বিশ্বকাপ শেষ হতেই একের পর এক বিপদ ধেয়ে আসছে আর্জেন্টিনার দিকে। শিরোপা তো ধরে রাখতে পারেনি দলটি, পাশাপাশি গোল্ডেন বল ও গোল্ডেন বুট হাতছাড়া হয়েছে। এবার আর্জেন্টিনার বিপক্ষে তদন্তে নামছে ফিফা। ফাইনাল ম্যাচ শেষে স্পেনের খেলোয়াড়দের সঙ্গে হাতাহাতি, মারপিট করেছিলেন কয়েকজন খেলোয়াড়। সেই ঘটনা নিয়ে তদন্ত শুরু করবে ফিফা। এছাড়া ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ের পর ফকল্যান্ড নিয়ে যে ব্যানার দেখানো হয়েছিল তা নিয়ে তদন্ত হবে।
স্কাই নিউজ জানিয়েছে, হারের পর আর্জেন্টিনার আচরণ ফিফার আতশকাচের নিচে এসেছে। লিওনেল মেসির দলের খেলোয়াড়দের এমন কাণ্ড একেবারেই বরদাস্ত করতে রাজি নয় ফিফা। জানা গিয়েছে, কোনরকম প্ররোচনা ছাড়াই আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়রা এমন কাজ করেছে।
বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে ইংল্যান্ডের সাবেক তারকা অ্যালান শিয়েরার বলেছেন, কোনো রকম প্ররোচনা ছাড়াই লিয়ান্দ্রো পারেদেস বিপক্ষে খেলোয়াড়দের আক্রমণ করছিল। ফুটবলে এ সব আচরণের কোনো জায়গা নেই। আমি জানি হারতে খুব খারাপ লাগে। কিন্তু হার মেনে নেওয়ারও একটা ধরণ রয়েছে। আর্জেন্টিনার এমন আচরণ আগেও অনেকবার দেখেছি। শেষ বাঁশি বাজার পর তারা যে আচরণ করেছে তা ভয়ঙ্কর।’
শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে ঝামেলা শুরু
রবিবার বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনাল ম্যাচে শেষ বাঁশি বাজানোর সঙ্গে সঙ্গে ঝামেলা শুরু হয়। স্পেনের কয়েকজন ফুটবলার আনন্দে উৎসব করতে শুরু করেন। আর্জেন্টিার কয়েকজন হতাশ হয়ে শুয়ে পড়নে। অন্যদিকে মাঠের মাঝখানে দুই দলের খেলোয়াড়দের মাঝে ঝামেলা শুরু হয়। প্রথমে একে অপরের প্রতি গালিগালাজ ছিল। এরপর খেলোয়াড়রা হাতাহাতি ও ধাক্কাধাক্কিতে জড়িয়ে পড়েন। কোচ স্ক্যালোনিকে দেখা যায় স্পেনের এরিক গার্সিয়ার দিকে তেড়ে যেতে।

ঝামেলার কেন্দ্রে পারেদেস
ঝামেলার কেন্দ্রে ছিলেন আর্জেন্টিনার লিয়ান্দ্রো পারেদেস। মাঠের নামার পর থেকেই তিনি শারীরিক ফুটবল খেলছিলেন। পাঁচ মিনিটের মধ্যে হলুদ কার্ডও দেখেছিলেন। ম্যাচের তিনি সবার আগে গার্সিয়ার সঙ্গে ঝামেলা করেন। গার্সিয়ার ঘাড় চেপে ধরেন। এরপর গাভির সঙ্গে ঝামেলায় জড়ান। গাভিকে ঠেলে দিয়ে মাঠে ফেলে দেন।
ঘটনা দেখে দুইদলের সাপোর্ট স্টাফরা দৌড়ে আসেন। তারা ঝামেলা মেটানোর চেষ্টা করতে থাকেন। স্ক্যালোনি এসে নিজেদের খেলোয়াড়দের সরিয়ে নিয়ে যান। তার আগে গার্সিয়ার সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় তার স্ক্যালোনির। তাকে মেজাজ হারাতেও দেখা যায়। ঠান্ডা মেজাজের মানুষ হিসেবে পরিচিত স্ক্যালোেকে অতীতে এমন রূপে কখনো দেখা যায়নি।


