২০২৬ বিশ্বকাপের শিরোপা ধরে রাখতে পারেনি আর্জেন্টিনা। তবে টুর্নামেন্ট শেষ হওয়ার পর সামনে এসেছে লিওনেল মেসির আরেকটি মানবিক উদ্যোগ, যা নতুন করে প্রশংসা কুড়াচ্ছে ফুটবল বিশ্বের। কেপ ভার্দের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ভোজিনিয়ার পরিবারের চার সদস্যকে নিজের খরচে বিশ্বকাপের ফাইনাল দেখার সুযোগ করে দিয়েছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।
আর্জেন্টাইন সাংবাদিক ইয়ানিনা লাতোরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই উদ্যোগ শুধু ভোজিনিয়ার পরিবারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। পুরো বিশ্বকাপজুড়েই আর্থিকভাবে অসচ্ছল অনেক ফুটবলপ্রেমীর জন্য টিকিটের ব্যবস্থা করেছিলেন মেসি। নিজের অর্থে বিপুল সংখ্যক টিকিট সংগ্রহ করে প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন মানুষের হাতে পৌঁছে দেন তিনি। সেই তালিকায় জায়গা পেয়েছিল ভোজিনিয়ার পরিবারও।
ফাইনালের আগে মেসির প্রতিনিধিরা ভোজিনিয়ার চার স্বজনের হাতে টিকিট তুলে দেন। ফলে নিউইয়র্ক-নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বসে স্পেন ও আর্জেন্টিনার শিরোপা নির্ধারণী লড়াই উপভোগ করার সুযোগ পান তারা।
লাতোরের ভাষ্য, যাদের পক্ষে বিশ্বকাপের মতো আসরের টিকিট কেনা সম্ভব নয়, তাদেরও এই অভিজ্ঞতার অংশ করে তুলতে চেয়েছিলেন মেসি। টুর্নামেন্ট চলাকালে অসংখ্য মানুষ তার কাছে টিকিটের অনুরোধ করেছিলেন। নিজের সামর্থ্যের মধ্যে যতটা সম্ভব সবার অনুরোধ রাখার চেষ্টা করেন আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই তারকা।
আর্জেন্টিনা ও কেপ ভার্দের রাউন্ড অব ৩২-এর ম্যাচের পর থেকেই ভোজিনিয়ার সঙ্গে মেসির সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। ওই ম্যাচে একের পর এক দুর্দান্ত সেভ করে আর্জেন্টিনাকে কঠিন পরীক্ষায় ফেলেছিলেন কেপ ভার্দের গোলরক্ষক। ম্যাচ শেষে দুই ফুটবলারের পারস্পরিক সম্মান ও সৌহার্দ্যও ফুটবলপ্রেমীদের নজর কাড়ে।
মজার বিষয় হলো, পুরো বিশ্বকাপ চলাকালে এই উদ্যোগ নিয়ে একবারও প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি মেসি। আর্জেন্টিনার ফাইনাল পরাজয়ের পর সাংবাদিক ইয়ানিনা লাতোরে বিষয়টি সামনে আনেন। শিরোপা হাতছাড়া হলেও, নীরবে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই উদ্যোগে আবারও ভক্তদের হৃদয় জয় করলেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা।


