তরুণ তুর্কিরা।
- ষষ্ঠ বিশ্বকাপের মহাকাব্য: ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা দুই মহাতারকা লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো এবং মেক্সিকোর গোলরক্ষক গুইলেরমো ওচোয়া এই আসরের মাধ্যমে তাদের ক্যারিয়ারের রেকর্ড ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলার অনন্য এক কীর্তি গড়লেন।
- বয়সের ব্যবধান: এবারের বিশ্বকাপের সবচেয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ খেলোয়াড় স্কটল্যান্ডের ৪৩ বছর বয়সী গোলরক্ষক ক্রেগ গর্ডন। অন্যদিকে, সবচেয়ে তরুণ খেলোয়াড় হিসেবে খেলছেন মেক্সিকোর মাত্র ১৭ বছর বয়সী বিস্ময়বালক গিলবার্তো মোরা।
- অভিষেক রোমাঞ্চ: নরওয়ের গোলমেশিন আর্লিং হালান্ড এবং স্পেনের তরুণ সেনসেশন লামিন ইয়ামালদের মতো বিশ্বখ্যাত তারকারা এই আসরের মাধ্যমেই নিজেদের বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারের প্রথম অধ্যায় শুরু করলেন।
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর ভাষায়:
“এটি বৈশ্বিক ফুটবলের জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। এই বিশ্বকাপ বিশ্বজুড়ে ফুটবলের মানচিত্রকে আরও প্রসারিত করল এবং কোটি কোটি ভক্তের স্বপ্নকে এক সুতোয় গেঁথে দিল।
উত্তর আমেরিকার তিনটি দেশের ১৬টি দৃষ্টিনন্দন স্টেডিয়ামে চলমান এই ১০৪ ম্যাচের মহাযজ্ঞ কেবল ১,২৪৮ জন ফুটবলারের লড়াই নয়; এটি আসলে বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর আবেগ ও উন্মাদনার এক মহা-উত্সব। আগামী ১৯ জুলাই নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ফাইনালের মধ্য দিয়ে পর্দা নামবে ইতিহাসের বৃহত্তম এই ফুটবল মহোৎসবের।
স্কোর কার্ড
বিশ্বকাপ ২০২৩





















